চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জিয়ার মরণোত্তর বিচার চায় ছাত্রলীগ

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ মদদের অভিযোগ এনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করেছে ছাত্রলীগ।

সোমবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ আয়োজিত সভায় এ দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।

বিজ্ঞাপন

সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের নামে পাকিস্তানের সঙ্গে গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের গাড়িতে লাল-সবুজের পতাকা তুলে দিয়ে ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সঙ্গে বেঈমানি করেছেন।’

‘‘যুদ্ধাপরাধী এবং জাতির পিতার হত্যাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর বিচারের আওতায় আনতে হবে। এটা এখন সময়ের সর্বস্তরের মানুষের দাবিতে পরিণত হয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘আগস্ট হত্যার পরিকল্পনাকারীদের পরামর্শে খুনি মোশতাক কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে জাতির পিতার হত্যার বিচার বন্ধ করে রেখেছিল। পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশসহ সব অবৈধ ও অসাংবিধানিক বিষয়কে বৈধতা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের পথ রুদ্ধ করে রেখেছিল।’

বিজ্ঞাপন

‘‘এরপর প্রায় দুই যুগ ধরে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার বন্ধ ছিল। এছাড়া খুনি মাজেদের কথাতেও পরিষ্কার যে জিয়া এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। ফলে তার মরণোত্তর বিচার করতে হবে।’’

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘১৯৭৫ সালে নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে শেষ করতে চেয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধীরা। কিন্তু তারা জানত না যে বঙ্গবন্ধু শুধু ওই ৬ ফুট দেহের মধ্যেই ছিলেন না, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতিটি ইঞ্চি, বাংলার প্রতিটি মানুষের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু বিদ্যমান। ফলে তাকে হত্যা করেই তাকে শেষ করে সব শেষ করা যায়নি।’

‘‘আমরা জানি বঙ্গবন্ধুর খুনি রশিদ, ফারুক, হুদা, ডালিম, নূর, শাহরিয়ার, মাজেদ এরা সবাই সেনাবাহিনীর সদস্য ছিল। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করতে কে তাদের মদদ দিয়েছিলো? উৎসাহিত করেছিলো? সম্প্রতি খুনি মাজেদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে কি ভাবে জড়িত ছিলেন। জিয়াউর রহমান কি ভাবে তাদেরকে মদদ দিয়েছেন, কি ভাবে তাদেরকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং সহযোগিতা করেছিলেন তাও বলেছেন। এতে প্রমাণিত হয় জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ মদদের বিষয়।’’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু জিয়াউর রহমান সেই বিচারের আওতায় আসেননি। এত বড় নৃশংস কাণ্ডে যিনি জড়িত তার মরণোত্তর বিচার হওয়া প্রয়োজন।’

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ কেন্দ্রীয়, ডাকসুর হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল ইউনিট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।