চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জাপানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যারা

জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায় আট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করার পর হঠাৎ করে শিনজো অ্যাবের পদত্যাগের পর ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। এরপরেই দেশটির পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে এলডিপি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়ায় খুব স্বাভাবিকভাবেই দলীয় সভাপতিই পার্লামেন্টের ভোটে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী না পাওয়া পর্যন্ত অ্যাবের মন্ত্রিসভা-ই সরকার পরিচালনা করতে পারবে। কিন্তু তারা কোনো নীতি নির্ধারণ করতে পারবে না। নতুন প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ অ্যাবের মেয়াদ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবে। তারপর আবার নতুন করে জাতীয় নির্বাচন হবে। জাপানে সাধারণত কোনো দলকে অন্তত এক মাস আগে নতুন নেতা নির্বাচনের ঘোষণা দিতে হয়। পার্লামেন্টে দলের সদস্যরা ছাড়াও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা দলীয় সভাপতি নির্বাচনে ভোট দেন।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু হঠাৎ পদত্যাগের ক্ষেত্রে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ ভোটের একটি তারিখ ঘোষণা করা যায়। কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে এলডিপি এখনো তার ঘোষণা দেয়নি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন সভাপতি নির্বাচনের ভোট হতে পারে।

সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যারা:

ক্ষমতাসীন দল এলডিপিতে জনপ্রিয় সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিগেরু ইশিবা সভাপতির দৌড়ে এগিয়ে আছেন। দলে বা দলীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের কাছে ইশবা ততটা পছন্দের নেতা না হলেও অন্যান্য  দলের পার্লামেন্ট সদস্যরা ইশিবাকে পছন্দ করায় সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রীর জরিপে তিনি সব সময়ই এগিয়ে থাকেন।

৬৩ বছরে ফুমিও কিশিদা ২০১২-২০১৭ মেয়াদে অ্যাবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। যদিও কূটনৈতিক নানা বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ অ্যাবে নিজের হাতেই রাখতেন। হিরোশিমা থেকে আসা কিশিদাকে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে পছন্দ করেন অ্যাবে। কিন্তু ভোটের জরিপে কিশিদার অবস্থান বেশ পেছনে।

তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা ৭১ বছরের যোশিহিদে সুগা অ্যাবের প্রথম মেয়াদে (২০০৬-০৭) তার অনুগত লেফটেন্যান্ট ছিলেন। অ্যাবেকে ২০১২ সালে পুনরায় সভাপতি হওয়ার দৌড়ে নামার অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন সুগ।

বিজ্ঞাপন

যদিও এখনো সুগা নতুন দলীয় প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নামবেন না বলছেন। কিন্তু নিজের প্রচার ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহে তিনি অন্তত চারটি বড় গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।

৫৬ বছরের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারো কোনোর খামখেয়ালী হিসেবে বদনাম আছে। কিন্তু তিনি আবের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলো সমর্থন করেছেন। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করা তারো কোনো ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারদর্শী। তিনি এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রশাসনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

৬৪ বছরের তোশিমিটসু মোটেগি অ্যাবের বিদেশমন্ত্রী তিনিও এগিয়ে আছেন।

শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেলে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের পদত্যাগের পরই ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা বলা হয়।

অ্যাবের স্বাস্থ্যের অবনতি যাতে সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে সেজন্য তিনি পদত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ পূর্ণ করতে না পারায় জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করেছেন তিনি।

রাজনীতিবিদ সুগাকে ২০১২ সালে অ্যাবে প্রধান মুখ্য মন্ত্রী পরিষদ সচিবের দায়িত্ব দেন। সরকারের মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

৬৫ বছর বয়সী অ্যাবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায় আট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করলেন। এর মধ্য দিয়ে এই নেতা জাপানের সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড গড়েছেন। উত্তরসুরী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ঠিক আরও কতদিন তাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অ্যাবের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। তবে সম্প্রতি তার জনপ্রিয়তায় ধস নামে। সর্বশেষ এক জনমত জরিপে অ্যাবের জনপ্রিয়তা ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।