চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জানুয়ারি মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি

ডিসেম্বর মাসে ঋণাত্বক ধারায় নেমে গেলও জানুয়ারি মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি। বিভিন্নভাবে কড়াকড়ি আরোপের পর থেকে ক্রমেই কমে আসছিল বিক্রির পরিমাণ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বিক্রির পরিমাণ ছিল ঋণাত্বক; ৪০৮ কোটি ৪৪ টাকা। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নিট বিক্রির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪০ কোটি টাকায়।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা, যা পুরো অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি টিআইএন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করা, মুনাফায় উৎসে কর বৃদ্ধি এবং অপ্রদর্শিত অর্থে ক্রয় প্রতিরোধ করাসহ বিভিন্ন কড়াকড়ি আরোপে সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে মানুষ। ফলে প্রতি মাসেই বিক্রি কমেছিল। কিন্তু আমানতের সুদ হার কমে যাওযায় মানুষ আবার সঞ্চয়পত্রমুখী হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে যে পরিমাণ অর্থ নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছিল, তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ঋণ নিয়েছিল। অস্বাভাবিক বিক্রি বাড়তে থাকায় সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা ঠিক করা হয়। কিন্তু অর্থবছর শেষে নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিক্রি হয় ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। এরপর এর লাগাম টানতে বিভিন্ন বিধি নিষেধ আরোপ করা শুরু হয়।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরুৎসাহী করতে ২০১৫ সালের মে মাসে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদহার গড়ে ২ শতাংশ করে কমানো হয়েছিল। বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ, ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, ৩ মাস অন্তর মুনাফা-ভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হয়।

বর্তমানে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। ১ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের সব লেনদেন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। দুর্নীতি কিংবা অপ্রদর্শিত আয়ে সঞ্চয়পত্র কেনা বন্ধ করতে ক্রেতার তথ্য একটি ডাটাবেইসে সংরক্ষণের লক্ষ্যে অভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিক্রি কার্যক্রমশুরু করেছে। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রে বড় বিনিয়োগে কঠোর হয়েছে সরকার। চাইলেই ভবিষ্যৎ তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থে সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ নেই। এখন প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে কর কমিশনারের প্রত্যয়ন লাগে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক ফার্মের নামে সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগছে উপকর কমিশনারের প্রত্যয়ন।

এমন কড়াকড়ির কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন