মতামত

জাতীয় পার্টির উচিত শুধুই বিরোধী দল হওয়া

জাতীয় পার্টির উচিত শুধুই বিরোধী দল হওয়া

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জাতীয় পার্টির উচিত হবে চোখ বন্ধ করে সরকারে থাকার লোভ-লালসা সাইডে রেখে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা থাকা। তাহলে অন্তত আগামী দিনে দ্বাদশ নির্বাচনে রাজনৈতিক বাজারে নিজেদের উচ্চ মূল্যেই করতে পারবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ২০১৪ সালে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে যেই সুযোগ করে দিয়েছিলেন, অর্থাৎ প্রধান বিরোধী দল হওয়ার সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাতীয় পার্টি যদি মহাজোট সরকারে মন্ত্রী থাকার লোভ বাদ দিয়ে শুধু বিরোধী দলের ভূমিকা নিতো, তাহলে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির সাথে টক্কর দেওয়ার মাঠে জাতীয় পার্টি পাবলিক পারসেপশনে অনেক এগিয়ে থাকতো। তাদের বক্তব্য বিবৃতির গ্রহণযোগ্যতা থাকতো।

আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে সিদ্ধান্তে অটুট থাকা। রাজনৈতিক কমিটমেন্ট স্থিতি থাকা। যদিও জাতীয় পার্টির মধ্যে এর লেশ মাত্র নেই বললেই চলে। আমার ব্যক্তিগত মতে, জাতীয় পার্টি হলো একটি রাজনৈতিক মাছের ভাগা যার উপর ভিত্তি করে জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই পার্টির চেয়ারম্যান নিজে দাঁড়িয়ে থাকে এই ভাগা বিক্রি বিক্রি করতে।

আমাদের গ্রামের বাড়িতে ছোটবেলায় দেখতাম বিলের মধ্যে থাকা খাদ বা ডাঙ্গা থেকে মাছ ধরানোর জন্য একটা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতো। যেহেতু খাদ বা ডাঙ্গা আমাদের সেহেতু মাছ যা হবে তা অর্ধেক বণ্টন হবে তবে বণ্টন হওয়ার আগে বড় দেখে ৫টা শোল মাছ বাদ থাকবে, এক ডজন কই মাছ বাদ থাকবে, ১০টা মাগুর মাছ বাদ রেখে তারপরে অর্ধেক বণ্টন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ এটাই…। নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই তার জাতীয় পার্টিকে সে কোনো না কোনো ঘাটে বেচতে চায়, আসন প্রতি নগদ টাকা, এতগুলো আসন, ক্ষমতায় গেলে এতগুলো মন্ত্রী আরো নানান চুক্তিতে।

মহাজোট
ফাইল ফটো

এই যদি হয় একটা রাজনৈতিক দলের নীতি ও আদর্শ তাহলে আমার মত বোকা নাগরিকের প্রশ্ন থেকেই যায় যে, তাহলে জাতীয় পার্টি আসলেই কী এবং এর প্রয়োজন কেন? দেশের লাভ কী, জনগণের লাভ কী?

২০১৮ সালের নির্বাচনেও নিশ্চয় এন্টি আওয়ামী লীগ থেকে এমন কোন প্রস্তাব পেয়েছিল জাতীয় পার্টির প্রধান এরশাদ, না হলে নির্বাচনের আগে পার্টির চেয়ারম্যানকে এমন দৌড়ের উপরে থাকতো না।

এখন জাতীয় পার্টি মহাজোটের নেতৃবৃন্দের কাছে কী কী চেয়েছিল বা না চেয়েছিল সেই প্রশ্নে যাচ্ছি না। তবে ২০১৪ সালের সেই সুযোগ অর্থাৎ ২০১৯ সালে জাতীয় পার্টি সরকারে নয় নীতির জায়গায় শক্ত হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়াবে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে, এটা আশা করি। বিএনপির জায়গা দখলে নিবে সারাদেশে প্রাথমিক অবস্থায় যেসব জেলায় জাতীয় পার্টি আছে সেসব জেলায় নতুন করে কাউন্সিল করে দলকে ঢেলে সাজাবে। যেসব জেলায় জাতীয় পার্টি নেই সেসব জেলায় জাতীয় পার্টি সংগঠিত করবে। জাতীয় বা স্থানীয় (সাংসদদের) আলোচনাযোগ্য সমস্যা সমস্যা সংসদে উত্থাপন করবে। সরকারের সাথে তর্কে জড়াবে। ওয়াকআউট করা লাগলে ওয়াকআউট করবে। মোটকথা প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা বলতে যা বুঝায় নতুন বছরে তার পুরোটাই পালন করবে জাতীয় পার্টি।

শেষ কথা হলো- দ্বাদশ নির্বাচনে যেন টালবাহানায় পরিপূর্ণ রাজনৈতিক ট্র্যাক থেকে ঝরে পড়া বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলের আদর্শ বিচ্যুত কর্মীদেরকে দীক্ষিত করে জাতীয় পার্টি সারাদেশে এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করতে পারে এটাই হলো প্রত্যাশা।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিষয়:আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…