চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জাতীয় তথ্য ভান্ডার সুরক্ষায় প্রকল্প অনুমোদন

সাইবার আক্রমণ থেকে জাতীয় ডাটা সেন্টারে রক্ষিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডারকে রক্ষা করতে ‘বিজিডি ই-জিওভি সিআইআরটির সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পসহ ১২ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।

বাসস জানায়, অনুমোদিত এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ৩ হাজার ৪৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ৩ হাজার ১৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং বাকি ৩০৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে প্রকল্প সাহায্য পাওয়া যাবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জাতীয় ডাটা সেন্টারে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। প্রতিদিন তথ্যের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো রয়েছে। এগুলোকে সাইবার আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়া জরুরি কাজ। এজন্য আমরা বিজিডি ই-জিওভি সিআইআরটির সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পটি অনুমোদন করেছি।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৪৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন সন্তোষজনক উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রথম মাস জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ, টাকার অংকে যার পরিমাণ ৩ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল দশমিক ৫৭ শতাংশ। ওই সময়ে ব্যয় হয়ে ছিল ১ হাজার ২৭ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে না গিয়ে প্রকল্পের টাকা সরাসরি প্রকল্প পরিচালকের কাছে দেয়ার যে বিধান করা হয়েছিল, তার সুফল আমরা এখন পাচ্ছি। এ কারণে গতবছরের জুলাই মাসের তুলনায় এবছরের জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়ন প্রায় তিনগুন বেশি হয়েছে।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হচ্ছে-জিএনএস করস এর নেটওয়ার্ক পরিধি সম্প্রসারণ এবং টাইডাল স্টেশন আধুনিকীকরণ প্রকল্প, যার খরচ ধরা হয়েছে ১১৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। থানচি-রিমকীর-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫৩ কোটি টাকা। সসুনামগঞ্জ-মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরিগঞ্জ-হবিগঞ্জ মহাসড়কের শাল্লা-জলসুখা সড়কাংশ নির্মাণ প্রকল্প, এর জন্য ব্যয় হবে ৭৬৯ কোটি টাকা। রাঙ্গামটি সড়ক বিভাগের অধীন পাহাড় ভুমি ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন কিলোমিটারে ড্রেনসহ স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক আরসিসি রিটেইনিংওয়াল নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৪৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

এছাড়া খুলনা কর ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। মধুমতি-নবগঙ্গা উপ-প্রকল্প পুনর্বাসন ও নবগঙ্গা নদী পুন:খনন ড্রেজিংয়ে মাধ্যমে পুনরুজ্জীবন পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। মেঘনা নদীর ভাঙ্গন হতে ভোলা জেলার চরফ্যাশন পৌর শহর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৭৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি হতে ধরাভাঙ্গা এমপি বাঁধ পর্যন্ত মেঘনা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭১ কোটি টাকা। ভূউপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নাটোর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জোরদারকরণ প্রকল্পে খরচ হবে ১৬০ কোটি টাকা। উপকূলীয় জনগোষ্ঠির বিশেষত নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

Bellow Post-Green View