চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান মারা গেছেন

জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরআগে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় করোনারি কেয়ার ইউনিট থেকে  ক্রিটিক্যাল কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আনিসুজ্জামানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সর্বশ্রদ্ধেয় মানুষ আনিসুজ্জামান স্যার। তার মৃত্যুতে প্রথমে শোক জ্ঞাপন করছি, তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। তাকে হারানো গোটা জাতীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

তিনি বলেন, বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজ করছে, এতে আমরা চাইলেই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। করোনা পরিস্থিতির কারণে যেহেতু চলাচলের উপর বিধিনিষেধ রয়েছে, তাই সবার আগে তার পরিবারের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত আমরা জানাবো।

গত ২৭ এপ্রিল গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শনিবার অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তরিত করা হয়। হার্টের সমস্যার পাশাপাশি ৮৩ বছরের এই অধ্যাপক কিডনি, ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্রের জটিলতায় ভুগছেন।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষক আনিসুজ্জামান, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট ডক্টরাল ফেলো এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের কমনওয়েলথ অ্যাকাডেমিক স্টাফ ফেলো।

তিনি জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও ইউনিভার্সিটি অব প্যারিস, নর্থ ক্যারালাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ব ভারতীর ভিজিটিং প্রফেসর ছিলেন।

শিক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি। বাংলা শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদ্মভূষণ পেয়েছেন।

ড. আনিসুজ্জামানের জন্ম ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের এই প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি প্রত্যক্ষভাবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে তার গবেষণা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও তিনি একজন প্রফেসর ইমেরিটাস। তার বাবার নাম এ টি এম মোয়াজ্জেম ছিলেন বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক। মা সৈয়দা খাতুন গৃহিনী হলেও লেখালেখির অভ্যাস ছিল। পিতামহ শেখ আবদুর রহিম ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক।

আনিসুজ্জামানরা ছিলেন পাঁচ ভাই বোন। তিন বোনের ছোট আনিসুজ্জামান, তারপর আরেকটি ভাই। বড় বোনও নিয়মিত কবিতা লিখতেন। বলা যায়, শিল্প সাহিত্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যসমৃদ্ধ ছিল তাঁদের পরিবার।