চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জাতিসংঘে শিশুদের মুখপাত্র হওয়ার স্বপ্ন দেখেন আরিফ

স্বপ্নবাজ তরুণ আরিফ রহমান শিবলী। বাবার ব্যবসায় লসের কারণে ছোটবেলাতেই সংসারের টানাপোড়েন প্রত্যক্ষ করেছেন। পরীক্ষার ফি জোগাতেই হিমশিম খেতে হতো। শত কষ্টের মাঝেও স্বপ্ন দেখতেন তিনি। স্বপ্ন ছিল দেখেন নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলবেন যেন অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা করতে পারেন৷

এরপর এগুতে থাকেন নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে। স্কুল জীবনেই কাজ শুরু করেন বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে। এরপর আরও কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলসহ অনেক জনপ্রিয় গণমাধ্যমে কাজ করেছেন এই স্বপ্নবাজ তরুণ৷

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমে কাজের সময় থেকেই আয়ের একটি অংশ দিয়ে ১৭ জন অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। কাজের মধ্য দিয়ে দেশের সুনাম বিশ্বের কাছে ছড়িয়ে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আরিফ। চেষ্টাও করে যাচ্ছেন। জনপ্রিয় রক ব্যান্ড লিংকিন পার্ক নিয়ে আরিফের তৈরি করা বায়োগ্রাফি ব্যান্ডটির সদস্যদের নজরে আসে। তাকে নিয়ে ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন ব্যান্ডটির র‍্যাপ ভোকাল মাইক সিনোডা। যেটা তার পাশাপাশি বাংলাদেশকেও তুলে ধরেছে বিশ্ববাসীর কাছে।

বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ফিলিস্তিনে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিশু কিশোরদের জন্য ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করে পাশে দাঁড়িয়ে তিনি দুঃসময়ের বন্ধু হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমে কাজ করে দেশে বিদেশে সুনাম কুড়িয়ে পেয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস ও আর্টিকেল নাইন্টিন সদস্যপদ।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে করা জাতিসংঘের রিপোর্ট প্রকাশের সম্মেলনে এই তরুণ আরিফ বক্তব্য রাখেন। ২০১৪ সালে পরীক্ষামুলকভাবে চালু করা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের প্রথম শিশু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘কিডস মিডিয়া’ আরিফকে দেশে বিদেশে পরিচিত করে তোলে আরও। শিশুদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আরিফ রহমান শিবলী ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার থেকেও সম্মাননা পেয়েছেন।

‘কিডস’ খ্যাত এই আরিফ স্বপ্ন দেখেন জাতিসংঘের মঞ্চে সারা বিশ্বের নেতাদের কাছে তুলে ধরবেন বাংলাদেশি শিশু কিশোরদের সমস্যা, সম্ভাবনা।

নিজের স্বপ্ন পূরণে ও বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন আরিফ।

তিনি বলেন, ‌আমি হার মানতে শিখিনি। নিজ প্রচেষ্টার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা পেলে বিশ্ব নেতাদের কাছে আমার দেশের শিশু-কিশোরদের আশা, প্রত্যাশা, সফলতা তুলে ধরতে পারবো।