চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘জাতির জনককে হত্যার পর স্মৃতি সৌধের বেদি পরিবর্তন’  

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পুড়িয়েও চালানো হয় ধ্বংসযজ্ঞ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ঘাতকচক্রের দোসরা মুজিব আমলেই নির্মিত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণের নির্দিষ্ট স্থানটি পরিবর্তন করে।

সেই চক্রটি শুধু বেদিই পরিবর্তন করেনি, মুজিব শাসনামলের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্তও আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংসযজ্ঞ করে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এমনকি তারা বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালিয়েও ইতিহাস থেকে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিবের কীর্তি মুছে ফেলতে পারেনি।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে আত্মদায়বদ্ধ সামাজিক সংগঠন ‘প্রজন্মের চেতনা’র মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সর্বজন কর্তৃক জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে (মুজিব হত্যার পর বেদি পরিবর্তন) শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা করাসহ কারা কিভাবে বেদি পরিবর্তন করেছে তার তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ এবং জনযুদ্ধে নিহত ৩ হাজারেরও বেশি শহীদ জনযোদ্ধার সমাধি ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে বেলা ১২টা থেকে ১ ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দু:খজনক হলেও সত্য ১৯৭১ সালে অধিকার হারা বাঙালি মায়ের দামাল ছেলেরা নিজের জীবন তুচ্ছ করে, নিরানব্বই ভাগ মৃত্যু যেনেও তারা এই ভূখণ্ডের স্বাধীনতার জন্যে জনযুদ্ধে অংশ নিয়ে অকাতরে জীবন দিয়ে শহীদ হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন হাজার দুইশতর বেশি শহীদ জনযোদ্ধা কেউ বা যুদ্ধের ময়দানে কেউ বা চিকিৎসারত অবস্থায় শহীদ হন। সেই সময় পরিস্থিতির কারণেই তাদেরকে ভারতের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার সমাধিস্থ করা হয়। ইতিমধ্যেই অযত্নে-অবহেলাসহ সংরক্ষণ আর তদারকির অভাবে ওই শহীদ জনযোদ্ধাদের অনেক সমাধিস্থল কালের স্রোতে হারিয়ে গেছে।

মঈন-ফকরুউদ্দিনের শাসনামলে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন সমাধীগুলো ফিরিয়ে আনার জন্যে, অপ্রিয় হলেও সত্য ওই কমিটির কার্যক্রম আজ অব্দী অন্ধকারেই রয়ে গেছে। অভাগা এদেশে আর ক’দিন পরেই স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হবে, আমরা যে যার অবস্থান থেকে পালন করবো স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। অথচ রক্ত দিয়ে লিখলেন যারা স্বাধীন বাংলাদেশের নাম, তাদের মধ্যে এতো দিনেও এরা পায়নি দেশ মাতৃকার ঘ্রাণ! তাই জাতির ওই বীর সন্তানদের সমাধীগুলো ভারতে থেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।

প্রজন্মের চেতনার কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ গোলাম নবী হোসেন বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি কায়েমী স্বার্থবাদীচক্র কর্তৃক জাতির জনক বিশ্ববন্ধুকে হত্যার পর; ওই চক্রেরই আরেক দোসর সাভারে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদি পরিবর্তনের ফলে ১৯৮৩ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে পনেরো দলের নেতারা একত্রে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা নিয়ে একটি মতবিরোধ তৈরি হয়। ঘটনাটি ঘটেছিল স্মৃতিসৌধের গেটের সামনে। এখন স্মৃতিসৌধের সামনে যে স্থানে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়, শুরু থেকে সেটি চত্বরের অন্যত্র ছিল। যার গায়ে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনকারী হিসাবে ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’-এর নাম লেখা আছে।

তাই শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দরা শেখ মুজিব কর্তৃক স্থাপিত ভিত্তি প্রস্তরের নিচে মূল বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। আর অন্য সব দল স্মৃতিসৌধের সামনের বর্তমান স্থানে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। অথচ মুজিব শাসনামলেই সর্বজন কর্তৃক শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ১৯৭২ সালের ২ থেকে ৬ মার্চ সোভিয়েত ইউনিয়ন সফর করেন। সেখানকার লেনিনগ্রাদ সফরকালে ওই স্মৃতিসৌধ বঙ্গবন্ধুকে বিমোহিত করে। সেটি দেখে তার মনেও বাংলাদেশ শহীদের স্মৃতি চিরস্মরণীয় করে রাখার প্রেরণা জোগায়। দেশে ফেরার পর বঙ্গবন্ধু লেনিনগ্রাদ স্মৃতিসৌধের আদলে বাংলাদেশেরও একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য নকশা তৈরি করতে তৎকালীন প্রধান স্থপতি জনাব আবুল বাশারকে নির্দেশ দেন। স্থপতি বাশার নির্দেশ অনুযায়ী স্মৃতিসৌধের নকশা প্রস্তুত করেন। যার ফলে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, প্রজন্মের চেতনার যুগ্ম আহ্বায়ক এম এম রাশেদ রাব্বি, শাজাহান কবির সুমন, সদস্য মো. মাসুদ আলম, মো. ছালেক-উর-রহমান সুমনসহ অন্যরা।