চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘জহির রায়হানের অন্তর্ধানের পর এটিই সবচেয়ে বড় বিপর্যয়’

চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদকে স্মরণ করতে গিয়ে বলেন, ‘২০১১ সালের ১৩ আগস্ট এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ আরও তিন চলচ্চিত্র কর্মী। জহির রায়হানের অন্তর্ধানের পর চলচ্চিত্র অঙ্গনে এটিই সবচেয়ে বড় অপঘাত, বড় বিপর্যয়।

রোববার প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীরের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর স্মরণে স্মৃতি তর্পণ, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং তারেক মাসুদ স্মারক বক্তৃতা-২০১৭’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বলেন- তারেক মাসুদ স্বপ্ন দেখাতে পেরেছিলেন তরুণদের। আদমসুরত যখন নির্মাণ করেন তখন তার হাতে টাকা-পয়সা নেই, থাকার জায়গা নেই, ঘুম নেই, খাবার নেই। এত অভাব নিয়েও ছবি বানিয়েছেন। টাকার জন্য ছবি আটকে থাকেনি। যা তরুণদের জন্য প্রবল উৎসাহের।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন- মেধা, আগ্রহ ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে তারেক-মুনীর ছিলেন মানিকজোড়।
চলচ্চিত্রে তারেক-মুনীরের আগমনটা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আশা জাগিয়েছিল। তার মৃত্যুতে শুধু আমাদেরই না, বিশ্ব চলচ্চিত্রেরও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে।

এসময় রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘তারেক মাসুদের “রানওয়ে” ছবি নিয়ে দেশের মানুষের কাছে গেলে তাদের মন বদলে যাবে। আজকের সামাজিক বিপর্যয় যে জঙ্গিবাদ তা থেকে তরুণদের মুখ ফেরানো যাবে।’

রাজধানীতে ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে তারেক মাসুদের কর্ম ও জীবনের উপর অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন নির্মাতা সাজেদুল আওয়াল, ঢালী আল মামুন, নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম, লেখক ড. জাকির হোসেন রাজু।

এবারের ‘তারেক মাসুদ স্মারক বক্তৃতা ২০১৭’র বিষয় ‘তারেক মাসুদের চলচ্চিত্র ও তারেক মাসুদ পাঠ এবং পুনঃপাঠ’ উপস্থাপন করেন নির্মাতা প্রসূন রহমান।

এর আগে বিকেল পাঁচটায় তারেক মাসুদের ‘আদমসুরত’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর প্রদর্শিত হয় তারেক মাসুদের জীবনের উপর প্রসূন রহমান নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘ফেরা’। সন্ধ্যায় তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ নিহত চলচ্চিত্রকর্মীদের স্মরণে মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালানোর মধ্য দিয়ে আয়োজন সমাপ্ত হয়।

শেয়ার করুন: