চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জমে উঠেছে মহাকালের বাংলা নাট্যোৎসব

প্রতিষ্ঠার তিন যুগ অতিক্রম করেছে মহাকাল নাট্যসম্প্রদায়। প্রতিষ্ঠার তিন যুগপূর্তি এ স্মৃতিকে স্মরণীয় রাখতে বছরব্যাপী নানা আয়োজনের শেষ প্রয়াস ‘বাংলা নাট্যোৎসব ২০১৯’। ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবটি রাজধানীর নাট্যাঙ্গনে রীতিমত উৎসবের আমেজ তৈরী করেছে। দর্শকের পদভারে প্রতিদিনই জমে উঠছে এই উৎসব।

ভারত ও বাংলাদেশের নাট্যদলের ৩১টি নাটক নিয়ে সোমবার থেকে সরব হয়ে উঠল রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তন ও এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হল, মহিলা সমিতির ড, নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তন এবং দনিয়ার স্টুডিও থিয়েটার হল।

একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে সোমবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দশ দিনব্যাপী এ নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করেন ত্রিপুরার চীফ হুইফ কল্যাণী রায়, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার ও মঞ্চসারথি আতাউর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে. এম. খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিজন গোলাম কুদ্দুছ, বাংলাদেশে ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালক ড. নিপা চৌধুরী ও নাট্যজন কামাল বায়েজীদ। সভাপতিত্ব করেন দলের সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। দলের সভাপতি মীর জাহিদ হাসানের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যদিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উৎসব পরিষদের আহ্বায়ক কবির আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন মীর নাহিদ আহসান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর একাডেমির প্রধান মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় প্রযোজনা ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’, পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাট্যচক্র প্রযোজনা ‘একা এক নারী’ এবং মহিলা সমিতি মঞ্চে ব্যতিক্রম নাট্য গোষ্ঠী প্রযোজনা ‘তক্ষক’।

সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে ২৫ অক্টোবর সকাল ১১টায় ‘আমাদের সংস্কৃতি আমাদের নাটক’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রবন্ধকার আবু সাঈদ তুলু।

উৎসবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী দল হচ্ছে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়, দেশনাটক, প্রাচ্যনাট, থিয়েটার আর্ট ইউনিট, নাট্যচক্র, বুনন থিয়েটার, শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র, আরণ্যক নাট্যদল, থিয়েটার সার্কেল, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা থিয়েটার, ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠী, নাট্যতীর্থ, নাট্যম রেপর্টরী, লোক নাট্যদল (বনানী), সময়, নাগরিক নাট্যাঙ্গন অনসাম্বল, বটতলা, অনুরাগ থিয়েটার, চন্দ্রকলা থিয়েটার, নবনাট, পদাতিক নাট্য সংসদ (টিএসসি), বাংলাদেশের পুতুলনাট্য গবেষণা কেন্দ্র, কথক, নাট্যযোদ্ধা ও বাঙলা নাট্যদল। ভারতের আসাম রাজ্য থেকে ভাবিকাল থিয়েটার, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে এবং আমরা থিয়েটার ও রঘুনাথগঞ্জ থিয়েটার গ্রুপ এবং ত্রিপুরা রাজ্য থেকে শুভম নাট্যচক্র ও লারনার্স থিয়েটার অংশগ্রহণ করবে। দশদিনব্যাপী ‘বাংলা নাট্যোৎসব’ শেষ হবে ৩০ অক্টোবর।

মঞ্চনাটক প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয়। মঞ্চনাটকের অগ্রিম টিকেট কাউন্টারে বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। উৎসব সহযোগিতায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও সবুজছায়া।

শেয়ার করুন: