চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জনপ্রিয় হচ্ছে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে লেনদেন

প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে এর সুবিধা নিচ্ছে মানুষ। ব্যাংকের লাইনে না দাঁড়িয়ে ঘরে বসেই এখন লেনদেন করতে বেশি আগ্রহী গ্রাহকেরা। তাই মোবাইলের মাধ্যমে পারসন টু পারসন বা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে লেনদেন দিন দিন বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে পার্সন টু পার্সন বা পি টু পি লেনদেন হয়েছে ৮ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। কিন্তু এক বছর আগেও এই লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। সেই হিসেবে এই মাধ্যমে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই শেষে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পি-টু-পি লেনদেন বেড়েছে ২ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। আগের মাসেও (জুন) এই লেনদেন ছিল ৮ হাজার ১২২ কোটি টাকা।

পার্সন টু পার্সন পেমেন্টস হলো একটি অনলাইন প্রযুক্তি। যার মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ড থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ইন্টারনেট বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তহবিল স্থানান্তর করতে পারেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একাউন্ট ও লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি সচেতনতাও বেড়েছে মানুষের মধ্যে। মানুষ এখন ব্যাংকের লাইনে না দাঁড়িয়ে ঘরে বসেই লেনদেন করতে চায়।

বিজ্ঞাপন

ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে সেবা নেন এমন একজন গ্রাহক সোহাগ রহমান। ই-ব্যাংকিং সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান: সুপারশপগুলোতে এখন মোবাইলের মাধ্যমেই লেনদেন বেশি হয়। বিকাশ ও রকেটসহ অন্যান্য ব্যাংক এখন ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ক্যাশব্যাক অফার দেয়। এতে কেনাকাটার পাশাপাশি সাশ্রয়ও হয় কিছু টাকা। এসব লেনদেন ব্যক্তিগত হিসাবের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণও। গত আগস্ট শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক লেনদেন ছাড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ধরনের লেনদেন। তাই দিন দিন এর গ্রাহক সংখ্যা বাড়ছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে মোট ১৬টি ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানে আগস্ট শেষে মোট নিবন্ধিত এমএফএস হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৩৬ লাখ। এ সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৫১ হাজার ১১৫ জনে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, আগস্টে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৫ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। প্রতিদিন গড়ে ৬৫ লাখ ৮৮ হাজার লেনদেন হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে আদান-প্রদান হয়েছে ১ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা।

Bellow Post-Green View