চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জঙ্গিদের সহানুভূতি দেখানোর কোনো সুযোগ নেই

মুক্তমনা লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার বিচার ঘটনার ৬ বছর পর শেষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দেয়া রায়ে আদালত আনসার আল ইসলামের পাঁচ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছে আরেক জঙ্গি।

দেশে-বিদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেওয়া এই হত্যাকাণ্ডের পর করা মামলার রায় দিতে গিয়ে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলেছেন। যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই প্রত্যাশিত। বিশেষ করে স্বাধীনভাবে লেখালেখি ও মতপ্রকাশ করার ক্ষেত্রে এটা বড় এক দৃষ্টান্ত।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তার আরও পর্যবেক্ষণ, অভিজিৎ রায়কে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে মত প্রকাশের স্বাধীনতার পথকে রুদ্ধ করা। স্বাধীন লেখালেখি ও মতপ্রকাশের জন্য তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর এ কারণেই আসামিরা কোনো সহানুভূতি পেতে পারে না বলে। তাদের (আসামিদের) চাওয়া ছিল ভবিষ্যতে কেউ যেন স্বাধীনভাবে লেখালেখি ও মতপ্রকাশ করতে না পারে।

বিজ্ঞাপন

বিচারক এখানেই থেমে না গিয়ে আরও বলেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হলেই কেবল ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। কারণ এতে একদিকে নিহত ব্যক্তির আত্মীয়রা শান্তি পাবেন এবং মুক্তমনা লেখকেরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশে সাহস পাবেন। অন্যদিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করতে একজন ভয় পাবে এবং নিরুৎসাহিতও হবে।

আমরা জানি, বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। সেই অধিকার যাতে কোনো ভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেই নির্দেশনাও দিয়ে রেখেছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিচারক মজিবুর রহমান আজ যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন; তাও মূলত এই সংবিধানের আলোকেই। তবে অনেক সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে নানা প্রক্রিয়ায়, কৌশলে মানুষের সেই অধিকার আমরা বাধাগ্রস্থ হতে দেখেছি। অনেককে আবার সেই সব ‘চাপে’ নিজের মত প্রকাশে পিছিয়ে যেতেও দেখেছি।

‘মুক্তমনা লেখকেরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশে সাহস পাবেন’- আদালতের এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আমরাও একমত প্রকাশ করছি। কেননা রাষ্ট্র-সমাজ-ব্যক্তির সাথে না মিললেও মানুষকে তার মত প্রকাশের সুযোগ দিতেই হবে। কারণ মত-দ্বিমত, যৌক্তিক তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই অনেক সমাধান সূত্র বের হয়ে আসে।

আমরা মনে করি, একজনের স্বাধীন মতের বিরুদ্ধে সহিংসতা কিংবা তার প্রাণহরণ কোনোভাবেই গ্রহণ যোগ্য হতে পারে না। যারা এই কাজে লিপ্ত তাদেরকে (জঙ্গিদের) সহানুভূতি দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।