চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ছোট ভাইকে হত্যায় শিশুর স্বীকারোক্তি, তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব

ছোট ভাইকে হত্যা মামলায় ১২ বছর বয়সী আরেক ভাইয়ের কাছ থেকে ‘জোর করে স্বীকারোক্তি’ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে সারিয়াকান্দি থানায় সাবেক উপপরিদর্শক নয়ন কুমারকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।

আগামী ৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। একই দিন এই মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া পিবিআই এর উপপরিদর্শক মো. মনসুর আলীকে কেসডকেটসহ আদালতে হাজির হতে বলেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জোর করে ১২ বছর বয়সী শিশুর স্বীকারোক্তি নেওয়া বিষয়ে ‘বিয়ারিং দ্য আনবিয়ারেবল’ শিরোনামে গত ১১ জুন দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। সে প্রতিবেদন যুক্ত করে বগুড়ার আদালতে থাকা ওই হত্যা মামলার যথার্থতা পর্যালোচনায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী ২০ জুন হাইকোর্টে আবেদন করেন। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ।

শুনানিতে আইনজীবী শিশির মনির এজাহার ও সুরতহাল রিপোর্টের সঙ্গে অভিযোগপত্রের গরমিলের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে দোষীপত্র দাখিল করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর ১২ বছর বয়সী শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটি আদালতে উপস্থিত হয়ে প্রচণ্ড মারপিটের কথা বলে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখায়। এরপর এই মামলার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেয় বিচারিক আদালত।’

ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়: ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট ৮ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধারের এক দিন পর সারিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন তার বাবা মহিদুল। একই বছরের ২৯ নভেম্বর স্থানীয় থানা-পুলিশ তাঁর বাড়িতে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তার ১২ বছর বয়সী বড় ছেলেকে নিয়ে যায় তারা। পরদিন ৩০ নভেম্বর ছেলেটিকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে শিশুটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আদালত শিশুটির জামিন মঞ্জুর করে পরিবারের সঙ্গে থাকার অনুমতি দেন।