চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নারী নিহতের ঘটনায় আটক ৩

রাজধানী বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনু নামের এক নারীকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে রোববার রাতে তাদের আটক করা হয় বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

আটককৃতরা হলো, জাফর, বাপ্পী ও শাহীন। বাড্ডা এলাকার আশপাশ থেকেই তাদের আটক করা হয়।

রফিকুল ইসলাম বলেন, রেনুকে পেটানোর ঘটনায় মূল আসামি হিসেবে হৃদয় নামে একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

রোববার রাত ৮টায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত তাসলিমা বেগম রেনুকে তার গ্রামের বাড়ি আঙ্গিনায় বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

নিহত রেনু লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড উত্তর সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা। সে একই এলাকার আলাউদ্দিন মাঝি বাড়ির মৃত আব্দুল মান্নানের মেয়ে।

 গত শনিবার সকালে উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে রেনু নামে ওই নারীকে পিটিয়ে আহত করে বিক্ষুব্ধ জনতা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সন্ধ্যায় ঢামেক হাসপাতালে নিহতের মরদেহ শনাক্ত করেন তার ভাগিনা ও বোন রেহানা। তারা জানান, নিহতের নাম তসলিমা বেগম রেনু। তার ১১ বছরের এক ছেলে ও চার বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। আড়াই বছর আগে তসলিম উদ্দিনের সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে ছেলেমেয়েকে নিয়ে মহাখালী ওয়ারলেস এলাকায় একটি বাড়িতে থাকতেন তিনি।

নিহতের ভাগিনা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রেনু কিছুটা মানসিক রোগে ভুগছিলেন। চার বছর বয়সী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য তিনি এক স্কুল থেকে আরেক স্কুলে ঘুরছিলেন। এ কারণেই হয়তো তিনি বাড্ডার ওই স্কুলটিতে যান।’

এ ঘটনায় শনিবার বাড্ডা থানায় অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নাসির উদ্দিন। মামলায় বলা হয়েছে, অতর্কিতভাবে ওই নারীকে স্কুলের অভিভাবক, উৎসুক জনতাসহ অনেকে গণপিটুনি দেয়। এতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি জড়িত।

Bellow Post-Green View