চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ছুটির দিনে পর্দার পেছনে মোশাররফ করিম

যতো বড় সুপারস্টার হোক না কেনো, সারা সপ্তাহ যতো ব্যস্ততার মধ্যেই কাটুক না কোনো, ছুটির দিনটিতে সবাই তার কাছের মানুষ, সন্তান ও পরিবারের সবার সঙ্গে সময় কাটাতে চায়। দিনটি উপভোগ করতে চায়। ব্যাতিক্রম নন ‘টেলিভিশন’ খ্যাত মোশাররফ করিম। কিন্তু খ্যাতির বিড়ম্বনার জন্য এই আনন্দ থেকে অনেকটাই বঞ্চিত বিখ্যাত এই অভিনেতা। শুক্রবার স্ত্রী জুঁই করিম, ছেলে রায়ান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে বিনোদন পার্ক ফ্যান্টাসি কিংডমে বেড়াতে গিয়ে এমনটাই মন্তব্য করলেন বাংলাদেশের লাখো মানুষের মন জয় করে নেওয়া, ছোট ও বড় পর্দার শক্তিশালী অভিনেতা ও তার স্ত্রী।

মোশাররফ করিম বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘোরার ইচ্ছে থাকলেও আমি ঘুরতে পারিনা। কারণ কোথাও গেলেই সেখানে কোলাহল তৈরি হয়ে যায়। আমি আমার মতো করে সময় কাটাতে পারিনা। বিশেষ করে ছুটির দিনে পরিবারের সবার সঙ্গে কোথাও বেড়াতে গিয়ে আনন্দ করার চেষ্টা করি। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ে ভক্তদের জন্য ব্যক্তিগতভাবে সময় কাটাতে পারিনা। বলা যায় আমার খ্যাতিই আমার বিড়ম্বনার কারণ।
ব্যক্তি জীবনে কীভাবে ছুটির দিন কাটান, তারকার হয়ে ওঠার আগের দিনগুলো কেমন ছিলো, ব্যক্তি জীবনে কেমন তিনি তা নিয়ে কিছু কথা বলেছেন ‘৪২০’ এর মোশাররফ করিমের স্ত্রী জুঁই করিম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান থেকে পাশ করা জুঁই করিম বলেন, সবার অনুরোধে দীর্ঘদিন পর আজ ও আমাদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছে। ওর এই খ্যাতির জন্য আমার ছেলে রায়ান অনেক কিছু মিস করে। চাইলেও আমরা অনেক জায়গায় বেড়াতে যেতে পারিনা। শপিং এ না গেলে, তা নিয়ে আমি কোনো অভিযোগ করিনা। কিন্তু আত্মীয়-স্বজনরা যখন পারিবারিকভাবে কোথাও মিলিত হয়, তখন সবাই ওকে অনেক মিস করে। শান্ত, নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে বলে কোলাহলের ভয়ে অনেক বিয়ের অনুষ্ঠানেও যায়না ও।
জুঁই করিম আরো বলেন, দেশের যেখানে যাই সেখানেই দর্শক, ভক্তরা ওকে ঘিরে ফেলে। তাই দেশের বাহিরে ছাড়া ওর সঙ্গে ঘুরতে বের হওয়া যায়না। আমরা অনেক খুশি যে দর্শকরা ওকে অনেক ভালোবাসে। তবে মাঝে মাঝে খারাপ লাগে যে, তারা বুঝতে চায়না মোশারফ করিমের নিজের একটি ব্যক্তিগত জীবন আছে, পরিবারের সবার সঙ্গে সময় কাটানোর অধিকার আছে। ব্যক্তিজীবনে মোশাররফ করিম একদম ভিন্ন রকম বলে জানিয়ে জুঁই করিম জানান, পরিবারের সবার সঙ্গে একাকী সময় কাটানোর জন্য ওর অনেক আগ্রহ ও ইচ্ছা আছে। জনপ্রিয় ও বিখ্যাত তারকা হয়ে ওঠার আগে স্বামী মোশাররফ করিমের সঙ্গে কীভাবে ছুটির দিনগুলো কাটাতেন তা জানতে চাইলে জুঁই করিম বলেন, বিয়ের পর আমরা খুব বেশিদিন রিলেক্সভাবে সময় কাটাতে পারিনি। দেড়-দুই বছরের মধ্যেই ওর খ্যাতি ও ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়। তবে আগে ও সব অনুষ্ঠানে যোগ দিতো। দুই জনে একসঙ্গে নীলক্ষেতে তেহারি খেতে যেতাম। তা অবশ্য এখনো যাই। তবে এখনও যাই অনেক রাতে।
বিয়ের পর রিকশায় চড়ে বৃষ্টিতে ভিজতাম, ফুচকা খেতাম। এখন বৃষ্টির দিনে গাড়িতে করে ঘুরতে বের হলে গাড়িতেই বসে থাকতে হয়। আগের মতো রাস্তায় আর বৃষ্টিতে ভেজা হয়না।
স্বামী তারকা হওয়ার জন্য অনেক কিছুই মিস করেন মা ও ছেলে। সেই বিষয়গুলো কীভাবে মানিয়ে নেন, তা জানতে চাইলে জুঁই করিম বলেন, মানুষের কর্মক্ষেত্র অনেক বড় একটি বিষয়। অভিনয় পেশায় না গিয়ে অন্য কোনো পেশায় গেলে হয়তো আমাদের অনেক বেশি সময় দিতে পারতো। কিন্তু ওর ধ্যান, জ্ঞান, মনে , প্রাণে মিশে আছে অভিনয়। অভিনয় ওর নেশা। ও ব্যবসা করার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু ওকে দিয়ে তা হয়ে ওঠেনি।
‘আমি শুধু শিক্ষিত হওয়ার জন্য পড়াশুনা করেছি। কিন্তু অভিনয়ের বাহিরে কিছু করার কথা আমি চিন্তাই করতে পারিনা। শুধু জীবিকার জন্য আমি অভিনয় করিনা।’ বিয়ের পর স্ত্রীকে এমনটাই বলেছিলেন মোশাররফ করিম।
জুঁই করিম বলেন, অভিনয়ের প্রতি ওর প্রগাঢ় ভালোবাসা দেখে তাই ওকে আমি বাধা দেয়নি। নিজেদের সুখ-আনন্দের জন্য আমি ওকে বাধা দিলে ও হয়তো সারাজীবনের জন্য নিজের প্রতিভাকে দমিয়ে রাখতো। মানসিকভাবে ভেঙ্গে যেতো। তখন হয়তো আমার সঙ্গে মন থেকে অনেক কিছু শেয়ার করতোনা। ওকে অনেক ভালোবাসি বলেই ওর জন্য সব স্যাক্রিফাইজ করি।
স্ত্রী জুঁই করিম ও পরিবারের অন্যান্যদের অনুরোধে ফ্যান্টাসি কিংডমে এসে খুব বেশিক্ষণ নিজের মতো করে সময় কাটাতে পারেননি তিনি। পার্কে উপস্থিত হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ছবি তোলার জন্য ভক্তরা তাকে ঘিরে ফেলে। মনের অনিচ্ছা সত্বেও ভক্তদের সময় দিতে হয় অসাধারণ এই মঞ্চ অভিনেতাকে। কিন্তু তার মন পড়ে ছিলো পরিবারের কাছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে বের হলে ওরা মজা করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত আমি মজা করতে পারিনা। অন্তত একটি দিন, বিশেষ করে ছুটির দিনটিতে নিজের ব্যক্তিগত পৃথিবীর মধ্যে থাকতে চান বলে জানান ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ খ্যাত মোশাররফ করিম। জনপ্রিয় এই তারকা জানান, ছোটবেলার ছুটির দিনগুলো বেশি ভালো কাটতো। ছোট থেকেই অনেক বেশি আড্ডাবাজ ছিলেন তিনি ও বন্ধুদের সঙ্গে অনেক সময় কাটাতেন।
স্ত্রী ও ছেলে ছাড়া মোশাররফ করিমের সঙ্গে ফ্যান্টাসি কিংডম এসেছিলেন তার বড় ভাইয়ের ছেলে-মেয়ে অঞ্জন ও চয়ন, স্ত্রীর বড় বোন, বড় বোনের ছেলে রনি ও তার স্ত্রী শিলা, তাদের ছেলে আব্দুল্লাহ, জুঁই করিমের ভাইয়ের মেয়ে লিমা, ফুপাতো ভাই শুভ।

Bellow Post-Green View