চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজনৈতিক আয়োজনে জনদুর্ভোগ চাই না, ছাত্ররাজনীতিতে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব চাই

দেশের সবচেয়ে পুরাতন, ঐতিহ্যময় ও বর্ণিল ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তাদের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে গত ৪ জানুয়ারি। দিনটি উপলক্ষে সারাদিনব্যাপী নানা আয়োজনের পাশাপাশি ব্যস্ত রাজধানীতে ছিলো বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মতো বিশাল আয়োজন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উৎসবমূখর পরিবেশে ওই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব, পল্টন মোড় এবং জিপিও হয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা উৎসবমুখর হলেও দিনটি নিয়মিত কর্মদিবস হওয়ায় রাজধানীজুড়ে তৈরি হয় অসহনীয় যানজট। শোভাযাত্রার এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), ইব্রাহিম মেমোরিয়াল হাসপাতাল, সচিবালয় ও ব্যস্ত গুলিস্তান এলাকায় ভোগান্তির শিকার হতে হয় রোগীসহ অফিস ও নিয়মিত কাজে যাওয়া জনগণকে। দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা মানুষের ভোগান্তি ও ক্ষোভের চিত্র কিছুটা হলেও উঠে এসেছে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে। যানজট রাজধানীর একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়ালেও বিশেষ কোন দিনে বিশেষ কোন আয়োজনে সেই চিত্র ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ওই ভোগান্তি হয়তো খুব শিগগিরই জনমন থেকে হারিয়ে যাবে, তবে শোভাযাত্রায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া ভাষণ দেশের ঝিমিয়ে পড়া বর্ণহীন ছাত্ররাজনীতির জন্য আশার আলো বয়ে এনেছে। শোভাযাত্রার ভাষণে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শিক্ষামন্ত্রীকে বলব, ক্যাম্পাসে যদি গণতন্ত্র চর্চার একটা সুন্দর চমৎকার পরিবেশ গড়ে তুলতে চান, তাহলে ডাকসুসহ সকল ছাত্র সংসদের নির্বাচন দেয়ার ব্যবস্থা করুন। নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবেন, তারা ভাববেন আমি যদি খারাপ আচরণ করি তাহলে শিক্ষার্থীরা আমাকে ভোট দেবে না। তাই ছাত্র সংসদ নির্বাচন দরকার। আজকে ২৫ বছর ধরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে আছে সকল ছাত্র সংসদ। খোলা থাকলে অন্তত ৫০ জন নেতা তৈরি হতো।” প্রায় ২৬/২৭ বছর ধরে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, আবাসিক হল ও বিভাগগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। কেন হয়নি, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা বা কারণ নেই। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী  সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ছাত্ররাজনীতির আলোকউজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। তবে গত আড়াই দশকে দেশের ছাত্র রাজনীতির চরিত্র ও গুণগতমানে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন হয়েছে। মূলধারার রাজনীতির নেতিবাচক অংশের চালিকা শক্তি হিসেবে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নাম চলে আসছে বিভিন্ন ঘটনা আর কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সুষ্ঠুধারার রাজনৈতিক চর্চা না থাকায় ভবিষ্যত প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না, যা খুবই শঙ্কার বিষয়। দেশের ভবিষ্যত নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর ও মেধাবী ছাত্ররাজনীতির বলয় তৈরির বিকল্প নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচন ও ভোটাধিকার চর্চার জন্য যে অব্যাহত চেষ্টা ও উদ্যোগ নিয়ে আসছেন, তার ধারাবাহিকতায় ছাত্ররাজনীতিতে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যত নেতৃত্ব তৈরিতেও সমান উদ্যোগী হয়ে ভবিষ্যত নেতৃত্ব তৈরিতেও ভূমিকা রাখবেন বলে আমাদের আশাবাদ। সে সঙ্গে রাজধানীতে কোন ধরণের আয়োজনে সংশ্লিষ্ট আয়োজকরা জনগণের ভোগান্তির কথা মাথায় রাখবেন বলেও আমরা আশা করছি।

Bellow Post-Green View