চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ছাত্রদল নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্য ও ছাত্ররাজনীতির বেহাল অবস্থা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী  সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ছাত্ররাজনীতির আলোকউজ্জ্বল ভূমিকা গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করার মতো। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তান সৃষ্টি, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সময়ে দেশের ছাত্র সমাজের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছাত্ররা নিজেরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের পড়ালেখা ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মানবিকতা ও সৃষ্টিশীলতার চর্চা ও দাবি নিয়ে যে কর্মকাণ্ড করবে তাই ছাত্ররাজনীতির মূলমন্ত্র হওয়া উচিত । এর বাইরেও বিভিন্ন সময় তারা স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে কর্মসূচি পালন করতে পারে।  তবে গত চার দশকে দেশের ছাত্র রাজনীতির চরিত্র ও গুণগতমান ব্যাপকভাবে পরিবর্তন হয়েছে। মূলধারার রাজনীতির নেতিবাচক অংশের চালিকা শক্তি হিসেবে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নাম চলে আসছে বিভিন্ন ঘটনা আর কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। সন্ত্রাস, চাঁদা-টেন্ডারবাজি, হল দখল, ভর্তি বাণিজ্য, হত্যা, রগ কাটা, বন্দুকযুদ্ধ, পরীক্ষা বন্ধ করা, শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা, ছাত্রী ধর্ষণসহ বহু অপরাধের সাথে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের নাম চলে আসছে। এক সময়ে মেধাবী ছাত্ররা ছাত্ররাজনীতিতে আসতেন। কিন্তু এখন মেধাবীদের পাশাপাশি অনেক অছাত্র ও ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসী বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনে ঢুকে পড়েছে। রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তৃতায় ছাত্রদলসহ ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে বর্তমানে জড়িতদের অকার্যকারিতা নতুন করে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি  বলেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ ইউনিটের নামে ‘উত্তর উত্তর, দক্ষিণ দক্ষিণ’ স্লোগান দিতে থাকে। তোমরা কী বোঝাতে চাও? উত্তর উত্তর, দক্ষিণ দক্ষিণ, এটা কোনো স্লোগান হলো? তোমরা ছাত্র, তোমরা নতুন নতুন স্লোগান তৈরি করবে। আগের দিনের ছাত্ররা নিজেরাই স্লোগান তৈরি করত, পোস্টার করত। এখনতো তোমাদের পোস্টার করে দিতে হয়, সে পোস্টারগুলো ঠিকমতো লাগে না। তাছাড়া ছাত্রদের সমস্যা, শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থা, সরকারের দমন-পীড়ন ও দুর্নীতি নিয়ে ছাত্রদল কেন স্লোগান দেয় না? তার মানে, তোমরা শুধু স্বার্থটা বোঝো।’ খালেদা জিয়া আরও বলেন, ‘আমি যে ইলেকশন কমিশনের প্রস্তাব দিয়েছি, তোমরা কি পড়েছ সবাই? সবাই পড়ো নাই। তাহলে তোমরা কিসের ছাত্র? কেন ছাত্রদল করবে বা কেন তোমরা যুবদল করবে? বস্তির ছেলেপেলে এনে দল করতে যাবে না। সংখ্যা আমি দেখতে চাই না। আমি দেখতে চাই ভালো, উপযুক্ত ছেলেপেলে আসে কি না।’ ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অযোগ্য বলে বিবেচিত বিবাহিত, অছাত্র, ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসীসহ নানা ফন্দীফিকিরের লোকজন ঢুকে পড়ছে। দেশের ভবিষ্যত নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর ও মেধাবী ছাত্ররাজনীতির বলয় তৈরির বিকল্প নেই। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারসহ বিগত সব সংসদ নির্বাচন ও মন্ত্রী পরিষদে এক সময়ের শীর্ষ ছাত্র নেতাদের সুস্পষ্ট অবস্থান চোখে পড়ার মতো। তবে বর্তমান সময়ে ছাত্র রাজনীতির যে ক্ষয়িষ্ণু অবস্থা, সে ধারা বন্ধ করা খুবই জরুরী এবং তা যেকোনো মূল্য বন্ধ হওয়া উচিত। দেশের নীতি নির্ধারকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ব্যক্তিরা এ বিষয়ে মনোযোগ দেবেন বলে আমরা আশা করছি।

Bellow Post-Green View