চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ছাত্রজীবনেই উদ্যোক্তা মুরসালীন

প্রযুক্তির হাত ধরে মানুষ যেভাবে অনলাইনের উপর নির্ভরশীল হচ্ছে, তাতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। যার ফলে অনেক তরুণই ক্যরিয়ার হিসেবে ডিজিটাল মার্কেটিংকে বেছে নিচ্ছেন। কারণ, এই ক্যারিয়ার একজন মানুষকে একদিকে যেমন প্রযুক্তিপ্রেমী করে তুলছে, অন্যদিকে জীবনকে করে তুলছে স্বাচ্ছন্দময়।

এমনই এক তরুণ মো. মুরসালীন আহমেদ। যিনি ঢাকার শ্যামপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। ২১ বছরের এই তরুণ পড়ালেখার পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিং’ এ কাজ করছেন। করোনাকালীন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেড়েছে তার কাজের পরিধিও। এখান থেকে অর্জিত অর্থে তিনি হাল ধরেছেন সংসারের।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, মুরসালীন আহমেদ যখন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তখনই টুকটাক আয়ও করতেন। প্রথমে শিখে নেন পড়াশোনার পাশাপাশি হাতের স্মার্টফোন দিয়ে অনলাইনে কিভাবে আয় করা যায়। ইউটিউবে সেসব ভিডিও দেখতে দেখতে শিখে নেন গুগল অ্যাডসেন্স কিভাবে করতে হয়। এরপর ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজাইন আর ডিজিটাল মার্কেটিংও শিখে নেন।

২০১৬ সালে জীবনের প্রিয় ব্যক্তি বাবাকে হারিয়ে ছন্দপতন ঘটে এই তরুণের জীবনে। নিজেকে সামলে আবার এগিয়ে যান আর তখন থেকে ফ্রিল্যান্সিং করে চালিয়ে যাচ্ছেন পড়াশোনা। আর ২১ বছর বয়সে পুরো সংসারের হাল ধরেছেন তিনি। মুরসালীনের ‘ওয়ার্ল্ড ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুকের জন্য কন্টেন্ট তৈরি ও বিভিন্ন ধরনের এজেন্সির হয়ে কনটেন্ট প্রজেকশন এবং ডিস্ট্রিবিউশনের মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং করেন। আর এখন তিনি প্রতিমাসে বেশ ভালো টাকা আয় করেন।

শুধু নিজেই অনলাইনে স্বনির্ভর হননি, গত কয়েক বছরে অর্ধশত মানুষকে বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সিং শিখিয়েছেন। স্বপ্ন দেখেন নিজের প্রতিষ্ঠানকে বড় করে বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। এ ছাড়াও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

মোঃ মুরসালীন আহমেদ জানান, সারা বিশ্বেই এখন ডিজিটাল মার্কেটিং অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। দেশের আইসিটি সেক্টরে আশাতীত উন্নয়নের ফলে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

তবে আমাদের চিন্তা ভাবনা পরিবর্তন করা উচিত, কম বয়সী হলে কম জানবে এটা ঠিক না। কম বয়সী হলে নতুন কিছু আবিষ্কারের মেতে ওঠে এই তরুণরা এটি নতুন কথা নয়, ইতিহাস সাক্ষী তরুণরা এই বিশ্ব বাজারে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। তাই সবাইকে আমি তরুণদের পাশে থাকার আহ্বান জানাই। বড়রা সঠিকভাবে সাপোর্ট দিলে তরুণরা অবশ্যই সাফল্য পাবে, এটি তার বিশ্বাস।