চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চয়নিকার চারশো তম নাটক: শোনালেন ‘ভিন্ন অভিজ্ঞতা’র গল্প

প্রথম চলচ্চিত্র ‘বিশ্ব সুন্দরী’ নির্মাণে হাত দিয়ে সঙ্গত কারণেই নাটকে কিছুটা অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন জনপ্রিয় নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। এরইমধ্যে তিনি নির্মাণ করেছেন ৩৯৯ টি নাটক! যে সংখ্যাকে রীতিমত বিস্ময়ের বলছেন অনেকে!

নিজের চারশো তম নাটক নিয়ে ছিলো নানা পরিকল্পনা। এটিতে কাজ করার কথা ছিলো নব্বই দশকের তারকা অভিনেতা মাহফুজ আহমেদের। সে মতো তাকে নাটকের স্ক্রিপ্টও দেয়া হয়েছে। কিন্তু এরইমধ্যে পৃথিবী মুখোমুখি হয় নতুন বাস্তবতার। হানা দেয় করোনাভাইরাস। বাংলাদেশে যার প্রকোপ শুরু হয় মার্চের শুরু থেকে।

বিজ্ঞাপন

তখন থেকেই কার্যত শুটিং বন্ধ। নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীও প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে তার সর্বশেষ নাটকের শুটিং করেছেন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কাজের প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া করোনাকালে নাটকের সংগঠনগুলোও সবাইকে শুটিং করতে অনুৎসাহিত করছে। তারপরও যারা কাজ করবেন, তাদেরকে পুরোপুরি সুরক্ষিত হয়ে কাজ করার পরামর্শ তাদের।

বিজ্ঞাপন

টেলিভিশনগুলোর চাহিদা মেটাতে ইতোমধ্যে কেউ কেউ শুটিংয়ে ফিরেছেন। তাছাড়া আগামি ঈদুল আযহাকে টার্গেট করেও অনেকে কিছুটা রিস্ক নিয়েই কাজ শুরু করেছেন। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী কাজে ফিরেছেন কেবল দুটি কারণে! কী কারণ?

নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর ভাষ্যমতে, গেল সাড়ে তিনমাস আমি কোনো শুটিং করছি না। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে না এলে কাজ করার কথাও না। কিন্তু ১৫ জুন এনটিভি থেকে আমাকে ফোন করে জানানো হলো যে, তাদের আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জন্য একটা নাটক করতে। প্রথমত তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো প্রেস্টিজিয়াস অকেশন, দ্বিতীয়ত এনটিভির অনুষ্ঠান প্রধান মোস্তফা কামাল সৈয়দ। তিনি সম্প্রতি মারা গেছেন। তিনি আমার খুব শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন। আমার কাজের নির্মোহ সমালোচক ও একইসঙ্গে প্রশংসা করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর এই কাজটিকে তাই গুরুত্বের সঙ্গে নিলাম।

তবে এই সময়ে কাজ করা যে কী চ্যালেঞ্জিং, সে কথাও জানালেন নির্মাতা। বললেন, নাটকটির প্রস্তাব গ্রহণের পর আমার যে বিষয়টি সবার আগে মাথায় এলো সেটা লোকেশন। করোনার এই পরিস্থিতিতে কোনো শুটিং হাউসে গিয়ে কাজ করা সম্ভব না। তাই আমাদের নাটকের গল্পও ওইভাবে ভাবতে হল। যেন কোনো আর্টিস্টকে বাসা থেকে বের না হতে হয়। যৌথভাবে ফারিয়া হোসেন ও আমার গল্পে এই নাটক। একটা দারুণ প্রেমের গল্প, যেখানে অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন, জাকিয়া বারি মম, ইরফান সাজ্জাদ। এছাড়া অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, মাসুম বাশার ও মিলি বাশার।

মাসুম বাশার ও মিলি বাশারের বাসায় হচ্ছে নাটকের শুটিং

চয়নিকা জানালেন, আর্টিস্টদের বাসায় গিয়ে তিনি শুটিং করেছেন। এরজন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান আবুল হায়াত, শিরী হায়াত, শিহাব শাহীন ও মিলি বাশারের প্রতি। কারণ তারা এই করুণ সময়ে বিশ্বাস করে নিজেদের বাসায় শুটিং করার অনুমতি দিয়েছেন। গল্পের প্রয়োজনে শুধু আনিসুর রহমান মিলনের শুটিং হয়েছে একটি ফোরস্টার হোটেলে।

ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট এর কাজী রিটনের প্রযোজনায় গত ২০, ২১ ও ২২ জুন শুটিং করেছেন চয়নিকা। জানালেন মাত্র দুই জনকে সঙ্গে নিয়ে পুরো নাটকের শুটিং সম্পন্ন করেছেন তিনি। একজন ক্যামেরা পারসন এবং অন্যজন টেকনিক্যাল পারসন। এছাড়া সেট ডিজাইন থেকে শুরু করে মেকাপম্যান, অ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টরের দায়িত্ব- সব এক হাতে সামলেছেন নির্মাতা নিজেই।

এই অভিজ্ঞতা তার কাছে একেবারে নতুন। জানালেন, এমন অভিজ্ঞতা তো এরআগে হয়নি। সেটে যেখানে ২০ থেকে ২৫ জন হ্যান্ডস দরকার হয়, সেখানে মাত্র তিনজনেই একটা নাটকের শুটিং শেষ করেছি। করোনা আমাকে শিখিয়েছে, কম লোকবল নিয়ে কীভাবে সুন্দর একটি কাজ সম্পন্ন করা যায়! ফলে আমার চরশো তম কাজটি নানা ভাবেই স্মরণীয় হয়ে থাকলো, অন্তত আমার নিজের কাছে।

সামনে কোনো কাজ করছেন কিনা জানতে চাইলে চয়নিকা চৌধুরী বলেন, ঈদুল আযহার জন্য দুটি চ্যানেলে নাটকের কথা রয়েছে। দেখা যাক, সামনে কী পরিস্থিতি হয়।