চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চড়-থাপ্পড়ের এ কোন রাজনৈতিক সংস্কৃতি!

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শনিবার রাতে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের নিজ দলীয় সংসদ সদস্যকে ক্ষুদ্র ঘটনায় চড়-থাপ্পড় মেরেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে! টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের নবনির্বাচিত এমপি হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারীর আমন্ত্রণে তিনি একটি রিসোর্টে রাতের খাবারের জন্য যাত্রা বিরতি করেন। কিন্তু তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নবনির্বাচিত ওই এমপি টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করে যথাসময়ে সেখানে উপস্থিত হতে পারেননি। এতেই ক্ষিপ্ত হন ওবায়দুল কাদের। ক্ষুব্ধ হয়ে সেখান থেকে রাতের খাবার না খেয়েই চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তখন নবনির্বাচিত এমপি’র টুঙ্গিপাড়া থেকে আসার তথ্য জানিয়ে তাকে খাবার গ্রহণের অনুরোধ জানালে তিনি টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. ছানোয়ার হোসেনকে সবার সামনে চড়-থাপ্পড় মারেন! এমপি অবশ্য এরকম খবর পরে অস্বীকার করেছেন। বুঝতে অসুবিধা হয় না যে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদককে তিনি আর চটাতে চান না। তবে, গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওবায়দুল কাদেরের এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে তিনি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার কারণে চালককে কান ধরে উঠ-বস করিয়েছেন এবং গণপরিবহনে উঠে বাসের কন্ডাক্টরকে চড়-থাপ্পড় মেরেছিলেন। আমরা মনে করি, এটা কোনভাবেই একজন মন্ত্রী ও দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদকের কাজ হতে পারে না। এই ঘটনাগুলো সামন্ততান্ত্রিক মনোভাবের প্রকাশ এবং নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়। তাকে আপ্যায়নের দাওয়াত দিয়ে সেখানে জরুরি কারণে উপস্থিত থাকতে না পারাটা কোন অপরাধ নয়। তাছাড়া নবনির্বাচিত এমপি কোথায় আছেন এই প্রশ্নের উত্তর জানানোও আরেক এমপি’র অপরাধের মধ্যে পড়ে না। ক্ষুদ্র এই বিষয় নিয়ে এতবড় ঘটনা ঘটানোকে আমরা তার চরম দাম্ভিকতার বহি:প্রকাশ বলেই মনে করছি। কেউ কোন অপরাধ করে থাকলে তার বিচারের জন্য দেশে প্রচলিত আইন আছে। একজন দলীয় এমপি দলের নেতা বা কর্মী হিসেবে অন্যায় করে থাকলে সেজন্য দলের গঠনতন্ত্র আছে, কিন্তু সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার চড়-থাপ্পড় মারার অধিকার রয়েছে বলে আমরা মনে করি না। দেশের সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে এবং দলের সাধারণ সম্পাদক পদে থেকে তিনি কোনভাবেই এমন করতে পারেন না। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী এ দলটির অন্য কোনো শীর্ষ নেতাকে অতীতে এরকম চড়-থাপ্পড়ের সংস্কৃতি চালু করতে দেখা যায়নি। বরং নেতা-কর্মীদের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং ত্যাগ স্বীকারের উদাহরণই আমরা দেখেছি। এমনকি সর্বশেষ দলটির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে এক নেতা বিদায় নেওয়ার সময় তার জন্য আমরা দলীয় নেতা-কর্মীদের ভালোবাসা, কান্না ও হাহাকার দেখেছি। নেতা-কর্মীদের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার মাধ্যমেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে আমরা মনে করি। ভালোবাসা দিয়ে নেতা-কর্মীদের মন জয় করার বদলে চড়-থাপ্পড়ের তথাকথিত শাসনের এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিস্তৃত হওয়ার আগেই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।

Bellow Post-Green View