চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চুপ থাকাই কি শ্রেয়?

Nagod
Bkash July
মেঘ তার বাবা মায়ের হত্যার বিচার পাবে কিনা তা বিগত ৮ বছর ধরে প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে রইল। মানুষ মেঘের নামও ভুলে গেছে। এ মেঘ হলো সাংবাদিক সাগর-রুনী দম্পতির একমাত্র ছেলে। তার চোখের সমানে মেরে ফেলা হয়েছে বাবা মাকে। তখনকার ছোট্ট মেঘ এখন বড় হয়েছে। আর শুধু শুনে তার বাবা মায়ের হত্যার বিচার আদালতে বিচারাধীন। ৭৪ বারের মত পেছালো এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ। কেন এ বিলম্ব তার কোন ব্যাখ্যা কারো কাছে নাই।
Reneta June
সাগর রুনীর হত্যাকারীরা হয়ত সব সামাল দিয়ে নিশ্চিত জীবন যাপন করছে। শুধু মেঘ তার জীবনের কোথাও খুঁজে পায় না বাবা মায়ের ভালোবাসার পরশ। সে জানে না আদৌ শাস্তি পাবে কিনা তার বাবা মায়ের হত্যাকারীরা।
আইন মোতাবেক আদালতে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কথা বলা সঠিক নয়। কিন্তু প্রলম্বিত বিচার চুপ থাকতে দেয় না। তাই বিচারের দাবি উঠে সাগর রুনী, তনু হত্যা সহ অনেক মামলা নিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোঃ রাশেদ খান হত্যার ঘটনা নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন। সত্যিকারের বিচার হবে কি সিনহার হত্যাকারীদের। ইতমধ্যে এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। যদিও বিচারিক কার্যক্রমে পুলিশি তদন্ত মুখ্য বিষয়।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ তদন্ত সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে বিশেষ ভুমিকা রাখবে বলে আশাবাদী। যদি মন্ত্রণালয় তদন্ত প্রধান প্রতিবেদনের আদ্যোপান্ত নিয়ে গণমাধ্যমকে এ মুহুর্তে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। মেজর (অবঃ) সিনহার হত্যাকাণ্ডে দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ জড়িত হয়ে পড়েছে। যা সত্যি দুঃখজনক।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন মানবিক কাজের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনী জনগণের মনে আস্থার জায়গা তৈরি করছে। সে মুহুর্তে ওসি প্রদীপ প্রশ্নবিদ্ধ করল পুলিশ বাহিনীকে। তবে একজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ড দিয়ে সমগ্র বাহিনীকে দোষারোপ করা অনুচিত। দেশের মানুষকে মনে রাখতে হবে নুসরাত হত্যার বিচারে পুলিশ সদস্য ওসি মোয়াজ্জেম ছাড় পায়নি অপরাধ থেকে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনী নুসরাত হত্যার বিচারে নিজেদের সততা প্রমান করেছে শতভাগ। তাই মেজর (অবঃ) সিনহার বিচারে আবার সততার প্রমাণ দিবে এ বাহিনী এমনটাই আশা করে মানুষ।
দেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে নানাভাবে। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনওকে হত্যার চেষ্টা আরেক রহস্যময় ঘটনা। প্রশাসনিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা বাহুল্যমাত্র। আজকাল এ ধরনের নৃংশস ঘটনার অন্তরালে দায়ী ব্যক্তিদের বেশিরভাগ সরকার দলের নেতাকর্মী বা সমর্থক বলে চিহ্নিত হচ্ছে। ঘোড়াঘাটের ঘটনায়ও এর ব্যতিক্রম নয়।
দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সদস্য সংখ্যা এখন বলা মুশকিল। কারণ এখন সারা দেশে আওয়ামী লীগ বা তার অংগ সংগঠনের সমর্থনকারী। হাইব্রিড বা অন্য যে নামেই ভূষিত করা হোক না কেন, এ মুহুর্তে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোন দলের ব্যক্তি প্রকাশ্যে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সুতরাং প্রশাসনিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মাঝে সুবিধাবাদীরা আওয়ামী লীগের ক্ষতি করছে তা বুঝতে দলের শীর্ষনেতারা আর কত কালক্ষেপন করবে তা সাধারনের পক্ষে জানা মুশকিল।
এ কালক্ষেপণের কারণে একদিকে মানুষের মাঝে দল নিয়ে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারিভাবে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দূরত্ব দেশের জন্য হিতকর নয়। এতে করে সরকারের সফলতা জনগনের মাঝে পজিটিভ প্রভাব রাখতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মানুষের প্রাত্যহিক জীবন স্বাভাবিক হয়ে উঠেনি এখনো। আর্থিকভাবে সংকটের মুখে কমবেশি সবাই। এ পরিস্থিতিতে সরকার, প্রশাসন,রাজনীত, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের কাছে কেবল প্রশ্ন আর প্রশ্ন। এ অবস্থায় নিজেকে টিকে থাকার লড়াইয়ে চুপ থাকাটাই যেন শ্রেয় বলে মনে করে সকলে। কারণ এ দেশে ক্ষমতা আর প্রভাবের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে জনগন। রাজনৈতিক ভাবে দলের একনিষ্ঠ কর্মীরা নিগৃহিত। বঙ্গবন্ধুর আর্দশকে ধারণ করে নিরব থাকা সত্যিকারের দেশপ্রেমিদের কাছে আওয়ামী লীগের কর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় দেশের দুর্নীতি অন্যায় আর প্রহসনের বিচার দেখে। কিন্তু কিছুই বলার নেই কারণ তাদের লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলায় এখন দুর্নীতিবাজ আর অন্যায়কারীদের বেসাতি।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)
BSH
Bellow Post-Green View