চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চিরনিদ্রায় শায়িত সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ

রায়ের বাজার কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত সুরকার ও সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টার দিকে তার দাফন সম্পন্ন হয় বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন তার শ্যালক মিল্টন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার আছরবাদ কলাবাগান ল’ কলেজের মাঠে ফরিদ আহমেদের জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহ সরাসরি রায়ের বাজার কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ফরিদ আহমেদ। ১১ এপ্রিল থেকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন বরেণ্য এই সুরকার ও সংগীত পরিচালক।

তারও আগে মার্চের শেষ সপ্তাহে সস্ত্রীক করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে ফরিদ আহমেদের। ২৫ মার্চ রাতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। স্ত্রী শিউলি আক্তারের অবস্থা ভালো হলেও ফরিদ আহমেদের তেমন কোনও উন্নতি হয়নি।

চিকিৎসকরা জানান, করোনার কারণে ফুসফুসের ৬০ ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সঙ্গে ছিলো ডায়াবেটিস।

অডিও শিল্পের পাশাপাশি নাটক ও চলচ্চিত্রের গানেও ফরিদ আহমেদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৭ সালে নূর হোসেন বলাইয়ের চলচ্চিত্র ‘নিস্পত্তি’র মাধ্যমে সংগীত পরিচালনা শুরু করেন তিনি। একইভাবে প্রায় আড়াই হাজার খণ্ড নাটক এবং চার শতাধিক ধারাবাহিক নাটকের সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি।

তার সুর করা আলোচিত গানের মধ্যে রয়েছে চ্যানেল আইয়ের ‘আজ জন্মদিন’, ‘ক্ষুদে গানরাজ’, ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’, সেরা কণ্ঠ প্রতিযোগিতার থিম সং, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কণ্ঠে ‘তুমি আমার জীবনের গহিনে’ ইত্যাদি। এছাড়াও তিনি ‘ইত্যাদি’ ম্যাগাজিনের টাইটেল সং ‘কেউ কেউ অবিরাম চুপি’, কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া ‘তুমি ছাড়া আমি যেন মরুভূমি’, ‘মনেরই রাগ অনুরাগ’, রুনা লায়লার ‘ফেরারী সাইরেন’, রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমীনের কণ্ঠে ‘দলছুট প্রজাপতি’র সুর করেন।

আশির দশক থেকে শুরু করে বাংলা সংগীতের বর্তমান প্রজন্মের গীতিকার, শিল্পীদের সাথে নিয়মিত কাজ করেছেন তিনি। ফলে তার এমন মৃত্যু মানতে পারছেন না কেউই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে স্মরণ করছেন সংগীত, চলচ্চিত্র ও নাটকের মানুষেরা।

বিজ্ঞাপন