চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চিকিৎসা নিতে গিয়ে আনসার সদস্যের হামলার শিকার ঢাবির দুই শিক্ষার্থী

ঢাবি প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্যের মারধরের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালের বর্হিবিভাগ-২ এ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মনোয়ার হোসেন মান্না ও আশিক আব্দুল্লাহ অপু। মান্না বেসরকারী টিভি চ্যানেল আই এবং অপু ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করছেন।

ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই দুই শিক্ষার্থী বর্হিবিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে কথা বলতে গেলে এক আনসার সদস্য তাদের একজনকে ‘তুই’ সম্বোধন করে জামা টেনে ধরে পেছনে গিয়ে দাঁড়াতে বলেন। এসময় জামা টানার কারণ জানতে চাইলে ঐ আনসার সদস্যের সঙ্গে  আরেকজন এসে তাদের গালাগালি করতে করতে মান্নার মুখে ঘুষি মারেন এবং হাসপাতাল থেকে বের করে দেন।

খবর পেয়ে তাদের সহপাঠীরা সেখানে উপস্থিত হলে আনসার সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি হয়। এসময় হাসপাতালের ভেতর থেকে কয়েকশ কর্মচারী ও আনসার শিক্ষার্থীদের ওপর পুনরায় ‘হামলা’ করেন। এসময় আগের ঘটনায় আহত মান্না ও অপুকে আনসার সদস্যরা পুনরায় ‘বন্দুকের নল’ দিয়ে পেটান বলে জানান এই প্রত্যক্ষদর্শীরা।

বিজ্ঞাপন

পরে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান দুলাল সাংবাদিকদের বলেন, “চিকিৎসা সেবা নিতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না।  আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। শীঘ্রই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।”

এ ব্যাপারে হামলার শিকার শিক্ষার্থী মনোয়ার হোসেন মান্না চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, “মঙ্গলবার বিকালে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শ নেয়ার জন্য গিয়েছিলাম। সেখানে টিকিট কাউন্টারে ‘ডার্মাটোলোজির টিকিট কোথায় পাওয়া যাবে’ জানতে গেলে পেছন থেকে এক আনসার সদস্য আমার জামার কলার ধরে টান দেয়। কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে আমাকে গালিগালাজ করে এবং মুখে কিলঘুষি মারতে থাকে। এসময় আমার বন্ধু অপু এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করে আনসার সদস্যরা। পরে ঘটনার বিচার চাইতে গেলে আবার ‘বন্দুকের নল’ দিয়ে আমার ঘাড়ে ও অপুর মাথায় আঘাত করে তারা।”

এ বিষয়ে ওই আনসার সদস্যদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এদিকে এই ঘটনায় নিন্দা ও বিচারের আশ্বাসের পাশাপাশি এখন থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘টিকিট পাওয়া’র ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে এবং সব রোগীদের আনসার সদস্যরা ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতে হবে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ এই ঘটনায় জড়িতদের আমরা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে খুঁজে বের করবো এবং বিচারের আওতায় নিয়ে আসবো।’

বিজ্ঞাপন