চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চা, জুস, বিয়ার যেভাবে ক্ষতি করছে আপনার কিডনির

নতুন এক গবেষণা বলছে,  অধিক চিনিযুক্ত পানীয়, ফলের জুস, বিয়ার এমনকি চা আপনার কিডনির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এরমধ্যে ঠান্ডা এবং ফলের মিষ্টি জুস হচ্ছে তার প্রধান ঘাতক।

যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক তাদের গবেষণায় এমন তথ্য তুলে ধরেছেন বলে ডেইলি মেইল জানিয়েছে।

গবেষকরা দেখিয়েছেন, যারা নিয়মিত মদ্যপান করে, তারা ৬১ শতাংশ অধিক ঝুঁকিতে থাকে। তাদের গবেষণায় আরো উঠে এসেছে, চা এবং বিয়ার কিডনি রোগের জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

তবে বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেননি কেন বিয়ার স্বাস্থ্যের জন্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিকর; বিশেষ করে কিডনির জন্য।

অবশ্য তারা বলেছেন, অন্যান্য পানীয়তে থাকা চিনি ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। ফলে ধীরে ধীরে এগুলো কিডনির ওপর চাপ ফেলে এবং শরীরের কর্মক্ষমতা হারানোর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (এনএইচএস) প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগের কারণে যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর ৪০ থেকে ৪৫ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু হয়।

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে সব ধরনের প্রাদুর্ভাবের প্রায় ১৪ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়বেটিসের কারণে।

হপকিন্সের গবেষকরা মদপানকারী তিন হাজার তিনজন আফ্রিকান-আমেরিকান নারী পুরুষের ওপর গবেষণা করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এতে দেখা গেছে, আফ্রিকান-আমেরিকান মানুষ ককেশীয় অঞ্চলের মানুষের চেয়ে অধিকহারে কিডনি রোগে আক্রান্ত।

জরিপে অংশ নেয়াদের গড় বয়স ৫৪ বছর এবং তাদের কোনো কিডনি রোগ ছিলনা।কিন্তু গড়ে ৮ বছর ধরে পর্যবেক্ষণের পর তাদের ৬ শতাংশরই কিডনি রোগ ধরা পড়ে।

এর কারণ হিসেবে গবেষকরা দেখিয়েছেন তাদের প্রত্যেকেই মদপান (সোডা) এবং ফলের জুস খেতে পছন্দ করতো। এর ফলে তাদের ধূমপানে আসক্তি, কিডনির রোগ, বিষণ্ণতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস এবং ব্যায়ামের প্রতি অনিহা দেখা দেয়।

ড. ক্যাসেই রেবহোলজ-এর নেতৃত্বে গবেষকরা প্রতিটি পানীয় নিয়ে গভীরভাবে গবেষণার সিদ্ধান্ত নেন। তারা দেখতে পান, সোডা কিডনি রোগের জন্য ৯ শতাংশেরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

ড. রেবহোলজ রয়টার্সকে বলেন, বিশ্বব্যাপী এটা স্বীকৃত যে দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগ যেমন স্থূলতা, উচ্চরক্তচাপ, ডায়বেটিস এবং হৃদরোগ কমাতে চিনিযুক্ত মিষ্টি জাতীয় পানীয় যেমন সোডা এবং মিষ্টি ফলের পানীয় পরিহার করা উচিত।