চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চাহিদা কমায় পোশাক শ্রমিকদের চাকরি হারাতে হবে: বিজিএমইএ

বিশ্বব্যাপী পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ায় গত জুন মাসের পর থেকে অনেক শ্রমিককে চাকরি হারাতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক।

বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য দেশের প্রথম ‘স্টেট অব দ্য আর্ট কোভিড-১৯ ল্যাব’ উদ্বোধন উপলক্ষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়ে চ্যানেল আই অনলাইনকে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বের ভোক্তার চাহিদা কমছে। এর পরিমাণ প্রায় ৬৫ শতাংশ হতে পারে। দেশের পোশাক কারখানার কাজও ৫৫ শতাংশ কমেছে। তাই জুনের পর থেকে বহু শ্রমিককে ছাঁটাই করার মত উদ্যোগ নিতে হবে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা। কিন্তু করার কিছু নেই।

তবে এ ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের জন্য কী করা হবে; সে বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আবার এ অবস্থা হঠাৎ করে বদলেও যেতে পারে। তখন ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকরাই নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

আজকের ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুবানা হক বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের সময়ে প্রায় ৩ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ শতাংশ ফেরত এসেছে। তবে যেব ক্রেতা ফেরত এসেছেন তারা আবার বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন।

শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে রুবানা হক বলেন, ‘বিশ্বে ভোক্তার চাহিদা কমে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থা বলছে, আগামীতে ৬৫ শতাংশ চাহিদা কমে যাবে। তাই পোশাকের চাহিদা বাড়ার তেমন সম্ভাবনা কম। দেশের পোশাক কারখানায়ও ৫৫ শতাংশ কমে যাবে। ৪২ হাজার কোটি টাকা মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ক্ষতি হবে।’

বিজ্ঞাপন

‘‘করোনায় দেশের ৯৯ শতাংশ পোশাক কারখানার ৫৫ শতাংশ ক্যাপাসিটি দিয়ে চালাতে হবে। জুনে কারখানাগুলোতে ৩০ শতাংশ কাজ হবে। জুলাইতে কী হবে বলা যাচ্ছে না। তখন আমাদের বড় ধাক্কা খেতে হবে। এটি অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। বিজিএমইএ অন্তর্ভুক্ত কারখানা ছিল ২২৭৪টি, এখন ১৯২৬টি চলছে। তার মানে বেশকিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে।’’

তবে করোনা বিস্তারের সময়ে চলতি অর্থবছর পোশাকখাতে রপ্তানি আয় কমলেও সেটা ২৩ বিলিয়ন হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

ড. রুবানা হক বলেন, করোনা মোকাবিলায় এখন মানুষ সুস্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে বেশি; পোশাকে নয়। ফলে পোশাকের চাহিদা কমছে। চীন থেকে ৫৫ ভাগ বিনিয়োগ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ থেকে ২ শতাংশ কমিয়েছে।

অন্যদিকে ভিয়েতনামে ৭ শতাংশ রপ্তানি আদেশ বাড়িয়েছে। তবে চীন ভিয়েতনামে অনেক বিনিয়োগ করেছে। এটা তারা হয়তো বাড়াবে। কিন্তু আমরা কীভাবে এগোবো তা বের করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুশের্দী, শ্রমসচিব কে এম আব্দুস সালাম, ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বাডাস) সভাপতি প্রফেসর ডা. এ কে আজাদ খান প্রমুখ।

শেয়ার করুন: