চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চামড়া শিল্পের ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে: শিল্পমন্ত্রী

চামড়া ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

তিনি বলেন: করোনা পরিস্থিতিতে চামড়া শিল্পের ব্যবসায়ীদের লাভের কথা বিবেচনা করে কাঁচা চামড়া ও লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এতে ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত পরিমাণে চামড়া ক্রয় ও সংরক্ষণ করার সক্ষমতা অর্জন করবেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার চামড়া শিল্প উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় সভায় সভাপতিত্বকালে শিল্পমন্ত্রী একথা বলেন।

ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান ট্যানারি শিল্পের জন্য বাজেট সহায়তা নিশ্চিত করতে অর্থ বিভাগের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন: হাজারিবাগে ট্যানারি মালিকদের জমি হতে রাজউকের ‘রেড জোন’ প্রত্যাহার করা হলে মালিকদের ঋণ পেতে সুবিধা হবে। ট্যানারি মালিকদের জন্য ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে চামড়ার পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার চামড়া সংরক্ষণে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন: কওমি মাদ্রাসাগুলো বহুদিন ধরে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে জড়িত এবং এ থেকে অর্জিত আয় দিয়ে ওইসব প্রতিষ্ঠান চলে। কোরবানি উপলক্ষে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা দিলে তারা চামড়া ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। শিল্প প্রতিমন্ত্রী হাজারীবাগে অবস্থিত ট্যানারি মালিকদের জমিতে ‘রেড জোন’ ঘোষণা দ্রুত প্রত্যাহারের জন্য রাজউকের প্রতি আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন: করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ট্যানারি মালিকরা যাতে ঋণ পেতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে সিইটিপির কাজ দ্রুত সমাপ্ত করতে বিসিককে নির্দেশনা প্রদান করেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরী বলেন: কোরবানির আগেই ট্যানারি মালিকদের জন্য ঋণ সাহায্য নিশ্চিত করা হবে। এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই, তফসিলভুক্ত ব্যাংক, চামড়া শিল্প সম্পর্কিত ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সাথে শিগগিরই বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিসিকের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ এনডিসি বলেন: ঈদের পরের তিন মাস চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের পরিমাণ বাড়বে। এ সময় ট্যানারিগুলোতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা হলে সিইটিপির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করলে ট্যানারিগুলো লেদারের ওয়ার্কিং গ্রুপের সার্টিফিকেট অর্জনে ব্যর্থ হবে।

তিনি বলেন: দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ রয়েছে এবং কোরবানির সময় লবণের কোথাও কোনো ঘাটতি হবে না।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন: সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর ট্যানারিসমূহে বর্তমানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার চামড়া জমা আছে। ট্যানারি মালিকদের জন্য কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ঋণ সহায়তার নিশ্চিত করা ছাড়া অধিকাংশ ট্যানারি মালিকদের পক্ষে চামড়া ক্রয় সম্ভব হবে না।

তিনি এ বিষয়টি সুরাহার জন্য টাস্কফোর্স সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন: করোনা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিয়ে চামড়া শিল্প যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেই লক্ষ্যে ট্যানারি মালিক, আড়তদার, চামড়াখাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরণের কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন: চামড়া শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত শ্রমিকদের সহযোগিতা প্রদান এবং বিগত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে কোরবানির সময় চামড়ার সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।