চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চসিক নির্বাচন: দলীয় কোন্দল ও সহিংসতার জন্য দায়ী কে?

চট্টগ্রাম শহরে এখন চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। তবে বেশ ক’বছর ধরেই দেশের জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনী প্রচারণাতে দেখা যায় ঢিমেতালে পরিবেশ। দল ও প্রার্থীর কর্মীদের ব্যস্ততার সাথে সাথে রাস্তা-ঘাটে সাধারণ মানুষের সরবতায় যে ভোটের আমেজ থাকে তা আর এখন চোখে পড়ে না। রাজনীতি বিমুখ জনগণ ভোট নিয়ে চিন্তিত নয়। বরং তারা মনে করে জনগণের ভোটে এখন আর নেতা নির্বাচিত হয় না।

তথাপি সাংবিধানিক সময় অনুযায়ী নিয়ম অনুসরণ করে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করছে নির্বাচন কমিশন। তারই ধারাবাহিকতায় চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হবে ২৭ জানুয়ারি। প্রার্থীদের হাতে আর মাত্র কটা দিন আছে প্রচারণা চালানোর জন্য। তবে এবারের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না বিএনপি কার পাল্লা ভারী তা আলোচ্য বিষয় নয়। এখানে যে বিষয়টি শংকাজনক তা হলো আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।

বিজ্ঞাপন

ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে সরকারি দল আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের অংককে বিপাকে ফেলে দিতে পারে বলে মনে করছে চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণ। বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারো কারো আমলনামা সুখকর নয় তবুও তারা ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতে দলের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রার্থী হয়ে পেশি শক্তি দেখাতে চেষ্টা করছে। আবার দলের মনোনিত প্রার্থীদের কেউ কেউ এলাকায় নতুন মুখ বা স্থানীয় বাসিন্দা নয়। তাদের ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর দ্বিমত পোষণের সুযোগ নিচ্ছে বিদ্রোহী প্রার্থী। তবে মাঠে বিএনপি বা অন্যদলের প্রচারণা খুবই কম। এছাড়া এবারের নির্বাচনে ব্যক্তির জয়কে প্রাধান্য দিচ্ছে দলের জয়ের চেয়ে বেশি। এর কারণ চট্টগ্রামের রাজনীতির অর্ন্তদ্বন্দ্ব।

চসিক নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকা রেজাউল করিম একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিকভাবে। অন্যদিকে ধানের শীষের ডাঃ শাহদাত হোসেন সেলিম চট্টগ্রামের বিএনপির রাজনীতিতে ঘাত-প্রতিঘাতে মাঠে আছেন দীর্ঘ সময় ধরে। দুই প্রার্থীই নানা অঙ্গীকার দিয়ে ভোট চাইছেন জনগণের কাছে। তবে জনগণের মনে প্রশ্ন, তারা কি আসলেই ভোট দিতে পারবে নির্বিঘ্নে? কারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের কোন্দলের জের ধরে ইতিমধ্যে ৩ জন ব্যক্তি সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম শহরে ভোটের পরিবেশ অনেকটাই থমথমে।

চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতিতে দলীয় কোন্দল নতুন কিছু নয়। মহিউদ্দিন গ্রুপ ও আ জ ম নাসির গ্রুপে বিভক্ত দলের মূলধারা। বলা হচ্ছে ব্যক্তিদ্বন্দ্বের সূত্র ধরেই চসিক নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করছে। যা সত্যিকারভাবে দলের জন্য দুঃখজনক। দলের মনোনিত প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোট চাইছে তাদের পেছনে ইন্ধনদাতাদের ব্যক্তিস্বার্থ যে কাজ করছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়াও কিছু কিছু এলাকাতে বিরোধী দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে একে অপরের সর্মথনে কাজ করছে।এতে করে ভোট নিয়ে আরও কোন্দল হতে পারে বলে মনে করে চট্টগ্রামের মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২৭ জানুয়ারি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের মত প্রকাশে অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে মানুষের মধ্যে। জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে জনগণের সরব উপস্থিত এ মুহূর্তে খুব বেশি প্রয়োজন সরকার দলের। সারাদেশে নৌকার একচেটিয়া বিজয় বারবার নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আর সে কারণে দলীয় কোন্দলকে মিটিয়ে জনগণকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা দিতে হবে সবার আগে আওয়ামী লীগকে। তা নাহলে আগামী দিনে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে দলকেই, ব্যক্তিকে নয়।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন