চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চলতি বছর অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন আসায় অনিশ্চয়তা

কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের তৈরি যে ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে প্রাথমিকভাবে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে তা চলতি বছর আসা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলেছেন গবেষকরা।

এই ভ্যাকসিন তৈরির গবেষক দলের প্রধান মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা রয়টার্সে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এ বছরের শেষ দিকে ভ্যাকসিনটি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে এ বছরই যে এটি ব্যবহার করা যাবে তা নিশ্চিত নয়।

বিজ্ঞাপন

গবেষক দলের প্রধান সারাহ গিলবাট বিবিসিকে বলেন, ভ্যাকসিনটি ব্যবহার উপযোগী করার জন্য এখনও তিনটি বিষয় খুব জরুরি। একটি হল শেষের ধাপের ট্রায়াল, দ্বিতীয়টি হল উৎপাদনের জন্য প্রচুর সংখ্যা দরকার। তৃতীয়টি হল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর খুব দ্রুত লাইসেন্স করতে হবে জরুরি ব্যবহারের জন্য।

ভ্যাকসিনটির শেষের ধাপের পরীক্ষা ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় চলছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রেও ট্রায়াল চালানোর আলোচনা চলছে।

বিজ্ঞাপন

কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণের জন্য এখন পর্যন্ত অনুমোদিত কোনও ভ্যাকসিন নেই। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনার বিরুদ্ধে অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পথে রয়েছে।

গবেষকরা বলেছেন, মানবদেহে প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনটি নিরাপদ এবং এটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাড়ায় বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা করার জন্য আরও পরীক্ষার প্রয়োজন।

প্রাথমিকভাবে এক হাজার ৭৭ জনের ওপর ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয়। তাতে দেখা গেছে, এ টিকা অ্যান্টিবডি ও শ্বেত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে, যা করোনার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে এবং তা নতুন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম। যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে ভ্যাকসিনের ১০০ মিলিয়ন ডোজ অর্ডার করেছে।

ভারতেও ট্রায়াল শুরু হবে অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের
বিশ্বের বৃহত্তম টিকা প্রস্তুতকারক সংস্থা ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ এর টিকা উৎপাদন করার জন্য কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের (ডিসিজিআই) অনুমতি চেয়েছে।

সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘দু’টি ফেজ-এ চালানো অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রায়ালের ফলাফল উল্লেখযোগ্য। আমরা এতে অত্যন্ত খুশি। এখন এই টিকা ভারতে উৎপাদনের জন্য আমাদের লাইসেন্স প্রয়োজন। তার জন্য ভারতীদের ওপর আমাদের এই টিকা প্রয়োগ (‘হিউম্যান ট্রায়াল’) করে দেখতে হবে। এ জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমতি চেয়েছি। সেই অনুমতি পেলেই আমরা ট্রায়াল শুরু করে দেব। শীঘ্রই এই টিকার উৎপাদনও শুরু করব আমরা। প্রাথমিক ভাবে ১০০ কোটি টিকা উৎপাদন করা হবে।’’