চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চলচ্চিত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শাকিবের অনুরোধ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলচ্চিত্রের পরিবেশ সৃষ্টির অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ অভিনেতা শাকিব খান। তিনি বলেছেন, ‘প্লিজ, আপনি শুধু আমাদের কাজের পরিবেশটুকু তৈরি করে দিন, বাকিটা আমরাই তৈরি করে নেব।’ 

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম মৃত্যু দিনে এফডিসিতে উপস্থিত থেকে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারকারা। চলচ্চিত্র পরিবারের আয়োজনে শোক সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকাই ছবির ‘কিং খান’।

বিজ্ঞাপন

বিকেলে শাকিব খান তার অফিসিয়াল ফ্যান পেজে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনার বাবা তথা সমগ্র বাঙালি জাতির পিতার হাতে গড়া এই ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে কঠোর পদক্ষেপ নিন। আপনি ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে শাকিবের এ আবেদন জানানোর কারণ, গত কয়েক বছর ধরে চলচ্চিত্রে মন্দা বিরাজমান। এর মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এফডিসিতে বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। চলচ্চিত্রকে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগও আছে। দিনশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চলচ্চিত্র। শাকিব খান মনে করেন, এতে করে সুষ্ঠুভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী যদি সদয় হন তবেই এ বিশৃঙ্খল অবস্থা দূর হবে।

দুই দশকের মধ্যে প্রায় ১৪ বছর শাকিব খান রাজত্ব  করছেন। এ নায়ক বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এফডিসি ভালো নেই। ভালো নেই এখানকার মানুষগুলো। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে হয়তো আজ তার হাতে গড়া এফডিসির এমন অবস্থা দেখতে হতো না। গুটি কয়েক মানুষ কয়েক বছর ধরে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া স্বপ্নের এই এফডিসিকে দেশের আপামর মানুষের কাছে বিতর্কিত করে চলছে।

শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দেয়া শাকিবের আবেগঘন পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান দল মত রাজনীত নির্বিশেষে সব কিছুর উর্দ্ধে।শাকিব খান বলেন, একজন সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বাইরেও বঙ্গবন্ধু ছিলেন সংস্কৃতিমনা মানুষ। তিনি ছিলেন চলচ্চিত্রেরও বন্ধু। আজকের এই এফডিসি তারই হাতে গড়া। চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নের সঙ্গে অনেকগুলো গঠনমূলক সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন। এসব সিদ্ধান্তের ফলে দ্রুত চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ সম্ভব হয়।

শাকিব খান উল্লেখ করেন, জাতির পিতা চলচ্চিত্রে এতোটাই নিবেদিত প্রাণ ছিলেন যে, একটি চলচ্চিত্রে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিল। তিনি বলেন, প্রয়াত পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম, যার নির্দেশনায় আমারও কাজ করার সুযোগ হয়েছিল, তারই মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘সংগ্রাম’-এর শেষ দৃশ্যে নিজের চরিত্রেই উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৭৪ সালে ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। এমন একজন মহান নেতা চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন! চলচ্চিত্রের একজন মানুষ হিসেবে এ কথাটি বলতে গিয়ে গর্বের আমার বুক ভরে ওঠে।

সবশেষে শাকিব খান বলেন, বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনা, আদর্শ, ন্যায়-নীতি, জীবন, চিন্তা, শিক্ষা ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি আমরা এগিয়ে যেতে পারি, তবেই জাতির পিতার স্বপ্ন সফল হবে বলে। আর সেই লক্ষ্যে যদি অটুট থাকা যায় তাহলে বাংলাদেশ অচিরেই একটা সোনার দেশ হয়ে গড়ে উঠবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।