চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চলচ্চিত্রে আমার জন্য কেউ ভাবে নাই: মীর সাব্বির

সরকারি অনুদানে মীর সাব্বির নির্মাণ করেছেন নিজের প্রথম চলচ্চিত্র ‘রাত জাগা ফুল’, মুক্তি ৩১ ডিসেম্বর

দুই দশক ধরে অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন মীর সাব্বির। নির্মাতা হিসেবে তার পরিচিতি কম নয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারই প্রথম ‘রাত জাগা ফুল’ নামে একটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করলেন মীর সাব্বির। ইতোমধ্যে চলচ্চিত্রটি সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মীর সাব্বিরের এই চলচ্চিত্রটি ৩১ ডিসেম্বর মুক্তি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এটিই ওই বছরের অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে প্রথম মুক্তি পাচ্ছে।

পরিচালনার পাশাপাশি মীর সাব্বির এতে অভিনয় করেছেন। আরও অভিনয় করেছেন চুমকি, তানভীর, ঐশী, ফলজুর রহমান বাবু প্রমুখ। প্রথমবার চলচ্চিত্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা জানিয়ে মীর সাব্বির  কথা বললেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে…

‘রাত জাগা ফুল’ এর মাধ্যমে আপনি কোন গল্প বলতে চেয়েছেন?
নামটা রূপক অর্থে ব্যবহার করেছি। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে একটা অন্ধকার থাকে। সেই অন্ধকারের পর একটা আলো আসে। বোঝাতে চেয়েছি আলো এবং অন্ধকারের মাঝখানে মানুষ বিচরণ করে সেখান থেকে আলোর বিচ্ছুরণটাকে ধরে নিই বিজয়। আলো এবং অন্ধকারের দুটো জিনিস বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এর মধ্যে আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি, প্রেম-ভালোবাসা, দেশ সবকিছুকে রাত জাগা ফুল এই তিন শব্দের মধ্যে আনার চেষ্টা করেছি। বাংলার মাটি, প্রকৃতি, গান, প্রেম চারপাশের সবকিছু মিলিয়ে রাত জাগা ফুলে বাংলাদেশের ঘ্রাণ পাওয়া যাবে।

প্রথমবার চলচ্চিত্র পরিচালনা করে অভিজ্ঞতা কেমন হলো?
চলচ্চিত্র পরিচালনা আমার জন্য বিশাল বড় সুযোগ ও অভিজ্ঞতার। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা, গল্পভাবনা করা এটা বড় ব্যাপার। দীর্ঘদিন ধরে এটি নিজের মধ্যে লালন করেছি। পৃথিবীতে সব কাজ প্রথম করায় অন্যরকম যত্নের ও সুখকর হয়। আমার কাছেও প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালনা সেরকম অনুভূতির। আমি আসলে বলে বোঝাতে পারবো না। কতটা পেরেছি সেটা দর্শক দেখলে বলতে পারবেন। আমি আমার ফিলোসফির জায়গা থেকে ভাবনাগুলো শতভাগ স্টাবলিশ করার চেষ্টা করেছি।

অসংখ্য এক ঘণ্টা এবং ধারাবাহিক নাটক বানিয়েছেন। নাটক এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে পার্থক্যটা কোথায়?
পুরোটাই দুই রকম। নাটক তো আমরা মোবাইল, কম্পিউটার, টিভিতে যখন খুশী তখন দেখি। এটার মনোযোগ এক রকম। আর চলচ্চিত্র দেখার মনোযোগ আরেক রকম। এমনকি প্রস্তুতি নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে চলচ্চিত্র দেখতে হয়। চলচ্চিত্র দেখার জন্য বসার জায়গাটাও নিচ থেকে উপরে সারিবদ্ধভাবে থাকে। এর দৃশ্য, লেন্স, মুভমেন্ট তৈরি সবকিছু স্ক্রিনে প্রদর্শনের কথা বিবেচনা করে শুট করতে হয়। ছোট ফ্রেমে নাটক করা যায়, কিন্তু চলচ্চিত্রে তা সম্ভব নয়। চলচ্চিত্রের লুক এন্ড ফিলটাই আলাদা। আমার কাছে চলচ্চিত্র ব্যাপারটা একদমই আলাদা।

বিজ্ঞাপন

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা করলে বাড়তি সুবিধা বা চাপ কাজ করে?নিজের অভিনয়টা ঠিকভাবে করতে পারছি কিনা সেটা একটা চাপ। দর্শক বিচার করবে। আর সরকারি অনুদান হলেও আমার প্রডাকশন থেকে চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছি। কাজটি শেষ করার জন্য অর্থনৈতিক চাপ ছিল। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ না হলে ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। এটা বড় ক্যানভাসের চলচ্চিত্র। নাটক করলে এতো বড় ক্যানভাস থাকে না। তাই চাপ কম। প্রথম চলচ্চিত্র বানাতে গিয়ে যে চাপ ছিল সেটা সফলতার সঙ্গে উৎরানোর চেষ্টা করেছি। এর বাইরে কাজটা সঠিকভাবে শেষ করার এবং দর্শক যখন দেখবে তখন কীভাবে গ্রহণ করবে সেই চিন্তা মাথায় নিয়ে প্রত্যেকটি দৃশ্য শুটিং করেছি।

সরকার চলচ্চিত্রের অনুদান হিসেবে যে অর্থ দিয়েছেন সেই অর্থে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা সম্ভব?
চলচ্চিত্র দুই প্রকার – ভালো এবং মন্দ। শুধু অনুদানের টাকা দিয়ে ভালো চলচ্চিত্র হয় না। কেউ যদি ভাবে শুধু সরকারি অনুদানের টাকায় ভালো চলচ্চিত্র বানিয়ে ফেলবো তাহলে হবে না। সরকারি ৬০ লাখ টাকার পরে আমার আরও ৫০ লাখ টাকার কাছাকাছি ব্যয় হয়েছে। ভালো সিনেমা বানাতে টোটাল যে বাজেট থাকে তারমধ্যে একটা অংশ অর্থ দিয়ে সরকার সহায়তা করেন। সরকার চলচ্চিত্রের সম্পূর্ণ টাকা দিয়েছে এমনটা মোটেও নয়। সরকার আমাকে একটা স্বাধীনতা দিয়েছে ভালো চলচ্চিত্র বানাতে এবং নিজের মেধা কাজে লাগাতে। এজন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। সরকারি সাহায্যের কারণে কোনো ব্যক্তিকে (প্রযোজক) জবাবদিহি করতে হবে না। সরকারের এই অনুদানের টাকা জনগণের। তাই এর রেসপন্সসিবিলিটি চর্তুমুখী।

অনেকের মতে চলচ্চিত্র ‘দুই ধারায় বিভক্ত’ – বাণিজ্যিক এবং ভিন্নধারা। আপনার প্রথম চলচ্চিত্র কোন ধারার?
আমি মনে করি চলচ্চিত্র একটি ইন্ডাস্ট্রি। আর ইন্ডাস্ট্রি মানে বাণিজ্য। বাণিজ্য ছাড়া চলচ্চিত্র বানানো উচিত না। আমার চলচ্চিত্রটি অবশ্যই বাণিজ্যিক ঘরানার। এখানে অন্যকোনো কথার সুযোগ নেই। টাকা দিয়ে মানুষ দেখবে তাই এটি বাণিজ্যিক।

আপনাকে এখন থেকে নিয়মিত চলচ্চিত্রে নির্মাণ বা অভিনয়ে পাওয়া যাবে?
‘রাত জাগা ফুল’ বানিয়ে অনেক ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে। চলচ্চিত্র করলে অভিনয় এক্সপোজ করার প্রপার সুযোগ থাকে। চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য ক্ষেত্র তৈরি করে। আমার ইচ্ছে আছে আগামীতে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে বা প্রথম চলচ্চিত্র দেখে কেউ লগ্নী করতে উৎসাহী হলে অবশ্যই চলচ্চিত্র নির্মাণ করবো। চলচ্চিত্রে আমার জন্য কেউ ভাবে নাই। কোনো পরিচালক ভাবে নাই সাব্বিরকে দিয়ে এই চরিত্রটি করানো যেতে পারে। সবাই ভাবে সব চরিত্র আমি হয়তো পারবো না। ‘রাত জাগা ফুল’ এ যে চরিত্র করেছি দেখার পর হয়তো অন্য পরিচালকরা উৎসাহী হতে পারেন আমাকে দিয়ে ভিন্ন চরিত্র করানো সম্ভব। আগামীতে আমার কিছু পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো সময় হলে জানাবো। আমি আগে কাজটি ঠিকভাবে করতে চেয়েছি সেজন্য ‘রাত জাগা ফুল’ যখন বানাই তখন সবকিছু ফেলে নিরবে কাজটি শেষ করেছি।

বিজ্ঞাপন