চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চরিত্রের প্রতি সৎ থাকার চেষ্টা করি: জাহিদ হাসান

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯

দ্বিতীয়বারের মতো খল অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন অভিনেতা জাহিদ হাসান

তৃতীয়বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান। ১৯৯৯ সালে হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ এরজন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পেয়েছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এরপর ২০১৭ সালে তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘হালদা’ চলচ্চিত্রে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে অর্জন করেছিলেন ‘খল অভিনেতা’ হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র ‍পুরস্কার। এক বছর বিরতির পর গোলাম সোহরাব দোদুলের ‘সাপলুডু’র জন্য আবারও ‘খল অভিনেত ‘ হিসেবে তার হাতে উঠতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। কী তার অনুভূতি? কথা বলেছেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে:

‘সাপলুডু’র জন্য সেরা খল অভিনেতার পুরস্কার পেলেন। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার খল অভিনেতা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। কেমন লাগছে?
একজন অভিনেতার জন্য যে কোনো পুরস্কারই বড় আনন্দের, আর সেটা যদি হয় রাষ্ট্রীয় পুরস্কার তাহলে তো কথায় নেই! যে কোনো কাজে এক ধরনের পরিশ্রম থাকে, সেই কাজের যখন সাকসেস আসে তখন পরিশ্রমটা আর পরিশ্রম মনে হয় না। তখন মনে হয় আবার আরেকটা কাজ কবে শুরু করবো। উদ্যোম পাওয়া যায়।

আর আমি বেশি হ্যাপি, কারণ এবারের পুরস্কারটি নিয়ে আমি তৃতীয়বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলাম। প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে, পরের দুইবার শ্রেষ্ঠ খলঅভিনেতা হিসেবে। তো এরকম ভার্সেটাইল অভিনেতা হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়টি আরো আনন্দের।

বিজ্ঞাপন

‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতা’ হিসেবে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ এরজন্য ১৯৯৯ সালে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। জাহিদ হাসানকে আবার কবে সেরা অভিনেতা হিসেবে দেখা যেতে পারে?
পুরস্কারতো আসলে পরিকল্পনা করে হয় না, পাওয়াও যায় না। আসলে আমাদেরতো এখন ভালো ফিল্মই হচ্ছে না। আগে ভালো ফিল্ম তৈরীর ব্যবস্থা করতে হবে। সবাই যদি সততা নিয়ে চেষ্টা করি তাহলে অন্তত আমাদের কিছু ভালো ফিল্ম হবে। কোনটা অ্যাওয়ার্ড পাবে না পাবে সেটাতো বলা যায় না, কিন্তু সবাই মিলে চেষ্টা করলে অন্তত কিছু ভালো ফিল্ম হবে। সামনে যদি ভালো ফিল্ম পাই, আমি আমার সততা দিয়ে চেষ্টা করবো ভালো কিছু করতে। আর আমি যে চরিত্রই করি না কেন, অভিনেতা হিসেব সৎ থাকার চেষ্টা করি।

আপনার অভিনীত ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটির কিছু স্থিরচিত্র প্রশংসা পেয়েছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসাও কুড়িয়েছে ছবিটি। দেশে মুক্তির অনুমতি পায়নি, ছবিটি নিয়ে আপনার কী প্রত্যাশা?
‘শনিবার বিকেল’ যারা দেশে রিলিজ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিষয়টি তারা আরো ভালো জানেন। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, ছবিটি রাশিয়ায় দেখেছি। মানুষ প্রশংসা করছে। আর এই ছবিটা নরমাল কোনো ছবি না, ওয়ান টেকে নেয়া ছবি। মানে ক্যামেরা অন হয়েছে, অফ হয়েছে- এরমাঝেখানে সিনেমা শেষ! এরকম ওয়ান টেকের ছবি পৃথিবীতে মাত্র সাতটির মতো হয়েছে, তারমধ্যে ‘শনিবার বিকেল’ একটি। ছবিটি অবশ্যই আমার/আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার। দেশ-বিদেশের অনেক ভালো ভালো আর্টিস্ট ছিলেন, তাদের সাথে কাজ করতে পেরে ভালো লেগেছে। ছবিটা রিলিজ পেলে মানুষ অন্তত দেখতো, ভালো হোক বা মন্দ- সেটা পরের বিষয়।

সামনে নতুন কোনো সিনেমার পরিকল্পনা?
এই মুহূর্তে আমার হাতে কোনো সিনেমা নেই। সেরকম পরিকল্পনা হলে অবশ্যই সবাই জানতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন