চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চট্রগ্রামের আওয়ামী রাজনীতির ব্যক্তি বিরোধ হিতকর নয়

বেশ কিছুদিন ধরে চট্রগ্রামের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে উঠে এসেছে। বিভাগীয় প্রতিনিধিসভা মঞ্চ থেকে হাসিনা মহিউদ্দিনকে নামিয়ে দেবার ঘটনাটি চট্টগ্রামের মেয়র ও চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আ জ ম নাছির ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে করেছেন বলে ধারণা করে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সমর্থক গোষ্ঠি। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর দলের নেতা কর্মীরা এর জন্য মেয়র নাছিরকে ক্ষমা চাইতে দাবি তুলে তাদের বক্তব্যে।

অন্যদিকে মেয়র নাছির সুস্পষ্টভাবে নিজের বক্তব্যে বলেছেন, মঞ্চের আসন ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক হয়েছে। তিনি কেবল সভা পরিচালনাকারী হিসাবে বিষয়টি মাইকে ঘোষণা দিয়েছেন। তারপরও এ বিষয়টকে ইস্যু করে প্রতিবাদ সমাবেশ করা সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত।

বিজ্ঞাপন

দুজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়িতে আবার নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে চট্রগ্রামের আওয়ামী রাজনীতি। মহিউদ্দিন ও নাছির গ্রুপের দ্বন্দ্ব-বিবাদ চট্রগ্রামবাসীর অজানা নয়। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির পট পরিবর্তনের এ বিবাদের অবসান সবার কাম্য।

মেয়র নির্বাচন আসন্ন। শোনা যাচ্ছে প্রয়াত মেয়র ও চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এ বি মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন মেয়র পদপ্রার্থী হবেন। তিনি চট্টগ্রাম নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের মা।

হাসিনা মহিউদ্দিন রাজনীতিতে আছেন দীর্ঘ দিন ধরে। স্বামী এবি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর লড়াই সংগ্রামের সাথী হয়ে আওয়ামী রাজনীতিতে সামিল হয়েছেন তিনি। তার পরিবার রাজনৈতিক কারণে অনেক বৈরী পরিবেশের সম্মুখীন হয়েছেন নানা সময়ে। চট্টগ্রামের জনগণকে মহিউদ্দিন চৌধুরী আগলে রেখেছেন সকল প্রতিকূলতাতে। এ শহর ছেড়ে কোথাও যাননি। আর সে কারণে চট্টগ্রামের জনগণের কাছে এবি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী যে অভিভাবক ছিলেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তার আদেশ উপদেশ উপেক্ষা করার মত সাহস শক্তি তেমন কারো ছিল না। স্বভাবতই তার চৌকস ব্যক্তিত্বের কারণেই দলীয়ভাবে অন্ধ ভক্ত থাকাটা অমূলক কিছু নয়।

রাজনৈতিক চিন্তা ধারাতে একজন নেতা, কর্মী বা সর্মথকদের কাছে দলের আদর্শ-নীতি মূল বিবেচ্য বিষয়। পরিবার বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি নিজেদের চলার পথেই অন্তরায় সৃষ্টি করে। আর সে অন্তরায়ের সুযোগ নিবে প্রতিপক্ষ। এটা মনে রাখা উচিত।

চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ মানে মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি এখানে আওয়ামী লীগের জন্য যা করেছেন তা দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে থেকে শুরু করে তৃণমুল পর্যন্ত সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করে।

বর্তমানে তিনি নেই। কিন্তু উনার রাজনৈতিক আদর্শ মানুষের হৃদয়ে আছে। সে অবস্থায় তার স্ত্রীকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়টিকে ইস্যু করে হৈচৈ করার দুটি দিকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

প্রথমত, হাসিনা মহিউদ্দিন কি কেবল প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী নাকি মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসাবে সভায় আমন্ত্রিত ছিলেন?

দ্বিতীয়ত, রাজনীতিতে আবেগের স্থান নেই। নিয়ম নীতি সবার জন্য এক। কেন্দ্রীয়ভাবে মঞ্চে বসার সিদ্ধান্ত হলে হাসিনা মহিউদ্দিনের মঞ্চ না থাকার বিষয়টিকে মেনে নেয়া কি বিধি সম্মত নয়?

‘চিলে কান নিয়ে গেছে ‘ বলে দৌঁড়ানোর আগে এ তথ্য প্রযুক্তির যুগে মেয়র নাছির সেদিন হাসিনা মহিউদ্দিনকে কি বলেছেন তা যাচাই করার সুযোগ রয়েছে নানাভাবে। জল ঘোলা করে কে বা কারা সুবিধা নিচ্ছে তা বুঝা দরকার। কারণ দলের ভেতর সংঘাত, বিবাদ করে ব্যক্তিগত ফায়দা কারো হবার ধারণা অমুলক নয়।  তবে এতে করে সামগ্রিকভাবে জনমনে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়েছে চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতি নিয়ে তা হাসিনা মহিউদ্দিন ও মেয়র নাসিরকে ভাবা উচিত।

চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের রাজনীতি ব্যক্তিকেন্দ্রিক বলে বিগত সময়ে নানা কারণে মারামারি হানাহানি হয়েছে। তার আবার সূত্রপাতের আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না এ ঘটনার পর।

আর বর্তমানে দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে যেমন ভালো দিক আছে, তেমন কিছু খারাপ দিক রয়েছে। মেয়র নির্বাচনে নিজ দলের সর্মথন চাইবে বেশ কজন নেতা তা অনুমেয়। তবে জনগণের প্রত্যাশা প্রার্থী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিবেচ্য বিষয় হবে ব্যক্তির কর্ম।

উন্নয়নের গতিধারাতে চট্টগ্রামবাসী কতটা ভালো আছে তা গণমাধ্যম থেকে জানে দেশবাসী। সুতরাং আগামী দিনের মেয়র চট্টগ্রামের সমস্যা নিরসনে বদ্ধপরিকর হতে হবে।

রাজনীতি বিমুখ মানুষকে ভোটের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে হলে পরিবার বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। আবেগ ভালোবাসা বা রাগের বশবর্তী হয়ে রাজনীতির মাঠকে উত্তপ্ত করা জনগণের এখন পছন্দনীয় নয়। এটা উপলব্ধি করতে হবে ব্যক্তি অনুসারী নেতা, কর্মীদের। আর সে নেতা বা কর্মী নাছির মহিউদ্দিন যে গ্রুপেরই হোক না কেন তাকে ভুলে গেলে চলবে না, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আওয়ামী লীগে তার কন্যা শেখ হাসিনা ‘ ভাইয়ের রাজনীতিকে ‘ প্রশয় দেয় না।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Bellow Post-Green View