চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঘুম ভেঙ্গেছিলো গুলির শব্দে, উঠে দেখি সিঁড়িতে বাবা-মায়ের রক্তাক্ত লাশ: পরশ

বিভীষিকাময় ৭৫’র ১৫ আগস্ট সকালের বর্ণনা দিতে গিয়ে সেদিনের শিশু যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির জ্যেষ্ঠ পুত্র যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন: সাধারণত সকালে আমাদের ঘুম ভাঙতো আজানের শব্দে, কিন্তু সেদিন ঘুম ভেঙ্গেছিলো গুলির শব্দ। সে সকালে দৌঁড়ে সিড়িতে এসে দেখি বাবা-মায়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে!

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত শোকের মাসে ১৫ ও ২১ আগস্টের শহীদদের স্মরণে এক শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তার স্মৃতিচারণ নেতাকর্মীদের সামনে এ ভাবে তুলে ধরেন৷

বিজ্ঞাপন

২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন পরশ৷ ঘাতকদের বুলেট থেকে সেদিন বেঁচে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন: বাবা-মা’কে হত্যা করার পর ঘাতকচক্র বারবার আমাদের দুই ভাই (তাপস) ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হন্যে হয়ে খুঁজেছে হত্যা করার উদ্দেশ্যে। জীবন বাঁচাতে সেদিন বাসা থেকে এক কাপড়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছিলো।

বিজ্ঞাপন

সেদিনের শিশু পরশের জন্য অভিজ্ঞতাটা কতোটা নির্মম ছিলো তা তুলে ধরে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন: সেসময় মৃত্যু কাকে বলে আমাদের কাছে বোধগম্য ছিলো না, বুঝতাম না একজন মানুষ কিভাবে আরেকজন মানুষকে হত্যা করতে পারে!

তিনি বলেন, ৭৫’র ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির ইতিহাস থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে দেওয়ার অপচেষ্টা হয়েছিলো। আর ৭১’র পরাজিত শক্তি ও তাদের পকিস্তানী প্রভুদের ইতিহাস হরনকারী এ চেষ্টায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত।

স্মরণ সভা শেষে দোয়া মাহফিল

যুবলীগের চেয়ারম্যান এসময় আরও বলেন: ১৫ আগাস্টের জাতির পিতাকে স্ব-পরিবারে হত্যা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার মাস্টার মাইন্ডরা একই।

বিজ্ঞাপন

এসময় তিনি বিএনপির রাজনীতিকে ‘নারকীয় রাজনীতি’ বলে সমালোচনা করেন।

কারা ৭৫’র খুনিদের মদদ দিয়েছে, পুনর্বাসন করেছে; বিভিন্ন সময় দূতাবাস গুলোতে চাকুরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে, ইনডেমনিটি দিয়ে বিচারের পথ রূদ্ধ করেছে তা জাতির সামনে পরিষ্কার৷ একই শক্তি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময় কারা রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে এ নৃশংসতায় প্রত্যক্ষভাবে মদদ জুগিয়ে জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছিলো সেটাও এখন প্রকাশ্য দিবালোকের মতো স্পষ্ট। ৭১’র ঘাতকদের যেভাবে বাংলার মাটিতে বিচার করা হয়েছে, ১৫ ও ২১ আগস্টে নেপথ্যের ক্রিড়ানকদেরও বিচার হবে বলে এসময় যুবলীগ কর্মীদের বার্তা দেন পরশ।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াতের ইতিহাস হরনকারী চক্রান্ত থেকে বাঙালি জাতির ইতিহাস ও যুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ফিরিয়ে এনেছেন মন্তব্য করে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন: আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নকে এগিয়ে নিচ্ছেন। এবং তা বাস্তবায়নের দারপ্রান্তে দাড়িয়ে আছেন৷ এমন সময়ে যুবলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সভাপতির হাতকে শক্তিশালী করার জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখছেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল

শোক আলোচনায় বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে সাংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা-পুনর্বাসনের এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর ফাঁসির রায় কার্যকর দাবি জানান যুবলীগের পক্ষ থেকে।

স্মরণ সভায় ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি মাইনুদ্দিন রানা’র (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণের সহ সভাপতি আহাম্মদ উল্লাহ মধু, সোহরাব হোসেন স্বপন, যুগ্ন সম্পাদক জাফর আহমেদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু,মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক এমদাদুল হক এমদাদসহ অনেকে।

সভা পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়৷ শেষ, উপস্থিত নেতাকর্মী ও দুস্থদের মাঝে তোবারক বিতরণ করা হয়।