চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফেসবুকে ক্ষোভ জানিয়ে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও মধুর ক্যান্টিনে মারামারির ঘটনায় বহিষ্কৃত হওয়া জারিন দিয়া।

ঘটনার পরপরই তাকে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সেখানেই ভর্তি আছেন সদ্য বহিষ্কৃত ওই ছাত্রলীগ নেত্রী।

বিজ্ঞাপন

দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ, তারমধ্যে জারিন দিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার রাতে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।

আত্মহত্যার চেষ্টার আগে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য জারিন দিয়া। সেখানে ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক গোলাম-রাব্বানীর উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে জারিন ফেসবুকে লিখেছেন:

বিজ্ঞাপন

‘গত ১৩ তারিখ পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার পর যখন দেখলাম আমার নামটি নেই, তখন ভাবলাম- হয়তো যোগ্য না। তাই হয়তো আমার নামটি দেয়নি। এক পর্যায়ে শোভন ভাইকে ফোন দিলাম। ভাইকে বললাম, ভাই আমাকে কেনো কমিটিতে রাখা হলো না? আমি শুনতে চেয়েছিলাম তিনি হয়তো বলবেন, আমি যোগ্য না। রাজনীতি করতে থাকো, পাবে একসময়। কিন্তু না……

ভাই আমাকে বললেন; তোকে অনেক রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু রাব্বানীর জন্যে তোকে রাখতে পারিনি। রাব্বানীর তোর ওপর ব্যক্তিগত ক্ষোভ। আমাকে ভুল বুঝিস না। কথাটা শুনে কাঁদবো না হাসবো বুঝতে পারলাম না। তখন আমি শোভন ভাইকে বললাম ব্যক্তিগত ক্ষোভের সেই ঘটনাটা। আরও বললাম, কোনোদিন যদি আপার সামনে যেতে পারি ভাই, আমি আপাকে একটা বার বলতে চাই- আপা সম্মেলনের আগে রাব্বানী ভাই এর সাথে এই বিষয়টা নিয়ে কথাকাটি হয়। তখন ভাই আপনি কী উত্তর দেবেন? কোনও উত্তর দিতে পারেননি শোভন ভাই। রাব্বানী ভাইকে অনেক বার ফোন দিয়েছি। উনি ফোন ধরেননি।

তাই সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে আমার সঙ্গে রাব্বানী ভাইয়ের ক্ষোভের ঘটনাটি উল্লেখ করি। যেটা ভাইরাল হয়ে যায়। আজ সেই স্ট্যাটাসটার জন্যে আমাকে ছাত্রলীগ থেকে তারা বহিষ্কার করে দিলেন? আমার দেশরত্নের কাছে একটা প্রশ্ন রেখে যেতে চাই; আমরা মেয়েরা আর কতটা অসম্মানিত হলে তাদের যোগ্য বলে মনে হবে? শোভন-রাব্বানী ভাই আপনাদের একটা কথা বলে যেতে চাই, ব্যক্তিগত ক্ষোভ না দেখিয়ে যারা সংগঠনের জন্যে কাজ করে তাদের মূল্যায়ন দিয়েন। আমি সেদিনের মারামারিতে যখন কোমরে আঘাত পেলাম, কই আপনারা তো আমার একটা খোঁজ নিলেন না! আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। জানি না কী করবো। আমি যদি মারা যাই শোভন-রাব্বানী ভাইদের কাছ থেকে উত্তরগুলি নিয়ে আমাকে কলঙ্কমুক্ত করবেন পারলে। রাজনীতি করতে এসে রাজনৈতিক নেতাদেরই দ্বারা এতটা অসম্মানিত হবো কোনোদিন ভাবতেও পারি নি।’

গত ১৩ মে সোমবার ইফতার পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংগঠিত ঘটনা তদন্তে ওইদিনই তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছিল ছাত্রলীগ। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে সংগঠনটি গতকাল সোমবার ওই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হল ছাত্রললীগের কর্মী সালমান সাদিক। আর সংগঠনটির বিজ্ঞান অনুষদ শাখার সাধারণ সম্পাদক গাজী মুরসালিন অনু, জিয়া হল শাখার সদস্য কাজী সিয়াম, জিয়া হল শাখার কর্মী সাজ্জাদুল কবির এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য জারিন দিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

Bellow Post-Green View