চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঘরবন্দি ক্রিকেটারদের ফিটনেসের কী অবস্থা?

করোনাভাইরাসের কারণে মাঠের সঙ্গে ক্রিকেটারদের বিচ্ছেদ কেবলই দীর্ঘ হচ্ছে। তিন মাস ধরে ঘরবন্দি অবস্থায় আছেন মাশরাফী-তামিম-মুশফিকরা। দেশের ক্রিকেটাররা শেষ মাঠে নেমেছিল ১৬ মার্চ।

কঠিন এ সময়ে ফিটনেস ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আশা জাগানিয়া খবর হল, টাইগার ক্রিকেটাররা ঘরে থেকেও নিজেদের অন্তত ৭০ শতাংশ ফিট রাখতে পেরেছেন।

বিজ্ঞাপন

শারীরিক ও মানসিকভাবে হিসেব করলে সেটি আরও বেশি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। তিন সংস্করণে পাইপলাইনে থাকা প্রায় ৩৫ ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে জরিপ করেছে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

ক্রিকেটাররা সবশেষ অবস্থার কথা জানিয়ে মেইল পাঠিয়েছেন বিসিবির ডাক্তার, ট্রেনারের কাছে। ফোন কল, ভিডিও কলেও হয়েছে যোগাযোগ। তারই ভিত্তিতে গত সপ্তাহে তৈরি করা হয়েছে রেজাল্ট কার্ড।

খেলোয়াড়দের ফিটনেসে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী চ্যানেল আই অনলাইনকে বললেন, ‘ঘরে নানারকম সীমাবদ্ধতা থাকার পরও ক্রিকেটাররা যেভাবে ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছে সেটি দারুণ। ৭০ শতাংশ ফিট অবস্থায় তারা আছেন। খেলা থেকে যেহেতু অনেকদিন ধরেই দূরে, মানসিক প্রভাবকেও গুরুত্ব দিয়েছি। তারা ভালো অবস্থাতেই আছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে যদি বলি ৭০-৮০ শতাংশ ফিট। আনুষ্ঠানিকভাবে অনুশীলন শুরু হলে আমাদের লক্ষ্য থাকবে তাদের ফিটনেস একশ বা এর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া।’

বিজ্ঞাপন

করোনায় বিসিবির ক্রিকেটীয় কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পরপরই বাসা থেকে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের মৌলিক কাজগুলো করতে গাইডলাইন তৈরি করে দেন বিসিবির নতুন ফিজিও নিক লি। ফিট থাকতে কীভাবে কী করবেন ক্রিকেটাররা, তার একটি তালিকা আপলোড করে দেয়া হয় বিসিবির ওয়েবসাইটে। কঠিন পরিস্থিতিতে মানসিক দিকগুলো নিয়ে কাজ করার জন্য বিসিবির চিকিৎসক দল একটি লিখিত ডকুমেন্ট তৈরি করে। যা অনুসরণ করে ভালো, সুস্থ ও ফিট আছেন সব ক্রিকেটারই।

বিসিবির চিন্তা ছিল জুনের মাঝামাঝি ক্রিকেটারদের অনুশীলনে ফেরানোর। কিন্তু তা থমকে গেছে দেশের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠায়। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে ক্রিকেটারদের জন্য কীভাবে মাঠের অনুশীলন শুরু করা যায়, সে গাইডলাইন তৈরি করেছেন ডা. দেবাশীষ। বিসিবি গ্রিন সিগন্যাল দিলেই শুরু হবে প্রস্তুতি।

‘আমরা বেশ কয়েক ধরনের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। অনুশীলনে খেলোয়াড়দের কবে ডাকা হবে সে সিদ্ধান্ত নেবে বিসিবি। অনুশীলন শুরুর ব্যাপারে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে বলেছে বোর্ড। কোন পদ্ধতি কার্যকর হবে সেটি নির্ভর করবে কোন লক্ষ্যে খেলোয়াড়রা অনুশীলন করবে। বাংলাদেশ যদি শ্রীলঙ্কা সফরে যায় তাহলে একধরনের, যদি না যায় তাহলে আরেক ধরনের।’

‘প্রস্তুতির সময় কম পাওয়া গেলে হাই-ইনটেনসিটি অনুশীলন করতে হবে। ফিটনেসের পাশাপাশি স্কিল ট্রেনিংও শুরু করে দিতে হবে। তখন বিদেশি কোচদেরও দরকার পড়বে। দ্রুত সবকিছু শুরু করতে গেলে সেটি আবার খেলোয়াড়দের জন্য ক্ষতির কারণও হতে পারে। প্রস্তুতির সময় বেশি পেলে শুরুতে ফিটনেস, ধীরে ধীরে স্কিল ট্রেনিং ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং শুরু হবে।’

‘টেস্ট সিরিজ থাকলে হয়ত দলীয় অনুশীলন শুরু করে দিতে হবে। তখন খেলোয়াড় সংখ্যা থাকবে ১৫ জনের মতো। তাদের আইসোলেশনে রাখার প্রয়োজন পড়বে। দেশের বাইরে খেলতে যাওয়ার আগে করোনা টেস্ট হলে অবশ্যই আইসোলেশন প্রয়োজন পড়বে। বাসায় থাকলে তো মনিটরিং সম্ভব হবে না। বিসিবি একাডেমি ভবন বা হোটেলে তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।’

‘সিরিজ না হলে ৩০-৩৫ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। অনুশীলন হবে আলাদা আলাদা। স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুম কিংবা টয়লেট ব্যবহারে আমরা অনুৎসাহিত করবো। ক্রিকেটাররা বাসা থেকে সব প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে আসবে। নির্দিষ্ট একটি সময় যেমন এক-দেড়ঘণ্টা বরাদ্দ থাকবে। এসেই কাজ শুরু করে দেবে এবং সময়মত চলে যাবে।’