চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গ্রামে থাকা শ্রমিকদের কাজে ফিরতে হবে না: বিজিএমইএ

কেউ না ফিরলে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না

দিনভর ঢাকা-গাজীপুরমুখী লাখ লাখ পোশাক শ্রমিকের ঢল নামার পর তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, করোনা প্রতিরোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধে গ্রামে থাকা শ্রমিকদের কাজে না ফিরতে হবে না।

সংগঠনটি বলছে, বিধিনিষেধ পুরোপুরি শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে যোগ না দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শনিবার এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বিজিএমইএ।

এতে সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসান কারখানা মালিকদের উদ্দেশে বলেন, বিধিনিষেধ পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত গ্রামে অবস্থানরত কোনো শ্রমিক-কর্মচারী কারখানায় কাজে যোগদান করতে না পারলে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। কারখানার আশপাশে অবস্থানরত শ্রমিকদের নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সদস্যদের আহ্বান জানাচ্ছি।

উদ্যোক্তাদের দাবির মুখে শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে, ১ আগস্ট (রোববার) থেকে গার্মেন্টসসহ রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে।

জানা গেছে, এই প্রজ্ঞাপন জারি করার পর অঘোষিতভাবে কারখানা মালিকরা শ্রমিকদের কাজে যোগ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ কারণে পরিবহন বন্ধ থাকায় গ্রামে থাকা শ্রমিকরা পায়ে হেঁটে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

শ্রমিকদের পায়ে হেঁটে না আসার জন্যই এমন বিবৃতি দিয়েছে বিজিএমইএ।

বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি বলেন, সার্বিক দিক বিবেচনা করে সরকার আগামীকাল রোববার থেকে সব রপ্তানিমুখী শিল্প ও কলকারখানা বিধিনিষেধের আওতা বহির্ভূত রাখতে গতকাল শুক্রবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এই জন্য সরকারের কাছে আমরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। করোনার এই ক্রান্তিকালে রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে দেশ ও অর্থনীতি এবং জীবন ও জীবিকা দুটোই সমন্বয়ের স্বার্থে সব রপ্তানিমুখী শিল্প ও কলকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ অবস্থায় কারখানা পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত এবং বিজিএমইএ’র দেয়া সব নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সদস্যদের আহ্বান জানান তিনি।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, পোশাক শিল্পে কর্মরত সম্মুখসারির যোদ্ধাদের জন্য করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এজন্য সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। রপ্তানি বাণিজ্যে গতি ধরে রাখতে শ্রমিকদের শতভাগ টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। শ্রমিকদের নিরাপত্তায় করোনার টিকার ব্যাপারে সহায়তা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে আমরা আহ্বান জানিয়েছি।

কঠোর লকডাউনের মধ্যে শিল্প-কলকারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণার প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে  বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ নামের শ্রমিকদের একটি সংগঠন।

আজ শনিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, করোনার উচ্চ সংক্রমণের কারণে পরীক্ষা বিবেচনায় প্রতি তিন জনে একজন শনাক্ত হচ্ছেন এবং প্রতিদিন দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটছে; আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বিবেচনায় নিলে তা দ্বিগুণের বেশি। এমতাবস্থায় চলমান লকডাউন আরও ১০ দিন বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবের পরও সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১ আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী সব শিল্প-কলকারখানা খুলে দিচ্ছে।

তারা বলেন, শ্রেণিবিভক্ত এই রাষ্ট্রে আবারও এ ঘটনায় প্রমাণ হয়- সরকারের কাছে মানুষের জীবনের চেয়ে মালিকদের স্বার্থরক্ষাই বড়! গার্মেন্টস মালিকরা ঈদের আগে শ্রমিকদের সর্বোচ্চ খাটিয়ে ছুটি দেন ঈদের আগের দিন। সেই সময়ই অনেক মালিক ২৭/৩১ তারিখের মধ্যে কারখানায় কাজে যোগ দেয়ার কথা শ্রমিকদের জানিয়ে দেন। এমনকি অনেক মালিক শ্রমিকদের ঈদ বোনাসও পরিশোধ করেননি।

বিবৃতিতে বলা হয়, মালিকরা শ্রমিকদের মজুরি বোনাস পরিশোধে বারবার সরকারের কাছে প্রণোদনা নিচ্ছেন। ঈদের ছুটি বাদ দিলে মাত্র এক সপ্তাহের কারখানা বন্ধের কথা বললে মালিকরা রপ্তানি আদেশ তথা বিদেশের বাজার হাতছাড়া হওয়া এবং লোকসানের কথা সামনে আনেন। যদি এত রপৃতানি অর্ডার থেকে থাকে তাহলে শ্রমিকদের মজুরি বোনাস পরিশোধের সময় কেন বারবার লোকসানের অজুহাত তুলে ধরা হয়- এমন প্রশ্ন রাখেন তারা।