চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গোলাম আযমের কফিনে জুতা ছুঁড়ে মারা ব্লগারের যে লেখায় তোলপাড়

গোলাম আযমের কফিনে জুতা ছুঁড়ে মারা ব্লগার মাহমদুল হক মুন্সীর একটি লেখায় অনলাইনে দেশে বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কেনো তিনি জার্মানি চলে যেতে বাধ্য হলেন সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি এমন কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন যাতে সময় সময় ব্লগারদের তালিকা করে যে হুমকি দেওয়া হতো সেই তালিকা কারা আসলে করতো সেটা নিয়ে যেমন প্রশ্ন আছে তেমনি হত্যার নেপথ্যে কারা আছে তা নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এমনকি ব্লগার হওয়ার কারণে গণজাগরণ মঞ্চের ছাত্রনেতারা কিভাবে তাকে এবং অন্যদেরকে হেনস্তা করতেন তারও বর্ণনা দিয়েছেন মঞ্চের সাবেক এ সংগঠক। সিলেটটুডে২৪.কমে প্রকাশিত ওই লেখায় এখন জার্মানি প্রবাসী মাহমুদুল হক মুন্সী এমন বৈঠকের প্রসঙ্গও তুলেছেন যেখানে ষড়যন্ত্রমূলক বিষয়-আশয় থাকার কারণে তিনি নিজেকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ছোটবেলা থেকেই পারিবারিকভাবে কানাডা চলে যাওয়ার সুযোগ থাকার পরও কেনো তিনি তখন না গিয়ে পরে জার্মানি চলে যেতে বাধ্য হলেন তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি লিখেছেন: মানুষ নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ পাড়ি দেয় অনেক কারণে। কেউ পড়াশোনার জন্য, কেউ চাকুরির জন্য, কেউ ব্যবসার জন্য, কেউ অন্য মানুষের প্রতি ভালোবাসায় আর কেউ উন্নত জীবনের লোভে। আমার জন্য উক্ত কোন কারণই কাজ করেনি। আমাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে বেঁচে থাকার জন্য।

যেভাবে টার্গেট
মাহমুদুল হক মুন্সী কিভাবে মৌলবাদী শক্তি এবং রাজনৈতিক দাবা খেলোয়াড়দের টার্গেট হলেন তার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেছেন: আমার শক্তির জায়গাটুকু ছিলো লেখালেখি। আমি লিখে লিখে অনেক কিছু করবার চেষ্টা করেছি, করে ফেলেছিও কিছু কিছু যা কোনদিন ভাবিনি আমার পক্ষে সম্ভব। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লেখালেখির পাশাপাশি তাই জড়িয়ে যাই ব্লগে ‘কুখ্যাত নাস্তিক’ বলে পরিচিত মানুষগুলোর সাথে। ব্লগার দিনমজুরের মুক্তির ডাক দিয়ে আন্দোলন করা, ব্লগ আড্ডার আয়োজন বা চট্টগ্রামে ভূমিধ্বসে মানুষের জন্য সাহায্য তোলা কিংবা ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনের গ্রেফতারের প্রতিবাদে আন্দোলন করা, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পাকিস্তানে যাবে না এরকম অনেকগুলি ইভেন্ট যার কিছু কিছু মনেও নেই।

‘শত্রু বাড়তে থাকে। মোবাইল নাম্বার ওপেন ছিলো ব্লগে তাই কল করে হুমকি ধমকি দিতো কিছু মানুষ। ব্লগে পোস্ট দেয়া হতো সরকার চেঞ্জ হলে কোন দশজন ব্লগারের লাশ পড়বে। আমার নাম থাকতো সেসব লিস্টে। আমরা পাত্তা দিতাম না। কারণ ব্লগের লেখালেখির কারণে ব্লগার খুন হবে এটা ছিলো এক ধরনের হাস্যকর চিন্তা তখন।’

সেই হাস্যকর চিন্তাটাই কিভাবে সত্যি হয়ে দেখা দিলো তার কথা তিনি লিখেছেন এভাবে: ২০১৩-র ১৪ই ফেব্রুয়ারি। আমার খুব কাছের একজন মানুষ, একজন ব্লগার থাবাবাবা কে হত্যা করা হয় কুপিয়ে তাঁর বাসার সামনে। গণজাগরণ মঞ্চের প্রথম সারির একজন হওয়ার কারণে ফেসবুক, মোবাইলে তখন হুমকি ছিলো নিত্যদিনের উপসঙ্গ। এই হত্যার পর সে হুমকি আরো বেড়ে যায়। কিন্তু গা করতাম না কারণ তখন সরকারের পুলিশি নিরাপত্তা সার্বক্ষণিক ছিলো মঞ্চের সংগঠক হিসেবে।

‘অবস্থা নাজুক হয় হেফাজত ঢাকায় সমাবেশের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে। কোন কোন ছাত্রসংগঠনের নেতারা আমাদের মঞ্চে দাঁড়াতে দিতে চাইতেন না ব্লগার বলে। গালাগালি করা হতো। মনে আছে রায়েরবাজার সমাবেশের দিন আমাকে বলা হয় “লাথি মেরে সব ব্লগারদের মঞ্চ থেকে ফেলে দেবো, শালা নাস্তিক!”
তিনি বলেন: আন্দোলনের স্বার্থে শুনেও না শোনার ভান করে সরে গেছি। এর মাঝে আমার পরিচিত ও কাছের চারজন ব্লগারকে গ্রেফতার করে সরকার। এই চারজনের ভেতর একজন আমার ব্যাপারে কিছু নাস্তিকতার প্রমাণাদি হস্তান্তর করে ডিবি পুলিশের কাছে। আমি তাকে দোষ দেই না, সে ভীত হয়ে এই কাজটি করেছিলো।

তিনি লিখেছেন: তারপর শুরু হয় জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচার। আমাকে বলে আমাদের হাতে সব আছে, আপনাকেও গ্রেফতার করা হবে। এর মাঝে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে পৌঁছে দেয়া হয় ৮৪ ব্লগারের লিস্ট, যার ভেতর আমার নাম উল্লেখ করা ছিলো। এর মাঝে একবার শাহবাগ থেকে টিএসসির দিকে যাবার পথে ভিড়ের ভেতর গান পাউডার মেরে আমার গায়ের চাদরে আগুন ধরিয়ে দেবার চেষ্টা করে, সাথে থাকা সহযোদ্ধারা সাথে সাথে সেটা নিভিয়ে ফেলে। কিন্তু ধরতে পারেনি ভিড়ের কারণে অপরাধীকে।’

জঙ্গিগোষ্ঠির নামে কিছু ভুয়া তালিকা
ব্লগারদের তালিকা করে যে হুমকি দেওয়া হতো তার সবই যে জঙ্গি গোষ্ঠির কাছ থেকে আসতো না সেই কথাও বলেছেন মাহমুদুল হক মুন্সী।

তিনি বলেন: ফেসবুকে একটা লেখা লিখতে পারতাম না, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা অফিস থেকে কল চলে আসতো। বলতো এইটা ঠিক লিখেছেন, ঐটা ঠিক লেখেননি, মুছে ফেলুন। এর ভেতর কয়েকশ লিস্ট প্রচারিত হয় নামী অনামী খ্যাত-অখ্যাত পত্রিকাগুলিতে, যার বেশিরভাগই ভুয়া।

‘আমাদের কয়েকজন সহযোদ্ধা নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ করবার জন্য নিজের নাম আরো প্রাসঙ্গিক বিশ-ত্রিশটা নামের সাথে ঢুকিয়ে দিয়ে পত্রিকাগুলিতে পাঠাতো। একবার একজন সহযোদ্ধা ধরাও খেয়ে গেছিলো, তাকে তেমন কিছু বলিনি আমরা।’

একের পর এক হামলা
তার এবং তাদের উপর একাধিক হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন: আমার জন্য সবচেয়ে ভীতিকর দিনটি ছিলো ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও রোডমার্চের দিনটি। বাস বগুড়ার শেরপুর পৌঁছানোর একটু আগে আমাদের সিট লক্ষ্য করে বোম ছুঁড়ে মারে। বোমটি লাগে আমি যেখানে বসে ছিলাম সেই জানালার ঠিক নিচে বাসের গায়ে। বাসের গায়ে প্রায় গর্ত হয়ে যায়।

‘শেরপুর পার হবার পর চারপাশ থেকে আক্ষরিক অর্থেই বৃষ্টির মতো বোম ছুড়ে মারা হচ্ছিলো ও গুলি করা হচ্ছিলো। সামনের বাসটিতে পেট্রল বোমা ছুড়ে মেরেছিলো, কোন একটা কারণে আগুন ধরেনি। আগুন ধরলে বাসের একজনও মনে হয় বাঁচতো না।’

একটি বৈঠকে ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত
তার লেখায় মাহমুদুল হক মুন্সী জানান: এর মাঝে আমাকে উপস্থিত করা হয় এমন একটি মিটিং এ যে মিটিং থেকে পরিকল্পনা হচ্ছিলো কিভাবে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হওয়া যায়। সেখানে বসেই আমি সিদ্ধান্ত নেই আমি আদার ব্যাপারী আদার দোকানে ফেরত যাই। সশস্ত্র বাহিনীর যার যার নাম শুনেছিলাম সেই মিটিং এ বসে।

বিজ্ঞাপন

‘তারপর আমার ভেতর ভয় ঢুকে যায় আমি যদি এই ষড়যন্ত্রের সাথে থাকতে না চাই, তাহলে হয়তো পরিবার সহ আমাকে গুম করে ফেলা হবে। আমার মা অসুস্থ, আমার শরীর খারাপ এরকম বিভিন্ন অজুহাতে আমি আস্তে ধীরে সরে আসি সেই অবস্থান থেকে।’

তিনি বলেছেন: দেশ ছাড়ার আগেরদিন পর্যন্ত আমার ভয় ছিলো হয়তো আমাকে খুন করে ফেলে রেখে জামায়াত শিবির বা আনসারুল্লাহর নামে একটা প্রেস রিলিজ দেয়া হবে। এবং সেটা করবে আমাদের পক্ষেরই মানুষেরা।

গোলাম আযমের কফিনে জুতা এবং নিয়মিত হুমকি ধমকি
তিনি জানান: হুমকি ধমকি আরো তীব্র হয় গোলাম আজমের লাশে জুতা মারার পর। নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসতে পেরেছিলাম সেদিন আমার সহযোদ্ধাদের ও পুলিশের কারণে।

‘জুতা মারার পর হাঁটতে হাঁটতে ফিরে আসছি যখন পেছন থেকে দৌড়ে এসে জামাত-শিবির লাথি মারে আমাকে, ছিটকে গিয়ে পুলিশে গায়ের ওপর পড়ি। তখন ধরেই নিয়েছি মারা যাচ্ছি আমি। কারণ তখন ওখানে জামাত-শিবিরের কর্মী কয়েক হাজার। মরে যাবার আগে কয়েকটারে নিয়ে মরার ইচ্ছে থাকায় ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম, পেছন থেকে শাওন আপা, রুসমত ভাই ও কানিজ আপা টেনে হিঁচড়ে না নিয়ে আসলে এবছর পঁচিশে অক্টোবর আমার স্মরণে শোকসভা করতে হইতো।’

তিনি লিখেছেন: প্রায় প্রতিদিন ফোনে হুমকি দিতো, ফেসবুকের আদার বক্স ভরে গেছিলো গালি ও খুন করে ফেলার হুমকির স্রোতে। একটা জিডি করেছিলাম তখন স্থানীয় থানায়। সেই জিডির কোন তদন্ত আজ পর্যন্ত হয়নি।

একের পর এক ব্লগার হত্যাকাণ্ড
মুন্সী লিখেছেন: অভিজিৎদাকে মেরে ফেলার পর খুব রাগ হয়েছিলো। অনেকে আমাকে বলেছিলো, চলেন ওদের খুন করি। চাইলে একটা আন্ডারগ্রাউন্ড টিম তৈরি করা ব্যাপার ছিলো না। কিন্তু ভাবতাম কাকে হত্যা করবো? আমি তো নিশ্চিত নই কে আমার ভাইদের হত্যা করছে।

‘সেসময় ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা আপা আমাকে নক করে বলেন, আপনি দেশের বাইরে চলে আসেন। আমি রাজি হইনি। আমি বলেছি আপা আমি কোথাও এসাইলাম নিবো না। সাময়িক এক বা দুইমাসের জন্য যদি অবস্থা খুব খারাপ হয় তাহলে বাইরে যেতে পারি। কিন্তু চিরতরে আমি দেশ ছাড়বো না। আপা খুব ক্ষেপে গেছিলেন। তবু বলেছিলেন, কখনো যদি চলে আসতে চান বাঁধন, আমাকে জানাবেন।’

মাহমুদুল হক তিনি লিখেছেন: ওয়াশিকুর বাবুকে খুন করার পর অক্ষম ক্রোধে কেঁদেছি। আমার মনে আছে তামান্না সেতু আপু আমারে ফোন করে বললেন বাবুর লাশটা ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পড়ে আছে, কেউ নেই ওখানে, তুই একটু যাবি? আমি উনাকে বললাম আমি কাউকে পাঠাচ্ছি। কাকে যেন ফোন করে যেতে বলে আমি ঘরে বসে থরথর করে কাঁপছিলাম রাগে। অনন্ত বিজয় হত্যার পর আমি বাইরে যাওয়া প্রায় একদম বন্ধ করে দেই।

‘এর মাঝে নিলয় নীল খুন হয়ে যায়।  এর আগের হত্যাকাণ্ডগুলি রাস্তায় হলেও এবার ঘরে ঢুকে মেরে ফেলা হয়। আমি তখন কয়েকজন ছোটভাইকে ডেকে এক ধরনের প্রতিরোধ কমিটি করার কথা ভাবি। এর মাঝে আমাকে এক সাংবাদিক বড় ভাই, যিনি জাহানারা ইমামের সময়ে আন্দোলনে ছিলেন, ডেকে অনুসরণকারীদেরকে অনুসরণ ও নিষ্ক্রিয় করার কথা বলেন। প্রস্তাবটা আমার পছন্দ হয়। আমি বেশ কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করে পরিকল্পনাটি বলি। তারা সবাই রাজি হয়। দুইটি মিটিং ও করা হয়। এর ৩/৪ দিনের মধ্যেই আমাকে ফলো করা শুরু হয়।

বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল
মুন্সীকে অনুসরণ শুরু হলে তিনি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান বলে লিখেছেন। ‘আমার মনে আছে নিলয়কে হত্যার মাস দুয়েক আগে ফলো করা হয়েছিলো ।’

‘এদিকে আমি শিওর না আমার উদ্যোগের কারণে কোন লিকেজের মাধ্যমে এই কথা ওদের কানে পৌঁছানোর জন্যই কি এই ফলো করা শুরু কিনা। সেজন্য ঐ একই উদ্যোগ নিজের জন্য খাটাতে পারছি না। এদিকে পুলিশকেও বিশ্বাস করি না। কারণ পুলিশের কোন আগ্রহ নেই আবার পুলিশের কান বেয়ে ওদের কানে পৌঁছে যাবে কিনা কথা তাও জানিনা। গলির মুখে সার্বক্ষণিক মৃত্যুদূত।’

পেছন থেকে ছুরির আঘাতে পরাজিত হতে চাননি মুন্সী
তিনি লিখেছেন: আমার মনে একটি অপরাধবোধ আছে। যে যুদ্ধটা আমরা করছিলাম, সে যুদ্ধটা ছেড়ে চলে আসার অপরাধবোধ। কিন্তু এ কেমন যুদ্ধ? ছায়ার সাথে মানুষ কিভাবে যুদ্ধ করে? যদি সরাসরি কোন যুদ্ধ লাগে আমার বাংলাদেশে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষগুলির সাথে বিপক্ষের মানুষের, প্রগতিশীলতার সাথে অন্ধত্ববাদের, আমাকে অস্ত্র হাতে সবার সামনে দেখবেন।

‘কিন্তু অন্ধকারে পেছন থেকে ছুরি খাবার মধ্যে কোন মহত্ব নেই। যারা চাইছিলেন আমি দেশে থেকে যেন মারা যাই, তাঁদের বলতে চাই, আপনাদের চাওয়াটা পূরণ হবে না। আমি বেঁচে থাকবো, আমার করার আছে অনেক কিছু। সব শেষ না করে মরে গেলে তো হবে না।’

বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন: তার মানে কি আমার জীবনের প্রতি বা বেঁচে থাকার প্রতি খুব লোভ বা আগ্রহ? নাহ্, তাহলে বার বার মৃত্যুর মুখোমুখি হতাম না। আমার হাতের ওপর যেদিন বোমা ফেটেছিল সেদিন মারা যেতে পারতাম, যেদিন গান পাউডার ছিটিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিতে চেয়েছিলো সেদিন মারা যেতে পারতাম, বোমাটা বাসের গায়ে না লেগে আমার গায়ে লাগলে মারা যেতে পারতাম। গোলাম আযমের লাশে যখন জুতাটা ছুড়ে মারছিলাম, তখনো জানতাম নিজের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করছি। যেদিন মরে যাবো সেদিন তো মরবোই, তার আগে বেঁচে থেকে যদি জামায়াত-শিবির-মৌলবাদীদের ভিত্তিমূলে আঘাত করে যেতে পারি, তাতেই আমার বেঁচে থাকার সার্থকতা, তাতেই এ জীবন ধন্য!

তিনি লেখাটি শেষ করেছেন এভাবে: আমরা ব্লগার, আমাদের তো রাস্তায় নামার কথা ছিলো না। কথা ছিলো আমরা লিখবো, আমাদের লেখার ধারে সমাজ থেকে ঝরে পড়বে চর্বি, ক্লেদ। সময়ের প্রয়োজনে রাস্তায় নেমেছিলাম, দরকার হলে আবার নামবো। কিন্তু আমাদের মূল কাজ যেটি, তাকে তো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের আরো বেশি করে লিখতে হবে। মনে রাখতে হবে আমাদের দায়িত্ব আরেকটু বেশি। আমার যে বন্ধুটিকে খুন করা হয়েছে আমার ঘাড়ে তাঁর লেখাটি লিখবার দায় আছে। আগে যদি আমি তাঁর মতো করে নাও লিখে থাকি, এখন আমার দায় তার মতো করে লেখার। ওরা চায় আমাদের কীবোর্ড থেমে যাক। আমরা যেন গুটিয়ে যাই সময়ের শামুকে। কিন্তু এখনই আমাদের বেশি করে লিখবার সময়। নিজের লেখাটিও লিখতে হবে, আমার মৃত বন্ধুর লেখাটিও লিখতে হবে। নইলে জয় হবে অন্ধকারের, জয় হবে মৌলবাদের, হিংস্র ধর্মের।