চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গোকুলমের কাছে হেরে গেল বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নরা

চট্টগ্রাম থেকে: স্কোয়াডে একঝাঁক জাতীয় দল তারকা। সল্টলেকে ভারতকে কাঁপানো বাংলাদেশ দলের প্রায় সবাই আছেন বসুন্ধরা কিংসে। তারা আবার বাংলাদেশ লিগ চ্যাম্পিয়নও। সেই দলকেই নাড়িয়ে দিল মাত্র একদিন আগে চট্টগ্রামে পা ফেলা শ্রী গোকুলম কেরালা এফসি। কিংসদের ৩-১ গোলে হারিয়ে জমিয়ে দিল লড়াই!

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের গ্রুপ ‘বি’তে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বসুন্ধরা কিংস ও গোকুলম কেরালা এফসি। ম্যাচে অবধারিত ভাবেই ফেভারিট ছিল কিংসরা। কিন্তু মাঠে নামার পর গোকুলম বুঝিয়ে দিল এশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন শিরোপা ডুরান্ড কাপ তারা এমনি এমনি জেতেনি।

বিজ্ঞাপন

এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে কিংসদের সেরা খেলোয়াড় ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেসকে বোতলবন্দী করে রেখে গোকুলম প্রথমার্ধেই আদায় করে নিয়েছে দুই গোল। ম্যাচটা তাতে প্রথম ৪৫ মিনিটেই হেরে বসেছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথম দুই মিনিট হাল্কা নড়বড়ে থাকলেও খেলা গুছিয়ে পঞ্চম মিনিটেই গোলের সুযোগ এসেছিল বসুন্ধরার সামনে। ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়েছিলেন বিপলু আহমেদ, যা অল্পের জন্য খুঁজে পায়নি লক্ষ্য। ১২ মিনিটে কর্নার থেকে ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেসের শটও একইভাবে বেড়িয়ে গেছে লক্ষ্যের অল্প বাইরে দিয়ে।

বসুন্ধরার আক্রমণ সামলে ২৫ মিনিটে স্বাগতিক দর্শকদের থমকে দেয় গোকুলম। নাথানিয়েল গার্সিয়ার একটি কিক রুখতে ব্যর্থ হন বসুন্ধরার দুই ডিফেন্ডার। দুজনের মাঝখান দিয়ে আসা বল বুকে থামিয়ে জোড়াল শট নেন হেনরি কিসেক্কা। তার শট গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর হাতে লেগে জড়িয়ে যায় জালে।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের ৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে গোকুলম। এবারের হন্তারক আগের গোলের যোগানদাতা নাথানিয়েল গার্সিয়া। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর জাতীয় দলের সাবেক এ খেলোয়াড়ের ফ্রি-কিক ঝাঁপিয়ে ঠেকাতে ব্যর্থ হন বসুন্ধরা গোলরক্ষক জিকো।

পরে ৪৪ মিনিটে একটি গোল প্রায় শোধই হয়ে যাচ্ছিল বসুন্ধরার। ডি-বক্সের বামপ্রান্ত দিয়ে ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেসের ক্রসে দারুণ এক সাইডভলি করেছিলেন রবিউল হাসান। যা বারে বাতাস দিয়ে চলে যায় বাইরে।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে আবারও বসুন্ধরার জালে বল জড়িয়ে দেয় গোকুলম। নাথানিয়েল গার্সিয়ার কাটব্যাকে ডান পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উগান্ডার ফরোয়ার্ড হেনরি কিসেক্কা।

ম্যাচের ৭৪ মিনিটে এসে অবশেষে গোলের খাতা খোলে বসুন্ধরা কিংস। বিশ্বনাথ ঘোষের ক্রসে প্রথমে হেড নিয়েছিলেন কলিন্দ্রেস। তার হেডে বল বারে লেগে চলে যায় এলিটা কিংসলের পায়ে। এলিটার জোরের সঙ্গে নেয়া শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফিরলে বল পান মতিন মিয়া। মতিন ব্যর্থ হননি। গোকুলম গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে।

পরে ৭৬ মিনিটে আরেকবার ব্যবধান প্রায় কমিয়েই ফেলেছিলেন মতিন। কলিন্দ্রেসের পাস থেকে পাওয়া তার শটটি এবার আর গোল হয়নি। লেগেছে বারে। গোলটি হলে ম্যাচের মোড় ঘুরেতে পারত!

শেষদিকে ৮৭ মিনিটে আবারও গোলমুখি গোলা ছুঁড়েছিলেন মতিন মিয়া। এবার বাধা হয়ে দাঁড়ান গোকুলম গোলরক্ষক উভায়ো কাদাবাথ। তাকে ফাঁকি দিতে না পারায় ব্যবধান আর কমানোর সুযোগ পায়নি কিংসরা।

Bellow Post-Green View