চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Cable

গুডবাই সৈয়দ শামসুল হক, প্রিয় হক ভাই

Nagod
Bkash July

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট
ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক
স্ট্যাটাসে তিনি তুলে ধরেছেন সৈয়দ হকের সঙ্গে স্মৃতিসহ চ্যানেল আইয়ের
‘শ্রদ্ধায়’ অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিক।

Reneta June

ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের কালের সাংস্কৃতিক অঙ্গণের সবচে মেধাবী পুরুষ সৈয়দ শামসুল হক চলে গেলেন না ফেরার দেশে। মরণব্যাধী ক্যান্সার তাঁকে কেড়ে নিয়েছে আমাদের কাছ থেকে। কিছুদিন আগেই তিনি লন্ডন থেকে ফিরে এসেছিলেন বাংলাদেশে, চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই। কারণ ওখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন সৈয়দ হকের ক্যান্সার সারাতে অপারগ পৃথিবীর চিকিৎসা বিজ্ঞান। ছয় মাস সময় বেঁধে দিয়েছিলন চিকিৎসকরা। জীবনের শেষ সময়টা প্রিয় বাংলাদেশেই কাটাতে চেয়েছিলেন সৈয়দ শামসুল হক। আর তাই ফিরে আসা তাঁর, স্বদেশের মাটিতে।

আমরাও মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু তারপরেও মেনে নিতে পারছি না অসাধারণ মেধার দীপ্তিতে দীপ্যমান বাংলা সাহিত্যের সবচে শক্তিমান লেখকের এই মৃত্যু।যে কোনো মানুষের ৮১ বছরের জীবনকে মোটামুটি দীর্ঘই বলা চলে কিন্তু সৈয়দ শামসুল হকের বেলায় তাঁর ৮১ বছর বয়েসের এই প্রয়াণকে মনে হয় অকাল প্রয়াণ।

কতো স্মৃতি আমার, সৈয়দ শামসুল হককে ঘিরে! একদিন দুদিনের স্মৃতি তো নয়! বলা চলে আমি আমার শৈশব থেকেই এই মানুষটির সান্নিধ্যের গৌরবে অভিষিক্ত। সর্বশেষ, এ বছর মার্চে চ্যানেল আই ভবনে আমীরুল ইসলামের কক্ষে মাযহার আমীরুল আর আমার সঙ্গে প্রিয় হক ভাইয়ের পরপর কয়েকদিনের দীর্ঘ দীর্ঘ আড্ডার স্মৃতি এখনও সজীব। তখন কী একবারও ভেবেছিলাম আর দেখা হবে না আমাদের! এমন কি অটোয়া থেকে লন্ডনের হাসপাতালে কথা বলার সময়ও কী ভেবেছিলাম! চিকিৎসকদের বেঁধে ছয় মাস অতিক্রম করার এতো আগেই তাঁকে চলে যেতে হবে! কী এমন তাড়া ছিলো হক ভাই!

কিছুক্ষণ আগে ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে ফোন করেছিলো আমীরুল ইসলাম। আমীরুল জানালো, সাগর ভাই আর সিরাজ ভাইয়ের সঙ্গে বিকেল চারটা থেকেই ওখানে আছে আমীরুল। আসলে চ্যানেল আই পরিবারের সঙ্গে একটা আত্মীক সম্পর্ক ছিলো হক ভাইয়ের। চ্যানেল আইকে তিনি নিজের চ্যানেলই মনে করতেন। আর সাগর ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা ছিলো অনেকটা পিতা-পুত্রের। সাগর ভাইয়ের বাবা ফজলুল হকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন সৈয়দ হক। আর সাগর ভাইয়ের মা লেখক রাবেয়া খাতুনের জন্মসাল ও জন্মদিন একই তারিখে হওয়ায় দুজনের জন্মদিনকে উদযাপন করতে সাগর ভাই আয়োজন করতেন একটিমাত্র অনুষ্ঠানের। ওই একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন দুজন, একসঙ্গে। সে এক অনবদ্য আয়োজন।

চ্যানেল আই-এর নিউজে দেখলাম লাইভ অনুষ্ঠানে সাগর ভাই বলছেন–মাথার ওপর থেকে ছাতাটা সরে গেলো…।

চ্যানেল আইয়ের একটি বিশেষ অনুষ্ঠান ‘শ্রদ্ধায়’। সাক্ষাৎকার ভিত্তিক সেই অনুষ্ঠানের জন্যে চ্যানেল আই স্টুডিওতে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের একটা সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম আমি। আমাদের দেশের শিল্প-সাহিত্য-রাজনীতিসহ বিভিন্ন অঙ্গণের বরেণ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপচারিতার সেই অনুষ্ঠানের জন্যে ধারণ করা অনুষ্ঠানটির অনেকগুলো পর্ব ইতোমধ্যে প্রচারিত হয়েছে। সৈয়দ শামসুল হকের পর্বটি ছিলো প্রচার অপেক্ষায়। আমীরুল জানালো, আজ বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় সেই অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে চ্যানেল আইতে। সম্ভবত ওই সাক্ষাৎকারটিই কোনো টিভি চ্যানেলকে দেয়া সৈয়দ শামসুল হকের শেষ একক পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার।

হক ভাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোকার্ত আমি। এই শ্রদ্ধার্ঘ্যটি রচনা করতে গিয়ে বারবার ঝাপসা হয়ে আসছে চোখ। নিউইয়র্ক থেকে এইমাত্র ঠিকানা সম্পাদক হিশেবে খ্যাত সাংবাদিক ফজলুর রহমান ফোন করে হক ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলেন। বললেন–হক ভাইয়ের সঙ্গে তেমন ঘনিষ্ঠতা ছিলো না, কিন্তু তারপরেও মনে হচ্ছে খুব আপন একজন মানুষ চলে গেলেন!হ্যাঁ আমাদের একান্ত আপনজন ছিলেন সৈয়দ শামসুল হক। গুডবাই হক ভাই.. ’

BSH
Bellow Post-Green View