চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গাড়ি-বাড়ি নয়, একটি জিমের আক্ষেপে পুড়ছেন মাবিয়া

চার বছর ধরে ফেডারেশন কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছেন স্বর্ণকন্যা মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। তাদের দেয়া আশ্বাস পরিণত হয়েছে দীর্ঘশ্বাসে। একটি জিমনেসিয়ামের জন্য এ ভারোত্তোলকের আর্তনাদ দেখার যেন কেউ নেই!

২০১৬ সাউথ এশিয়ান গেমসে (এসএ) ভারোত্তোলনে দেশকে গোল্ড মেডেল এনে দিয়ে কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন মাবিয়া। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছেন ফ্ল্যাট। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন দিয়েছে আর্থিক পুরস্কার।

দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসায় বিভিন্ন মহল থেকে ছোট ছোট অঙ্কের অনুদানও পেয়েছেন। তবে খেলাটিতে আরও উন্নতির জন্য ফেডারেশন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে যে চাওয়া ছিল, তা আজো পাওয়া হয়নি।

ফেডারেশন থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না পেলেও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ মাবিয়া নিজেকে ধরে রেখেছেন কক্ষপথে। গত বছর নেপাল এসএ গেমসেও জিতেছেন স্বর্ণ। আগের বছর গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে ষষ্ঠ হন। টোকিও অলিম্পিকে অংশ নেয়ার লক্ষ্যে তিন বছর ধরে চলা বাছাইপর্বে মোট সাতটির মধ্যে ছয়টি ধাপ সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। এপ্রিলে উজবেকিস্তানে আরেকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেই শেষ হতো পুরো প্রক্রিয়া। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত হয়ে গেছে শেষ ধাপটির কার্যক্রম। পিছিয়ে গেছে মূল আসরও।

অলিম্পিকে লড়ার সুযোগ এলে নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারবেন সেটি নিয়ে সংশয়ে মাবিয়া। ফেডারেশনের অধীনে জীর্ণ-শীর্ণ একটি কক্ষে অনুশীলন, প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাব, সঠিক গাইডলাইন না পাওয়াসহ অনেক কারণেই হতাশার পাহাড় জমেছে সফল এ ক্রীড়াবিদের মনে। মাবিয়ার না বলা কথা শুনেছেন চ্যানেল আই অনলাইনের স্পোর্টস জার্নালিস্ট সাজ্জাদ খান।

জোড়াতালি দিয়ে অনুশীলন
‘ভারতের গৌহাটি থেকে পদক নিয়ে আসার পর আমি দুইটা জিনিস চেয়েছি ফেডারেশনের কাছে। জিমনেসিয়াম আর ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি। চার বছরেও পাইনি। পল্টনের সুইমিংপুলের পেছনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ছোট্ট গুদামঘরের মতো অনুশীলন ভেন্যুতেই সারাবছর বারবেল তুলতে হয় আমাদের। তিন ‍রুমের একটি ফ্ল্যাটে ডাইনিং স্পেস যতটুকু হয়, ততটুকু হচ্ছে আমাদের জিমনেসিয়াম। ইকুইপমেন্ট যা আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। যদি আমার সর্বোচ্চ ইনটেন্ড নিয়ে অনুশীলন করি, সাথের আরেকজন খেলোয়াড়কে বসে থাকতে হবে আমার সেট শেষ হওয়া পর্যন্ত। আমি শেষ করে আসলে আমার প্লেট নিয়ে সেটি সাজিয়ে ওনার সেট সম্পন্ন করবেন। ছোট্ট গুদামঘরের মতো জায়গায় এভাবে জোড়াতালি দিয়ে ট্রেনিং হয় না। এয়ারকন্ডিশন দূরে থাক, কিছু ফ্যানও ঘোরে না। আমাদের জিমের চেয়ে একটা স্টোররুম বড় হয়ে থাকে। যদি সেখানে যান দম বন্ধ হয়ে আসবে।’

‘ওয়েটলিফটিং এয়ারকন্ডিশন ছাড়া কোথাও হয় না। খেলার সুবাদে অনেকগুলো দেশে গিয়েছি। সবখানেই দেখেছি জিমনেসিয়ামে এসি আছে এবং আমরা যেখানে প্রতিযোগিতা করি সেখানেও এসি থাকে। ওয়েটলিফটিং পাওয়ারফুল গেম। অনবরত ঘাম ঝরলে শক্তি কমে আসতে শুরু করে। আমি কিন্তু নিজের জন্য কিছু চাইনি। গাড়ি, বাড়ি, আর্থিক অনুদান চাইনি, শুধু চেয়েছি আমরা যেখানে অনুশীলন করি সেটি যেন একটু উন্নত করে দেয়া হয়। সবাই যেন একত্রে ট্রেনিং করতে পারি। যেন ভাগে ভাগে ট্রেনিং করতে না হয়। অনেকদিন ধরে বলা হচ্ছে। জানি না কেনো হচ্ছে না। হয়ত আমি অবসরে গেলে হবে।’

বদলায়নি জীবন
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক সাফল্য মাবিয়াকে দিয়েছে তারকা তকমা। অবশ্য জীবন অন্য আট-দশটা তারকা খেলোয়াড়ের মতো গোছানো হয়নি তার। এখনো সংগ্রামের মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে। আনসার ও ভিডিপিতে চাকরির সুবাদে যে স্বল্প বেতন পান, সেটিই আয়ের একমাত্র উৎস। ফেডারেশন থেকে পান না কানাকড়িও। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য উঠে আসা মাবিয়ার আর্থিক সচ্ছলতা আসেনি এখনো। দিনবদলের পথও দেখছেন না।

‘২০১৬ সালে খিলগাঁওয়ে আমার বাসার অবস্থা আপনারা দেখেছেন। তখন থেকে এখন আমার পরিবর্তন বলতে শুধু ফ্ল্যাটটাই। বাকি কোনকিছুরই পরিবর্তন ঘটেনি। মানুষ দেখে ভাবছে হয়ত অনেককিছু হয়ে গেছে আমার। ব্যাংক ব্যালেন্স, টাকা পয়সা, বাড়ি-গাড়ি সব আছে, এমনই কিন্তু ভাবা হচ্ছে। বাস্তবতা তো এমন না। শুধু ফ্ল্যাট হয়েছে। সেখানে থাকতে যে মেইনটেইনেন্স খরচ, চলার জন্য যে খরচ, সেই সচ্ছলতা আসেনি। মানুষের চোখেই আমরা অনেক বড়। আসলে বাস্তবতা এমন না, আগের জায়গাতেই আছি, হওয়ার মধ্যে ফ্ল্যাট হয়েছে।’

‘খেলোয়াড় হিসেবে আয়ের উৎস কোথাও নেই। যে ডিপার্টমেন্টে চাকরি করছি, সেই বেতন দিয়ে জীবন অতিবাহিত করা যায় না এখনকার সময়ে। জাতীয় পর্যায়ে কোনো ইভেন্ট হলে এক্সট্রা ডায়েটের টাকা পাই। সেটাও খুব সামান্য। বর্তমান অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য নয়। বেতন খুব সীমিত। বর্তমান অবস্থার সাথে সেটা যায় না। যেহেতু স্পন্সর নেই, ফেডারেশন থেকে মান্থলি বেতন পাই না, সামান্য স্যালারি দিয়ে চলতে হয়। আর বছরে একটা গেম হয় ন্যাশনাল বা সার্ভিস, তখন সীমিত পর্যায়ে যে টাকা পাই সেটা দিয়ে চলতে হয়। আমাদের বাড়তি কোনো আয় নেই। যে বেতনটা পাই এখনকার সময় অনুযায়ী সেটিতে খুব কষ্ট হয়ে যায় চলতে, যতটুকু পারছি মানিয়ে নিতে হচ্ছে।’

ভারোত্তোলন নিয়ে কঠিন অভিমান
‘আমার পরিবার ও আত্মীয়ের মধ্যে যারা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আছে, তাদের কাউকে বলব না এই খেলায় আসতে। মেডেল পেয়ে না আসলে কদর থাকে না। আমরা এমনিতেও গুণী মানুষের কদর করতে জানি না। বারবার একটা জিনিস পেলে মনে হয় সহজ তো। আমি তেমন মূল্যায়ন পাইনি। পরপর দুইটা এসএ গেমসে স্বর্ণ পাওয়ার পরও আজকে আমার বলতে হচ্ছে, আগের অবস্থানেই আছি, পাওয়ার মধ্যে শুধু ফ্ল্যাট। আর্থিক দিক বলেন, চালচলন বলেন, বদলায়নি। এতদিনে অনেককিছু কিন্তু হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, যতটুকু পারফরম্যান্স করেছি সে তুলনায় কিন্তু হয়নি। ২০১৬ সালের পর ২০১৯ নেপাল এসএ গেমসে ১৯টি গোল্ড মেডেল এসেছে, তার পেছনে আমার আগের সাফল্যের কিছুটা ভূমিকা হয়ত আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফ্ল্যাট দেয়ার পর সবার মনে কড়া নেড়েছে যে আমরাও যদি গোল্ড মেডেল পাই ফ্ল্যাট পাবো। এজন্যই কিন্তু গত আসরে ১৯টা মেডেল পাওয়া, নইলে এত পাওয়ার কথা না, আমি এটা মনে করি। আমার ফ্ল্যাট পাওয়া অন্যদের উৎসাহ যুগিয়েছে।’

‘২০১৯এ যারা মেডেল পেল তারা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেনি। ১৯ জনকে ফ্ল্যাট দেয়া হয়তো কঠিন। জানি না সেটা সরকারের বিষয়। যেহেতু তারা ওরকম প্রণোদনা পায়নি, পরবর্তী এসএ গেমসে দেখবেন পারফরম্যান্স পড়ে গেছে। যদি পুরস্কারের ধারাবাহিকতা থাকতো, ভালো হতো। পরবর্তী সাফ গেমসে আরও বেশি স্বর্ণ পেতে পারতাম আমরা। যদি মনে করা হয় অনেক দেয়া হয়ে গেছে, তাহলে তো হবে না। এজন্য আমার পরিবারের কাউকে বলব না ওয়েটলিফটিং করো। যদি খেলতেই চাও ক্রিকেট খেলো। ব্যক্তিগত স্পন্সর, খ্যাতি, মূল্যায়ন সব পাবা। অন্যকোনো খেলাতেই উৎসাহ দিবো না। ভালো করার পরও যদি মূল্যায়ন না পাওয়া যায়, তাহলে কেনো বলব। নতুন যারা অনেকেই খেলাটায় চলে এসেছে, তাদের একটাই কাজ হবে নিজেকে প্রমাণ করা। তাহলে হয়তো কিছু করা যাবে। যারা আসেনি তাদের বলবো এটাকে পেশা হিসেবে না ধরতে। আমার মনে হয় আমি ভুল করিনি, আবার মাঝে মাঝে মনে হয় ভুল করেছি। এত সাফল্য পাওয়ার পরও এখানেই যদি পড়ে থাকি, তাহলে কেনো এত সংগ্রাম।’

সিপাহীবাগেই আছেন
খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগে পানির ওপর টং ঘরে ১৫বছর কাটিয়েছেন মাবিয়া। কষ্টের জীবন পেরিয়ে মিরপুর পুলিশ কনভেনশন হলের পেছনে সরকারি প্রকল্পের নতুন বিল্ডিংয়ে ফ্ল্যাট বুঝে পেয়েছেন। তবে ফাঁকাই পড়ে আছে মাবিয়ার নতুন ঠিকানা। সিপাহীবাগেই বাবা-মা, ভাই-বোনকে নিয়ে আছেন, একটি ভাড়া বাসায়। মিরপুর থেকে পল্টনে যাতায়াতে অসুবিধার কারণে থেকে গেছে আগের এলাকাতেই। মেট্রোরেলের কাজ শেষে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নততর হলে উঠে যাবেন ফ্ল্যাটে। পরিচিত কাউকে পেলে আপাতত ভাড়া দেয়ার কথা ভাবছেন।

‘খিলগাঁওয়েই আছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে ফ্ল্যাট দিয়েছেন, সেটাতে এখনো উঠিনি। যাইনি কারণ ট্রেনিংয়ে যাতায়াতে খুব সমস্যা হতো। গেমস ছিল অনেক, এজন্য তখন উঠিনি। আগে যেখানে ছিলাম ওখানেই আছি। যদি যোগাযোগ পদ্ধতি সহজ হয়ে যায়, তাহলে উঠবো। কারণ আমার যে স্বল্পআয়, এটা দিয়ে বাসাভাড়া দিয়ে ঢাকা শহরে থেকে নিজে চলে সম্ভব না। উঠবো যদি যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হয়। কারণ মিরপুর ডিওএইচএস থেকে গুলিস্তান আসা আমার জন্য অনেক কঠিন। যে পরিমাণ জ্যাম থাকে ওখানে। এখন ওঠার কোনো প্ল্যান নেই। ওটা ওভাবেই আছে। ভাড়া দেয়ার চিন্তা করছি না তেমন নয়। ফেলে রেখে কী হবে। যতটুকু আসবে ততটুকুই আমার লাভ। যদি চেনাজানা কাউকে পাই, ভাড়া দেবো। নইলে এভাবেই থাকবে।’

‘আমি ইতিহাস না গড়ে যাব না’
অনেক সীমাবদ্ধতা থাকার পরও অদম্য মাবিয়া নিজের লক্ষ্যে না পৌঁছে ছাড়বেন না ভার বহনের স্ন্যাচ, ‘যখন শুরু করেছিলাম, একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে শুরু করেছিলাম। কোথাও থেকে কিছু পাই বা না পাই, ওয়েটলিফটিংয়ে যদি বাংলাদেশের কাউকে মানুষ চেনে সে আমিই হবো। বাংলাদেশে একটা ইতিহাস রেখে যাব। নানা হতাশায় যখন মনে করি খেলাটা ছেড়ে দেবো, তখন জেদের কথা মনে পড়ে। আমাকে মূল্যায়ন করুক আর না করুক, ২০১০ সালে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, যে শপথ-ওয়াদা বা জেদ করেছিলাম, সেটা পূর্ণ করেই অবসরে চলে যাব। এই অঙ্গনে আর কোনকিছুর সঙ্গেই থাকব না। আমার লক্ষ্য ছুঁয়ে চলে যাব। ইতিহাস না গড়ে যাব না। আমাকে সুযোগ-সুবিধা, জিম না দিক, আমার চেষ্টা করেই যাব। যদি সব ঠিক থাকে, আর ইনজুরিতে না পড়ি, কেননা আমার দুটি মেজর ইনজুরি আছে একই হাতে, তাহলে পাঁচ বছরের মধ্যে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব, চার বছরেও হতে পারে। লক্ষ্যটা সেদিন প্রকাশ করব, যেদিন সেই পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে থাকব। এখান থেকে বলা আর সত্যিকার অর্থেই সাফল্য পেয়ে বলা দুটি আলাদা। প্রমাণ করে হয়ত বলব, আমি পেরেছি।’

সতীর্থদের অবজ্ঞায় সেরা হওয়ার শপথ
‘কোনকিছু ঘটনা ছাড়া হয় না। এখন হয়ত বলতে পারছি। ২০১৬ সালে জিজ্ঞেস করলে হয়ত বলতাম না। যখন খেলাটা শুরু করি, অনেক হ্যাংলা-পাতাল ছিলাম। ৩৫-৩৬ কেজি ওজন ছিল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসের ক্যাম্প চলছিল। তার কিছুদিন আগে সাফেও গিয়েছিলাম। তখন আমাকে ক্যাম্পে থাকা-খাওয়া, ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে দেয়া হল। ওই সময় যারা সিনিয়র তারকা ভারোত্তোলক ছিলেন, তারা আমাকে মেনে নিতে পারলেন না। নতুন খেলোয়াড়দের গ্রহণ করার যে ব্যাপার থাকে। আমি যেমন ট্রেনিংয়ে নতুনদের দেখিয়ে দেই, ভুল হলে ঠিক করে দেই। কিন্তু আমি সিনিয়র আপুদের কাছ থেকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ছাড়া কিছুই পাইনি। তাদের যাবতীয় কাজ আমাকে দিয়ে করানো হয়েছে। জায়গা হারানোর ভয় থেকে আমাকে যখন ঈর্ষা করা শুরু করলেন, তখনই প্রতিজ্ঞা করি এমনকিছু করব যেন এই অঙ্গনে আমার নাম কেউ মুছতে না পারে। ছোটবেলা থেকেই আমি জেদি। কোচ-কর্মকর্তাসহ চারজনের সামনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। তাদেরকে সাক্ষী মেনে বলেছিলাম, যদি ওয়েটলিফটিংয়ে এদেশের মানুষ কাউকে চেনে, সেটা হবো আমি। সেটার জন্য আমার যত কষ্ট করতে হয় করব। যতটা ভুগতে হয়, ভুগব। ২০১০এর কথার কিছুটা মনে হয় বাস্তবায়ন হয়েছে। মনে হয় কিছু উল্লেখযোগ্য ফলাফল দিতে পেরেছি।’

অলিম্পিকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে
‘বাংলাদেশ থেকে যে দুজন রিও অলিম্পিকে অংশ নিয়েছেন তাদের পেছনে বিনিয়োগ করতে হয়েছে। পারফরম্যান্স এমনি এমনি আসেনি। যার যার ফেডারেশন তাদের পেছনে লেগে ছিল, আর্থিক টেনশন থেকে দূরে রাখা হয়েছে। আজকে কী খেতে হবে, কালকে কী খাবো, সে চিন্তাও আমাকে করতে হয়। আর অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধাও তো নেই। যদি এতসব চিন্তার বাইরে শুধু খেলাটা নিয়ে থাকতে পারতাম, অনেক ভালো করতে পারতাম।’

‘অলিম্পিক ঘিরে স্বপ্ন আছে। তবে আমরা অনুশীলনের জন্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। অবহেলা ছাড়া যেখানে কিছু নেই, সেখান থেকে অলিম্পিকে রেজাল্ট করা হয়তো সম্ভব না। তবুও স্বপ্ন তো আছেই। ওয়েটলিফটিং খুব কঠিন একটা খেলা। জানি না অন্যকোনো ডিসিপ্লিনে ওয়াইল্ড কার্ডের জন্য কোয়ালিফাই করতে হয় কিনা। অন্যকোনো ডিসিপ্লিনে সম্ভবত করতে হয় না। কিন্তু ওয়েটলিফটিংয়ে করতে হয় এবং সেটা আমি করছি। ২০১৬ রিও অলিম্পিক শেষ হওয়ার পর থেকেই, তিন বছর ধরে লেগে আছি। এ বছরের ১৬ এপ্রিল উজবেকিস্তানে সপ্তম কোয়ালিফাইং রাউন্ড শেষ হতো। ইন্টারন্যাশনাল ওয়েটলিফটিং ফেডারেশন থেকে শর্ত ছিল সাতটা ভিন্ন ভিন্ন পারফরম্যান্স করতে হবে এবং তা হতে হবে ইমপ্রুভ পারফরম্যান্স। আগের ছয়টিতে আল্লাহর রহমতে ভিন্ন ভিন্ন পারফরম্যান্স ও ইমপ্রুভ পারফরম্যান্স ছিল। ইতিবাচক একটা রেজাল্টও এসেছে। অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কাছে চিঠি এসেছিল ভারোত্তোলনের আন্তর্জাতিক ফেডারেশন থেকে। আমি যেটা জানি, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। ধারণা ছিল ওয়াইল্ড কার্ড দয়া করে দেয়া হয়। একমাত্র ব্যতিক্রম ভারোত্তোলনে। ২০১৭ সালের শুরু থেকে ২০২০ পর্যন্ত সাতটা ধাপ শেষ করে পেতে হবে। আর একটি ধাপ বাকি। দরজা থেকে ফিরে আসার মতো অবস্থা।’

শেয়ার করুন: