চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গাম্বিয়ার শঙ্কাকে অবহেলা করা যাবে না

দেরিতে হলেও সুবিচার পাক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী

নেদারল্যান্ডসের দ্যা হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যার বিচার শুরু হলো। মূলত তিনদিনের শুনানির প্রথমদিনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলার বাদি দেশ গাম্বিয়া গণহত্যার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত-প্রমাণ তুলে ধরে অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

কারণ, এখনো মিয়ানমারে কমপক্ষে ৬ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। গাম্বিয়ার শঙ্কা বিচার প্রক্রিয়ার দেরির সুযোগ নিয়ে এসব রোহিঙ্গার ওপর আবারও গণহত্যা চালাতে পারে দেশটি। কেননা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে এই বিষয়ে কোনো রায় দেবে কি না – সেটা আগামীর জানুয়ারির শুরুতে জানা যাবে। তবে রায় দিলেও সেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

আগে থেকে নির্ধারিত সূচি অনুসারে আগামীকাল বুধবার মিয়ানমার তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে,তার জবাব দেবে। আর বৃহস্পতিবার হবে দু’পক্ষের মধ্যে যুক্তি-তর্ক হবে। আমরা জেনেছি আজ যখন আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে শুনানি চলছিল, তখন বিবাদী পক্ষের হয়ে উপস্থিত ছিলেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি। এখন তিনি নির্বিকার বসে ছিলেন আদালত কক্ষে। অথচ ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস এই সূ চিকেই মানবতার পক্ষে কাজের জন্য শান্তিতে নোবলে পুরস্কার দিয়েছে নোবেল কমিটি।

বিজ্ঞাপন

আমরা জানি, গত মাসে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) পক্ষে গাম্বিয়া যখন আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের গণহত্যা চালানোর অভিযোগ দায়ের করে। এরপর থেকেই এ নিয়ে সারা বিশ্ব নড়েচড়ে বসে। মিয়ানমারকে আদালতে আসতে বাধ্য করে। অথচ এমন তৎপরতা ২০১৭ সালে ঘটনার পর পর দেখালে পরিস্থিতি এমন হতো না। তারপরও দেরিতে হলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিচার পাওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে।   

হেগের এই বিচার কাজে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হকের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল নানান তথ্য-উপাত্ত নিয়ে অংশ নিয়েছেন। আছেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন রোহিঙ্গা প্রতিনিধিও। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গ্রুপগুলো মিয়ানমারকে বয়কট করতে বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আমাদের আশা এবার মিয়ানমার তার অপকর্মের সাজা পাবে।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে গাম্বিয়া যে শঙ্কা প্রকাশ করেছে, আমরা মনে করি তার পেছনে যুক্তিযুক্ত অনেক কারণও আছে। তাই আন্তর্জাতিক আদালতকে এ বিষয়টিতে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। আর কোনোভাবেই যেন রোহিঙ্গারা নতুন করে নির্যাতনের শিকার না হয়; সেটা নিশ্চিত করতে হবে এই আদালতকেই।

শেয়ার করুন: