চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গানে সুরে বারী সিদ্দিকীর ৬৬তম জন্মদিন পালন

প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও বংশীবাদক বারী সিদ্দিকীর ৬৬তম জন্মদিন রবিবার (১৫ নভেম্বর)। বিশেষ এই দিনে সংগীতের এই কিংবদন্তিকে স্মরণ করলো শিল্পীর নিজ এলাকা নেত্রকোনার এক দল তরুণ!

বারী সিদ্দিকীর নিজে গড়া বাউল বাড়িতে পালিত হয়েছে ৬৬ তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে করোনাকালে সীমিত পরিসরে নেত্রকোনার এক ঝাঁক তরুণের সাহিত্য সংগঠন ‘হিমু পাঠক আড্ডা’র উদ্যোগে কেককাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

রবিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের কার্লি গ্রামের বাউল বাড়িতে প্রয়াত শিল্পীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় হিমু পাঠক আড্ডা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিশু ছায়ার সদস্যরা। পরে তারা শিল্পীর বাড়িতেই শিল্পীর গাওয়া বিভিন্ন কালজয়ী গান গেয়ে জন্মদিন উদযাপন করেন।

এসময় বারী সিদ্দীকীর পরিবারের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বারী সিদ্দিকীর মতো একজন গুণী শিল্পীর দিবসগুলো প্রশাসন থেকে উদ্যোগ নিয়ে পালন করা দরকার ছিলো। তাহলে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে সংস্কৃতি সম্পর্কে।

সংঠনের সভাপতি আলপনা বেগমের পরিচালনায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় দৈনিক আমাদের নেত্রকোনার সম্পাদক মাহফুর রহমান, উদীচীর দুলাল বিশ্বাস, হিমু পাঠক আড্ডার সদস্য সৈয়দা নাজনীন সুলতানা সুইটি, শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষক প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস, শিক্ষক ফারুক আহমেদ, খন্দকার রানা, শিশু ছায়ার সভাপতি সোহাগ আহমেদ সাইফ প্রমুখ। পরে তারা কেক কাটেন।

তারা বারী সিদ্দিকীর একান্ত ভক্ত হওয়ায় প্রতিবছর জন্মদিন উদযাপন এবং মৃত্যু বার্ষিকীতে বারী সিদ্দিকীকে স্মরণ করে আসছেন।

লাখো শ্রোতার হৃদয়ের মনিকোঠায় বারী সিদ্দিকী ছিলেন লোকগানের অপার ভাণ্ডারে। একখণ্ড হীরকের মতো জ্বলজ্বলে। শুধু কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নয়, বাঁশির জাদুকরী সুর তোলার ক্ষেত্রেও বারী সিদ্দিকী ছিলেন অতুলনীয়। ২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়।

১৯৯৯ সালে হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিতে গান গেয়ে সংগীতশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন দীর্ঘদিন ধরে বাঁশি বাজানো বারী সিদ্দিকী। এরপর বেশকিছু গান গেয়ে তিনি পৌঁছে যান সব শ্রেণির শ্রোতার কাছে। তার গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সুয়াচান পাখি আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি’, ‘পুবালি বাতাসে’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘ওলো ভাবিজান নাউ বাওয়া’, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো’ ইত্যাদি।

১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলায় এক সংগীতজ্ঞ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বারী সিদ্দিকী। শৈশবে পরিবারের কাছে গান শেখায় হাতেখড়ি হলেও ১২ বছর বয়সেই তালিম নিয়েছেন ওস্তাদ গোপাল দত্ত, ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষসহ অনেক গুণীশিল্পীর সান্নিধ্যে থেকে।