চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গর্ভবতীরা কি করোনা ভ্যাকসিন নিতে পারবেন

বহুল প্রতীক্ষিত করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন এরই মধ্যে বিতরণ শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু নিশ্চয়ই অনেকে পরিস্কারভাবে জেনে গেছেন যে সবাই এই ভ্যাকসিন পাবেন না।  গর্ভবতী এবং সন্তানকে স্তন্যপান করানো নারীরা এই ভ্যাকসিন নিতে পারবেন কিনা, তা নির্ভর করবে তারা কোথায় বসবাস করেন তার উপর।

ফাইজার বায়োএনটেকের ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে গর্ভবতী ও স্তন্যপান করানো নারীরা অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না।  তাই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনের কারণে গর্ভকালে কোনো ঝুঁকি হবে কিনা সে সম্পর্কে তথ্য খুবই অপর্যাপ্ত।

বিজ্ঞাপন

এই অপর্যাপ্ত তথ্যের জন্যই ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম থেকে গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের বাদ রেখেছেন যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রকরা আর যুক্তরাষ্ট্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার ওই সব নারীদের উপরই দিয়ে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে বেশি কিছু জানা যায়নি।

জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. রুথ ফাডেন বলেন, কোনো তথ্য নেই।  এই ভ্যাকসিন গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কিনা সেই সম্পর্কে কোনো পরামর্শ নেই। এই বিষয়ে বলার মতো পর্যাপ্ত তথ্যই নেই।

ফাইজার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নির্দেশনা মেনেই গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের ক্লিনিকাল ট্রায়াল থেকে বাদ রেখেছে।  যতক্ষণ না প্রতিষ্ঠান ডার্ট গবেষণা (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্রোডাক্টিভ টক্সিটি) সম্পন্ন করছে ততক্ষণ তাদের অন্তর্ভূক্ত করা হবে না। এই গবেষণা প্রাণীদের উপর পরিচালিত হয়।

ফাডেন বলেন, এমন মহামারী অবস্থা না থাকলেও শুরুতেই তাদের কোনো ভ্যাকসিন দেওয়া হতো না। বায়োএথিকস অনুসারে গর্ভবতী নারীদের ‘জটিল জনসংখ্যা’ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়।  যেখানে একসাথে দুটি সত্তা থাকে এবং সেই দুটি সত্তাই একইভাবে উদ্বেগের কারণ।  সেখানে গর্ভবতী নারীর থেকেও বংশধরের ভালো থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। সবাই প্রশ্ন করে, আমার সন্তান ভালো আছে তো?

আবার মহামারীর সময়ে ক্লিনিকাল ট্রায়াল থেকে গর্ভবতীদের বাদ দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও খুব জটিল।

বিজ্ঞাপন

নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এমিলি স্টিন্নেট মিল্লার বলেন, আমরা খুব কঠিন অবস্থানে আছি।  সংকটপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত আমাদের খুব দ্রুত নিতে হবে।  আর তাদের অংশগ্রহণ করানো বা বাদ দেওয়ার সুবিধা ও অসুবিধা উভয়ই রয়েছে।  তার মধ্যে সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো তথ্যের অভাব।

একই রকম তথ্যের অভাব থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এই বিষয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাজ্য আরো সচেতনতামূলক পথ বেছে নিয়েছেন।

পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, প্রমাণগুলো গর্ভাবস্থায় সুরক্ষার জন্য কোনো উদ্বেগ উপস্থাপন করে না।  তাই গর্ভাবস্থায় ভ্যাকসিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়ার আগে এই এজেন্সি আরো বেশি বেশি নন-ক্লিনিকাল তথ্য পর্যালোচনা করতে চায়।

আর যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন পথে হাঁটছেন।  তারা সিদ্ধান্তের ভার ছেড়ে দিচ্ছেন গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের উপরই।

ফাডেন বলেন, বিশেষজ্ঞরা ঐক্যমত্যে পৌঁছেছেন যে ক্ষতি হওয়ার মতো কোনো বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা সেখানে নেই। কিন্তু তিনি সতর্ক করে বলেন, তার মানে এই নয় যে, তা একেবারে শূন্য।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রকরা জানিয়েছেন, তখনই ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে যখন তা নিরাপদ ও কার্যকর বলে প্রমাণ মিলেছে।

তবে দুটি দেশেই গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের ভ্যাকসিন গ্রহণের অনুমতি পেতে আরো অপেক্ষা করতে হবে।

ফাডেন বলেন, যতক্ষণ এসব নারীদের জন্য নিরাপদ ভ্যাকসিন আমরা না পাবো ততক্ষণ মহামারীর বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে বলা যাবে না।