চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গরুর মাংস আমদানি বন্ধে খামারিদের দাবি কতোটা যৌক্তিক?

আগস্ট মাসের শেষ দিকে দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট মারকোসুর ভুক্ত দেশগুলো (ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ে) বাংলাদেশে গরুর মাংস রপ্তানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তখন এমনটাই জানিয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

এমন প্রেক্ষাপটে বিদেশ থেকে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছেন গরুর মাংস উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে সংযুক্ত ১০টি সংগঠন।

বিজ্ঞাপন

এই সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, বিদেশ থেকে গরুর মাংস আমদানি করলে দেশীয় উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক খামারিরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। ফলে বিশাল যুব সমাজ তথা উদ্যোক্তারা বেকার হয়ে পড়বেন। যার প্রভাব পড়বে গ্রামীণ অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি খাতে।

বিজ্ঞাপন

খামারিদের এই দাবি একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। কারণ, তাদের এসব যুক্তি অমূলক নয়। গরুর মাংস আমদানি করা হলে এই খাতের ক্ষতি হবে এটা সত্য। তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছার আগে সব পক্ষের সাথে আলোচনা করতে হবে।

অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (আহকাব) এর তথ্যানুযায়ী বছরে মাংসের চাহিদা ৭২.৯৭ লাখ টন। কিন্তু গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি থেকে মোট মাংস উৎপাদন হয়েছে ৭৫.১৪ লাখ টন। অর্থাৎ চাহিদা মেটানোর পরও ২ দশমিক ১৭ লাখ টন মাংস উদ্বৃত্ত রয়ে গেছে। তাহলে কেন মাংস আমদানি করতে হবে? এমন প্রশ্নই রেখেছেন সংগঠনের সভাপতি।

তবে এটাও ঠিক যে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ মারকোসার ভুক্ত দেশসমুহের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত আগামী ডিসেম্বরে। সেখানে ৩০ কোটি ক্রেতা রয়েছে এবং ৪ ট্রিলিয়ন ডলার জিডিপির এ অঞ্চলে বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেখানে রপ্তানির পরিমান খুবই সামান্য। এ অঞ্চলে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। শুল্ক হার হ্রাস হলে এ অঞ্চলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ টেক্সটাইল, ওষুধ, তামাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, টেবিল ওয়্যার প্রভৃতি পণ্য রপ্তানি বাড়বে বলেও বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।

তবে তারাও বাংলাদেশে গরুর মাংস রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে এবং তুলা রপ্তানির জন্য ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করতে চায়। বাংলাদেশে আসা এই মাংসের গুণগত মান কেমন হবে এ বিষয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন খামারিরা। এখন দুই দিক বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সরকারকে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। তা এ বিষয়ে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে ভেবেচিন্তে অগ্রসর হতে আমরা সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

Bellow Post-Green View