চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গঠনমূলক কিছু বলার না থাকলে, মুখ বন্ধ রাখুন: ট্রাম্পকে পুলিশ প্রধান

‘গঠনমূলক কিছু বলার না থাকলে, মুখ বন্ধ রাখুন’- লাইভ টিভিতে এসে এমন বক্তব্য দিয়েছেন ওই পুলিশ প্রধান। সরাসরি সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

হিউস্টনের পুলিশ প্রধান আর্ট আভেসিডো যখন খবরে শোনেন যে ট্রাম্প রাজ্যের গভর্নরদের বিক্ষোভকারীদের উপর কর্তৃত্ব বিস্তার করতে এবং দুর্বলতার চিহ্ন প্রকাশ বন্ধ করতে বলেছেন, তখন এমন মন্তব্য করেন তিনি।

গত সপ্তাহে পুলিশের হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ চলছে দেশটিতে। সেই বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আভেসিডো ট্রাম্পকে বলেন, যদি গঠনমূলক কিছু বলার না থাকে, তাহলে মুখ বন্ধ রাখুন।

সোমবার রাতে সিএনএনের আমানপোর শোতে লাইভে এসে একথা বলেন আভেসিডো। ওই শোতে আমানপোর প্রশ্ন করেন, পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য পুলিশের এখন কী করা উচিত?

আমানপোরের বক্তব্যে মাথা নাড়িয়ে আভেসিডো বলেন, আমি দেশের পুলিশ প্রধানদের বরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলতে চাই, যদি আপনার গঠনমূলক কিছু বলার না থাকে, তাহলে মুখ বন্ধ রাখুন। কারণ আপনি ২০ দশকের গোঁড়ার দিকের নারী ও পুরুষকে ঝুঁকিতে ফেলছেন। এখানে কর্তৃত্ব বিস্তারের প্রশ্ন নয়, বিষয়টি হৃদয় ও মন জয়ের। পরিস্কার বুঝে নিন, আমরা মানুষকে উদারতা ও দুর্বলতার মধ্যে দ্বিধান্বিত করতে চাই না। হাউস্টনে আমাদের যা আছে অবহেলায় তা হারাতে চাই না।

তিনি আরও যোগ করেন, দেশব্যাপী আমার সব সহকর্মীদের পক্ষ থেকে বলছি, অনেক অফিসার আহত হচ্ছ্নে, কমিউনিটির সদস্যরা আহত হচ্ছেন। আপনার কিছু বলার না থাকলে চুপ করে থাকুন। সেটাই কিন্তু নেতৃত্বের মতবাদ। আর আমাদের এখন অন্য যে কোনো সময়ের থেকে নেতৃত্ব বেশি দরকার। আমরা ভোট দিই বা না দিই তিনি আমাদের প্রেসিডেন্ট। এখন প্রেসিডেন্টের মতোই আচরণ করতে হবে। শিক্ষানবিশের মতো আচরণ করবেন না।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এটা হলিউড নয়, বাস্তব জীবন। আর বাস্তব জীবনই ঝুঁকিতে পড়েছে। আমি মার্কিন জনগণকে পুলিশর সঙ্গে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাবো। যা করা দরকার সেটা করি চলুন।

গত ২৫ মে মিনেয়াপোলিসে পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় মারা যান ৪৬ বছর বয়সী আফ্রিকান আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড।

৪৪ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিনকে তার মৃত্যুর জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অনলাইনে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় যে, বেশ কয়েক মিনিট ধরে ফ্লয়েডের ঘাড়ের ওপর হাঁটু গেড়ে বসে থাকেন চাওভিন। ফ্লয়েড বারবারই বলছিলেন, তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না।

এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো শহরে এই ঘটনায় শুরু হয় বিক্ষোভ। অন্তত ৩০ শহরে বিক্ষোভ করে বিক্ষোভকারীরা। ফলে কারফিউ জারি করা হয় বেশ কিছু শহরে।

শেয়ার করুন: