চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খেলাপি ঋণ: ৩০ ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের খেলাপি ঋণ কমাতে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। দিন দিন বাড়ছেই এর পরিমাণ। এমন পরিস্থিতিতে খেলাপি ঋণের হার নিরাপদ সীমা অতিক্রম করেছে এমন ৩০টি ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

উচ্চ খেলাপির কারণ, আদায় পরিস্থিতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে ওই চিঠির মাধ্যমে। গত সপ্তাহে পাঠানো ওই চিঠিতে পরবর্তী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে উত্তর পাঠানোর নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট বিতরণের ৫ শতাংশের উপরে তাদেরকেই চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে ১০ শতাশের বেশি খেলাপি হওয়া ব্যাংগুলোকে দেওয়া হয়েছে কড়া নির্দেশনা। এসব ব্যাংককে উদ্বেগজনক তালিকায় রাখা হয়েছে। নিয়মিত মনিটরিং করা হয় ব্যাংকগুলোকে। বর্তমানে ১০ শতাংশের উপরে ঋণ খেলাপি এমন ব্যাংকের সংখ্যা ১৫টি।

আর ৫ শতাংশের উপরে ও ১০ শতাংশের নিচে খেলাপি রয়েছে ১৩টি ব্যাংকের। এছাড়া দুর্বলতা বিবেচনায় আরো ২টি ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকা মতে, ১০ শতাংশের উপরে খেলাপিকৃত ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ব অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এবং সোনালী ব্যাংক।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১০ শতাংশের ওপরে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে এবি ব্যাংক,  বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক।

বিজ্ঞাপন

আর বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।

বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে উদ্বেগজনক অবস্থা বা ১০ শতাংশের ওপরে রয়েছে হাবিব ব্যাংক লিমিটেড এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

৫ শতাংশের ওপরে খেলাপিকৃত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেসরকারি খাতের আইএফআইসি ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ ১১ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকাই খেলাপি হয়ে গেছে। মোট ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে গত সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ১৬ হাজর ২৮৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে ২২ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কমিয়ে ফেলেছে ব্যাংকগুলো। তবে আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ৪২০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে খেলাপি আইন শিথিল, অবলোপন নীতিমালায় ছাড়, গণছাড়ের আওতায় পুনঃতফসিল, স্বল্প সুদের ঋণের ব্যবস্থাসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব ছাড় গ্রহণ করে অর্ধলাখ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এর পরও বছর শেষে খেলাপির পরিমাণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি ৬ বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণ করা ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ২৪ শতাংশ বা ৪৩ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। আগের বছর ১ লাখ ৬২ হাজার ৫২০ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ছিল ৪৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা।

গত বছর শেষে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৪৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা, যা তাদের বিতরণকৃত ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা ঋণের ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আগের বছর (২০১৮ সাল) খেলাপি ঋণ ছিল ৩৮ হাজার ১৪০ কোটি টাকা।

অনেক বছর ধরেই খাতওয়ারী হিসেবে সরকারি ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণ বেশি ছিল। কিন্তু গতবছর বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ২ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। সরকারি মালিকানাধীন বিশেষায়িত ৩ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৫৯ কোটি টাকা; আগের বছর যা ছিল ৪ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা।