চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খাশোগিকে হত্যার অনুমোদন দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ

মার্কিন গোয়েন্দা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

তুরস্কে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার অনুমোদন দিয়েছিলেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের প্রকাশিত মার্কিন গোয়েন্দা তদন্ত প্রতিবেদন এ তথ্য জানিয়েছে।

দুই বছর আগের আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজের সংশ্লিষ্টতার কথা এবারই প্রথম প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তুর্কি বাগদত্তাকে বিয়ে করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ আনতে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে যান ৫৯ বছর বয়সী খাশোগি। সেখানে আটকে রেখে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে তাকে অতিরিক্ত পরিমাণ ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। মারা যাওয়ার পর মৃতদেহ কেটে টুকরো টুকরো করে কনস্যুলেটের বাইরে স্থানীয় এক এজেন্টের কাছে দেওয়া হয়। কিন্তু খাশোগির দেহাবশেষ আর পাওয়া যায়নি।

তুরস্কের গোয়েন্দাদের হাতে পড়া খাশোগির হত্যাকারিদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিংয়ে এই হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসে। দুই বছর পর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করলো বাইডেন প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া খাশোগিকে আটক বা হত্যার একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিলেন যুবরাজ।

প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বৃহস্পতিবার যুবরাজের বাবা বাদশা সালমানের সঙ্গে এক টেলিফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ সময় সর্বজনীন মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের গুরুত্বের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকারের বিষয় বিবেচনায় সৌদি আরবের সঙ্গে অস্ত্র বিক্রির চুক্তি বাতিলের বিষয়ে ভাবছে বাইডেন প্রশাসন।  বেশ কিছু সৌদি বাসিন্দার উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যদিও সেই তালিকায় যুবরাজ নেই। তবে এই হত্যায় যে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে সৌদি যুবরাজ।

তদন্ত রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে সৌদি আরব বলেছে, এসব নেতিতিবাচক, মিথ্যা এবং অগ্রহণযোগ্য।

এক সময়ের সৌদি সরকারের পরামর্শক জামাল খাশোগি রাজ পরিবারের ঘনিষ্ঠও ছিলেন। পরবর্তিতে রাজপরিবারের আনুকূল্য হারালে ২০১৭ সালে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে থেকে ওয়াশিংটন পোস্টে মাসে একটি করে কলাম লিখতেন, যাতে যুবরাজের নীতির সমালোচনা করতেন তিনি।

বিজ্ঞাপন