চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খালেদা জিয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের আদেশ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের আদেশ দিয়েছেন বিশেষ আদালত। এ জন্য আগামী ১৫ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিতে সোমবার সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে বিশেষ আদালতে উপস্থিত হলে আদালত এই আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালত খালেদা জিয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের আদেশ দিয়ে বলেন, ‘১৫ তারিখ হাইকোর্টের কাছ থেকে মামলার কার্যক্রম মুলতবির আদেশ নিয়ে আসতে ব্যর্থ হলে ৩৪২ ফৌজদারি কার্যবিধি শুরু হবে। এটাই শেষ সুযোগ বলে মন্তব্য করেন আদালত।’

ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থন ও হাজিরার দিন ধার্য ছিলো।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি গুলশান থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

আদালত শুরু হয় ১১. ৪০ মিনিটে। এরপর খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তার পক্ষ ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার সময় প্রার্থনা করেন। তবে এর বিরোধীতা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী এ্যাড. মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি মামলাটি ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পন্ন করার যে হাইকোর্টের আদেশ ছিলো তা স্মরণ করিয়ে দেন এবং মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আদালতের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষে জজ কামরুল হোসেন বলেন, যদি মামলার স্থগিত আদেশ হাইকোর্ট থেকে নিয়ে আসতেন তাহলে আমি সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারতাম। এরপর তিনি আজই আত্মপক্ষ সমর্থনের আদেশ দেন। তিনি তার জন্য ১০ মিনিট সময় প্রদান করেন।

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল বেগম খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিল। তিনি শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন। সর্বশেষ বারের মতো সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ৮ মে খালেদাকে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেন আদালত।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের আদালতে আগমন উপলক্ষে বকশিবাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদর করা হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন আর রশীদ।
২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী (পলাতক) ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান (পলাতক)।

বিজ্ঞাপন

Bellow Post-Green View