চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খাদ্য সংকট মোকাবিলায় নতুন বার্তা

‘সবুজ হয়ে উঠুন, নিরামিষে আসুন’ এই স্লোগানে জাতিসংঘের জলবায়ু বিজ্ঞান সংস্থা বিশ্ববাসীকে ‘খাদ্য সংকট মোকাবিলায়’ নতুন এক বার্তা দিয়েছে।

আইপিসিসি ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, ক্রমবর্ধমান খাদ্য সংকট মোকাবিলায় বিশ্ববাসীর হাতে সম্ভবত খুব বেশি সময় নেই। দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের সংস্থাটি বলছে, খাদ্য সরবরাহের আসন্ন হুমকি বন্ধের জানালটি শিগগিরই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় মানবতার জন্য কিছু করা দরকার। পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহের হুমকি মোকাবিলায় বিশ্বকে নিরামিষ খাদ্যের দিকে ঝুঁকতে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূমি ব্যবহার সম্পর্কিত আইপিসিসির নতুন বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান মানবগোষ্ঠীর সংকট পূরণের জন্য উদ্বেগজনক হারে ভূমি ও জলের ব্যবহার করা হচ্ছে। যা বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ বিপন্ন করে তুলছে।

৫২ দেশের ১০৭ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি ওই প্রতিবেদনে একে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ‘অভূতপূর্ব শোষণ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে জেনেভায় আইপিসিসির একটি বৈঠকে এ প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্তসার প্রকাশ করা হয়।

দ্য প্রিন্ট বলছে, এই প্রতিবেদন তৈরির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য সুরক্ষা, ভূমি অবক্ষয় এবং মরুভূমির মধ্যকার সংযোগগুলি বিশ্লেষণের  জন্য লেখকরা তিন বছরে ৭ হাজারটির বেশি অধ্যয়ন পরীক্ষা করেছেন।

খাদ্যের বৈষম্য
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের আধা বিলিয়ন মানুষ এমন ভূমিতে বসবাস করে যা ধীরে ধীরে শুষ্ক, চাষাবাদ অযোগ্য মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। যে হারে কৃষি জমিকে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে করে ১০ থেকে ১০০ গুণ নষ্ট হচ্ছে।

সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, এতে করে খাদ্য সংকট বিশ্বের সীমান্ত থেকে সীমান্তে অভিবাসন বাড়িয়ে তুলবে। পাশাপাশি বন্যা ও খরার মতো চরম আবহাওয়া বিপযয়ের মুখে পড়বে। আর এতে করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরফলে মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলি তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো সতর্ক করা হয়েছে, এই অবস্থায় প্রতিবেদন অনুযায়ী যাদের খাদ্যের সংকট নেই এবং যার সংকট আছে তাদের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বৈষম্য দ্রুত বাড়ছে। প্রায় ২ বিলিয়ন প্রাপ্ত বয়স্কের ওজন বেশি বা স্থুলকায় হবে এবং প্রায় এক বিলিয়ন অপুষ্টির শিকার হয়ে থাকে।

ভারতীয় লেখক প্রিয়দর্শী শুক্লা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ফলন হ্রাসের মাধ্যমে, বিশেষত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান মূল্য হ্রাস, পুষ্টির মান হ্রাস এবং সরবরাহ শৃঙ্খলা ব্যাহত হওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খাদ্য সুরক্ষায় ব্যাঘাত ঘটবে।

‘আমরা এক্ষেত্রে আমরা একেক দেশে একেক ধরনের প্রভাব দেখতে পাবো।  আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের স্বল্প আয়ের দেশগুলিতে আরও কঠোর প্রভাব পড়বে’।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রীনহাউস গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে খাদ্যের পুষ্টিকর মানও গ্রাম পাচ্ছে’।

বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রা ইতিমধ্যে ১.১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত ১৪০ বছরে স্থলে ১.৯ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মহাসাগরগুলো এখনো এই সীমায় পৌঁছায়নি।

কৃষি, মাংস এবং নির্গমণ
প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি দুষ্টচক্রের মধ্যে জলবায়ু সংকট কৃষিকে প্রভাতি করে। আর কৃষিও জলবায়ুকে প্রভাতি করে। পাম তেল উৎপাদনের জন্য ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার মতো বন ও জলাভূমির ক্ষয়ক্ষতি বায়ুমণ্ডলে শত শত বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো, মাংস ও দুগ্ধ শিল্প, নির্গমন হিসাবে অটোমাবাইল সেক্টরের সাথে প্রতিযোগিতা করে।  জানা যায়, কৃষিজমির ব্যবহারের ৮৩ শতাংশ এবং কৃষকের উৎপাদনের ফলে ৬০ শতাংশ গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনে অবদান রাখে। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রায় এক চতুর্থাংশ জমি ব্যবহার থেকে আসে।

তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি নিচে রাখার প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য উল্লেখ করে আইপিসিসি বলেছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রেখে জমি ও খাদ্য সহ সব সেক্টর থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস করে অর্জন করা যায়।

প্রতিবেদনে এই হুমকি মোকাবেলায় সম্ভাব্য সমাধানগুলি এবং খাদ্য উৎপাদন, সেবনকে আরও দক্ষ করার সমাধান সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উদ্ভিদ-ভিত্তিক নিরামিষ আহারে যাওয়ার পরামর্শ ছাড়াও প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী প্রচুর খাদ্য অপচয়, জমি ব্যবস্থাপনা, ফসলের বৈচিত্র্য, অল্প নিবিড় কৃষিকাজ পদ্ধতি, জমি পুনরুদ্ধার এবং খাদ্য বিতরণকারী ব্যবস্থার উন্নতি সম্পর্কে সচেতনতায় উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য পরামর্শগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঘাসভূমি, ম্যানগ্রোভ বন এবং জলাভূমিগুলির পনুরুদ্ধার করে পরিবেশে গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসকে জোর দেয় এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

Bellow Post-Green View