চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খসরু স্মরণ

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের পথিকৃৎ মুহম্মদ খসরুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে হয়ে গেল ‘খসরু স্মরণ’ অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম এবং বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটি যৌথভাবে আয়োজন করে এটি।

বসন্তের বিকেলের পড়ন্ত আলোয় একে একে আজিজ সুপার মার্কেটের শর্ট ফিল্ম ফোরাম অডিটোরিয়ামের সামনে এসে জড়ো হন মুহম্মদ খসরুর সাথে দীর্ঘদিন একসাথে চলা সহযোদ্ধারা, চলচ্চিত্র-কর্মী, চলচ্চিত্র নির্মাতা অনেকেই।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শুরুতে শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি জাহিদুর রহিম অঞ্জন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন– ‘আজ সবাই এখানে খসরু ভাইকে স্মরণ করতেই একসাথে হয়েছি। আমরা সকালেই গিয়েছিলাম রুহিতপুরে, খসরু ভাইয়ের বাড়িতে। সবাই এখানে নিজেদের স্মৃতি, খসরু ভাইকে ঘিরে আপনাদের কথা প্রকাশ করতে অনুরোধ করছি একে একে। এখানে কৃষ্ণকলি উপস্থিত আছেন, আমরা অনেকদিন খসরু ভাইয়ের বাড়িতে একসাথে গিয়েছি, গানের আসর বসিয়েছি, সেসব অনেক স্মৃতি! তো কৃষ্ণকলি-কে প্রথমেই অনুরোধ করছি একটা গান দিয়ে এ স্মরণ সভা শুরু করার জন্য।’

ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখ আমার এ হাড়,
ছুঁয়ে ছুঁয়ে শেখো একি.
চোখ দিয়েছি প্রিয় বন্ধু,
সে চোখে দেখ পৃথিবীর রুপ একি।
তবু বন্ধু ভালবেসো একবার,
যা ছিল সব দিয়েছি দেবার।

শিল্পী কৃষ্ণকলি-র কন্ঠে এই গানের সুরে সুরে স্মরণসভার স্মৃতিচারণের মুহূর্ত শুরু হয়। একে একে চলচ্চিত্র কর্মী, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কথায় উঠে আসে মুহম্মদ খসরু-র সাথে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের আলোচনা। তবে সবচেয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা হয় চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব মুহম্মদ খসরু-এর শেষ ইচ্ছা ‘ফিল্ম স্টাডি সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করার সেই স্বপ্ন নিয়ে।

বর্তমানে কেরানীগঞ্জের রুহিতপুরে মুহম্মদ খসরুর বাড়ি ভর্তি তাঁর সংগ্রহে থাকা নানান বই, পোস্টার, বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য ম্যাগাজিনের নানান সংখ্যা, তাঁর নিজ হাতে আঁকা আর্ট, লিখে যাওয়া বেশ কয়েকটা ডায়েরিসহ নানান গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহে। শুধু কী চলচ্চিত্র? শিল্পের নানান বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ বই আর পত্র-পত্রিকার সংগ্রহশালা যেন এই বাড়ি।

এই বাড়িটিকেই মুহম্মদ খসরু ফিল্ম স্টাডি সেন্টার হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। এর জন্য এখন প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সহযোগিতা। বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম এবং বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটি-র সদস্যরা এর জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার এবং সহযোগিতার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।

মুহম্মদ খসরু-র লেখা, তাঁর নেওয়া সাক্ষাৎকার থেকে, তাঁর স্মৃতি কথা থেকে অনেক তরুণ ঋত্বিক ঘটককে জেনেছেন, পড়েছেন। এই স্মরণ সভা শেষ হয় মুহম্মদ খসরু-র প্রিয় নির্মাতা ঋত্বিক ঘটক-এর ‘মেঘে ঢাকা তারা’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে।